• ই-পেপার

অধস্তন আদালতে বিচারক-আইনজীবীদের পোশাকবিধিতে নতুন নির্দেশনা

রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ
সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর তেজগাঁও থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জামালপুর-১ আসনের (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

বুধবার (১ জুলাই) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

এর আগে গত রবিবার থেকে এ মামলায় তিনি রিমান্ডে ছিলেন সাবেক এই এমপি। ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ সোহেল সরকার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এর আগে গত শনিবার রাতে গুলশান থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের ৩০-৩৫ জন কর্মী নিয়ে মো. নূর মোহাম্মদ একটি মিছিল বের করেন। এ সময় তারা দেশের পরিস্থিতি অস্থির করা এবং জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে লাঠিসোঁটা ও উসকানিমূলক ব্যানার-প্লাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল, উসকানিমূলক ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি জেবুন্নেসা আফরোজ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি জেবুন্নেসা আফরোজ গ্রেপ্তার
ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ভাটারা থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১ জুলাই) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন।

এর আগে গত ২৮ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক রিফাত আল আফসানী আসামিকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত সেদিন শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

আবেদনে বলা হয়, আসামি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন এবং অর্থায়ন ও নির্দেশনার মাধ্যমে ঘটনাস্থলের ঘটনায় জড়িত ছিলেন—এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক থেকে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় একটি ঘটনায় পরবর্তী সময়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকার সামনে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় জেবুন্নেছা আফরোজসহ একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় এ মামলাটি করা হয়।

সালমান এফ রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ২৩ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
সালমান এফ রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ২৩ জুলাই
সংগৃহীত ছবি

বিদেশি প্রতিষ্ঠানে পণ্য রপ্তানির আড়ালে প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগে করা মামলায় বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন বিষয়ে শুনানি আগামী ২৩ জুলাই নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেন। 

এদিন মামলাটির অভিযোগগঠন বিষয়ে শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ ছিল। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. সজিবুল ইসলাম চার্জ শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক নতুন করে এই তারিখ নির্ধারণ  করেছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. আরিফুল ইসলাম  বিষয়টি  নিশ্চিত করেন। 

অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছে, বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান, অটাম লুপ ও পিয়ারলেস গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসিউর রহমান, পরিচালক রেজিয়া আক্তার, আরআর গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমান। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অনুসন্ধানে জানতে পারে, বেক্সিমকো গ্রুপের অটাম লুপ অ্যাপারেলস লিমিটেড এবং পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেডের মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে। অটাম লুপ অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস শাখা থেকে তিনটি এলসির বিপরীতে পণ্য রপ্তানি করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৮ লাখ ৩২ হাজার ৪২৮ মার্কিন ডলার দেশে আনা হয়নি।

তদন্তে আরো জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আরআর গ্লোবাল ট্রেডিং এফজেডই’-এর ঠিকানায় এসব পণ্য পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় রয়েছেন সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান (এ এস এফ রহমান) এবং এ এস এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমান। অর্থাৎ, একই পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা মামলা করেন। পরে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের পুলিশ পরিদর্শক মো ছায়েদুর রহমান তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে  অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জন : বেনজীরের বিরুদ্ধে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
অবৈধ সম্পদ অর্জন : বেনজীরের বিরুদ্ধে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মোট ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে ছয়জনের সাক্ষ্য শেষ হয়। 

গত ২৩ জুন মঙ্গলবার মামলাটিতে মোট আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সব মিলিয়ে মামলাটিতে মোট ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। মামলার মোট সাক্ষী ২৮ জন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ জুলাই  দিন ধার্য করা হয়েছে। 

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, সাবেক আইজি বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে আজকে পর্যন্ত মামলাটিতে ১৪ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। 

আজকের ছয় সাক্ষীরা হলেন—নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো.আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বাড্ডার সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম। 

গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বেনজীরের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। 

দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বরে এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগ পত্র দেয় দুদক। ওই অভিযোগ পত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে দুই মামলায় বেনজীরকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের পৃথক তিন মামলায় তাকে সহযোগী আসামি করা হয়। বর্তমানে এসব মামলা তদন্তধীন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে থেকেও নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় বেনজীর আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি

অর্থ পাচারের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা ও দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক। তিন মামলায় বেনজীরকে সহযোগী আসামি করা হয়। 

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।