• ই-পেপার

জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য অতিরিক্ত ছুটি চালু করল ফ্রান্স

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের পরিকল্পনা
ছবি : রয়টার্স

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে জাহাজগুলো বিনা খরচে চলাচল করত। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান এই নৌপথে প্রভাব বিস্তার করে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ওমান যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এতে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ ও শিপিং কম্পানির কাছ থেকে সেবা ফি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওমানের দাবি, এটি বাধ্যতামূলক টোল নয়, বরং স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি। তবে ইরানের কিছু কর্মকর্তা বলছেন, এই অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। 

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, তেহরান চায় ওমানের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হোক। কিন্তু সমঝোতা না হলে ইরান নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারে। ওমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মে মাসে ওমান ও ইরানের যৌথ উদ্যোগে ফি আদায়ের সম্ভাবনা প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর তীব্র সমালোচনা করেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি, টোল বা অনুদান আদায়ের ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করবে না। তার মতে, প্রণালিকে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। তবে ইরানের অবস্থান ভিন্ন। 

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। ইরানের কর্মকর্তারা মনে করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তাদের বর্তমান প্রভাব একটি বড় কৌশলগত শক্তি। এদিকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি বলেছেন, প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। তাই স্বেচ্ছাভিত্তিক অর্থ সংগ্রহের একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। 

তিনি মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালির উদাহরণ দেন, যেখানে নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য স্বেচ্ছা অনুদান সংগ্রহ করা হয়। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজও বলেছেন, বাধ্যতামূলক টোল আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে স্বেচ্ছাভিত্তিক একটি তহবিল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ওমানের এই প্রস্তাব উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। 

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া উচিত এবং নতুন কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এখন শুধু নৌপরিবহন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, কূটনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

পোপের অনুমতি ছাড়া বিশপ নিয়োগ, ৬ ধর্মযাজককে বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক
পোপের অনুমতি ছাড়া বিশপ নিয়োগ, ৬ ধর্মযাজককে বহিষ্কার
ছবি : রয়টার্স

পোপ চতুর্দশ লিওর অনুমতি ছাড়া বিশপ অভিষিক্ত করার কারণে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক রক্ষণশীল ক্যাথলিক গোষ্ঠী সোসাইটি অব সেন্ট পিয়াস এক্স (এসএসপিএক্স)-এর ছয়জন ধর্মযাজককে ধর্মচ্যুত করা হয়েছে বলে ভ্যাটিকান জানিয়েছে। 

খ্রিস্টধর্মের একজন উচ্চপদস্থ যাজক বা ধর্মীয় নেতাকে বিশপ। তিনি একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার (ডায়োসিস) গির্জা ও যাজকদের তত্ত্বাবধান করেন।

বৃহস্পতিবার ভ্যাটিকানের ধর্মীয় মতবাদবিষয়ক দপ্তর ‘ডিকাস্টারি ফর দ্য ডকট্রিন অব দ্য ফেইথ’ এক ডিক্রিতে বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিকদের সতর্ক করে জানায়, গোষ্ঠীটি এখন চার্চের অনুমোদন ছাড়া ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ডিক্রিতে বলা হয়, এসএসপিএক্স ক্যাথলিক চার্চের কিছু মৌলিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তারা বৈধভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান পরিচালনা বা স্বীকারোক্তি গ্রহণের মতো ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।

পোপ লিওর অনুরোধ উপেক্ষা করে গোষ্ঠীটি বুধবার চারজন নতুন বিশপকে অভিষিক্ত করে। এর এক দিন পরই ভ্যাটিকান এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ক্যাথলিক চার্চের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন বিশপ নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র পোপের। চার্চের ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়।

ভ্যাটিকান জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওই অননুমোদিত অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেওয়া দুই বিশপ এবং নতুন অভিষিক্ত চার ধর্মযাজকসহ মোট ছয়জনকে ধর্মচ্যুত করা হয়েছে। 

তবে সোসাইটি অব সেন্ট পিয়াস এক্স তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বুধবার গোষ্ঠীটি দাবি করেছিল, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তারা পোপের অনুমোদন ছাড়াই বিশপ অভিষেকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছেন শেহবাজ শরিফ

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছেন শেহবাজ শরিফ
রয়টার্স ছবি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। 

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এফও) মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, আগামী ৩ থেকে ৫ জুলাই ইরান ও তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

তিনি জানান, সফরের প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অংশ নেবেন। এ সময় শেহবাজ শরিফের সঙ্গে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা সফরে থাকবেন।

তিনি আরো জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানের নেতৃত্ব এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাবেন। পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে ভ্রাতৃপ্রতীম ইরানি জনগণের প্রতি পাকিস্তানের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করবেন।

প্রসঙ্গত, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রথম দিনে শহিদ হন। তার জানাজা ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হবে এবং ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে নিজ শহরে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন জয়া বচ্চন

অনলাইন ডেস্ক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন জয়া বচ্চন
সংগৃহীত ছবি

ইন্ডিয়া জোটে শরিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বেশ খানিকটা দূরত্ব দেখা গিয়েছিল সমাজবাদী পার্টি। দিন কয়েক আগেই কলকাতায় এসে দলের সর্বভারতীয় নেতা কিরণময় নন্দ টিএমসির পরাজয়ের জন্য দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছিলেন। এবার সেই মমতার সঙ্গে দেখা করতে কালীঘাটের বাড়িতে গেলেন সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সদস্য জয়া বচ্চন। 

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েনের সঙ্গে কালীঘাটে যান এই সাংসদ। তাঁকে বাড়িতে স্বাগত জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 

এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে ডেরেক ও ব্রায়েনের সঙ্গে কালীঘাটে আসেন তিনি। এই অবস্থায় জয়ার আগমন নিয়ে বেশ উৎসাহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। 

ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পরও হার মানতে নারাজ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে তিনি ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছিলেন। এনিয়ে মামলাও চলছে। মমতার এই অভিযোগকে সমর্থন করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও। তিনি ফলপ্রকাশের কয়েকদিন পর কলকাতায় এসে কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেছিলেন।