• ই-পেপার

ঢাবি উপাচার্য

সংকটের প্রতিটি মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা

ফেনী থেকে অংশ নেবেন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থী

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনী থেকে অংশ নেবেন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি, আলিম ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় ফেনী থেকে অংশ নেবেন ১১ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ফেনী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় গত ১ বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪৫৫ জন। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী প্রবণতা, কারিগরি শিক্ষায় ঝোঁক, শিশুশ্রম এবং বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক কারণে এই ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে ফেনীতে এইচএসসি, আলিম ও কারিগরিতে পরীক্ষার্থী ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ জন। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ১৭৯ জনে। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে তা কমে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৪৮৭ জনে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি, আলিম ও সমমানে ফেনীর ২১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এইচএসসিতে ১১ কেন্দ্রে ৮ হাজার ৬৫৭ জন, আলিমে ৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৬১৮ জন এবং কারিগরিতে ৩টি কেন্দ্রে ৭৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেনীর সদর উপজেলায় এইচএসসিতে ৪টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৩৭০ জন, আলিমে ১টি কেন্দ্রে ৬১৮ জন ও ভোকেশনালে ১টি কেন্দ্রে ২৭১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। পরশুরাম উপজেলায় এইচএসসিতে ১টি কেন্দ্রে ৬১৮ জন, আলিমে ১০৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। ফুলগাজীর ১টি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ৫৯৪ জন, আলিমে ৯৫ জন এবং ভোকেশনালে ১১৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ২টি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ১ হাজার ১৯৬ জন ও আলিমে ৩৪১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। সোনাগাজীতে ২টি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ৬৫৮ জন, আলিমে ২৫৮ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া দাগনভূঞার ১টি কেন্দ্রে এইচএসসিতে ২১১ জন, আলিমে ২টি কেন্দ্রে ১৯৭ জন এবং ভোকেশনালে ৩৬৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

ফেনী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফি উল্লাহ বলেন, ‘সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা গ্রহণে পূর্বের সব নিয়ম বহাল থাকবে। নকল প্রতিরোধে সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার এবং কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী ফটোকপি দোকানগুলো পরীক্ষা চলাকালীন বন্ধ থাকবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ২০০ গজ বেষ্টনীর মধ্যে ১৪৪ ধারা বজায় থাকবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে প্রশাসন।’

পরীক্ষার্থী কমে যাওয়া প্রসঙ্গে ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। দ্বাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যায়। নির্বাচনী পরীক্ষা খারাপ হলে অনেকে আবার ফরম পূরণ করারও সুযোগ পায় না। মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনেকের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করা দরকার।’

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম-পরিণয়, একসঙ্গে স্বপ্নের বিসিএস জয়

বাকৃবি প্রতিনিধি
বন্ধুত্ব থেকে প্রেম-পরিণয়, একসঙ্গে স্বপ্নের বিসিএস জয়
সাহাজ উদ্দিন বাদল ও জেরিন আক্তার স্বর্ণা

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহপাঠী হিসেবে পরিচয়। সেই পরিচয় গড়ায় বন্ধুত্বে, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, এরপর পরিণয়। এবার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েও একসঙ্গে সাফল্যের দেখা পেলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী দম্পতি সাহাজ উদ্দিন বাদল ও জেরিন আক্তার স্বর্ণা।

সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে তারা দুজনই কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (সহকারী পরিচালক) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বাদল ও স্বর্ণা বাকৃবির কৃষি অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। একই অনুষদ, একই বর্ষের সহপাঠী থেকে জীবনসঙ্গী—এবার একই ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিনন্দনে সিক্ত হচ্ছেন তারা।

তাদের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার গল্প। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সামনে রেখে নিয়মিত বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন দুজনই।

সাহাজ উদ্দিন বাদল বলেন, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গভীর হয়ে এক পর্যায়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। দুই পরিবারের সমর্থন ও বন্ধুদের সহযোগিতা তাদের পথচলাকে সহজ করেছে।

lll

বিসিএস প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, ৪৪তম বিসিএসে আবেদন করলেও পরিকল্পিত প্রস্তুতি শুরু করেন ৪৫তম বিসিএস থেকে। প্রথমবার প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হলেও তারা থেমে যাননি। ৪৬তম বিসিএসে বাদল প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হলেও স্বর্ণা সফল হননি। সেই অভিজ্ঞতা তাদের আরো মনোযোগী করে তোলে।

বাদল আরো জানান, বিসিএসের পাশাপাশি অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষাতেও অংশ নেন তারা। সম্প্রতি তিনি সোনালী ব্যাংকের অফিসার (জেনারেল) পদে এবং স্বর্ণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এসব অর্জন তাদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেয়।

জেরিন আক্তার স্বর্ণা বলেন, এই সাফল্য শুধু তার একার নয়; পরিবার ও স্বামীর অবদান এতে সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি ব্যর্থতার সময় বাদল তাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, যা সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে।

দুজনই জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ছিল তাদের নিয়মিত পড়াশোনার প্রধান স্থান। সেখানে একসঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়া এবং একে অপরকে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়েই তারা নিজেদের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে গেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা বলেন, বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক অনুপ্রেরণার বিকল্প নেই। কর্মজীবনেও সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে চান তারা।

এইচএসসি

রেজাল্ট খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা খাতা চেক করতে পারবে : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
রেজাল্ট খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা খাতা চেক করতে পারবে : শিক্ষামন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, রেজাল্ট খারাপ করলে ট্যাবুলেশন শিটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতাও চেক করতে পারবে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এক  সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, যেকোনো বিভ্রান্তিকর নিউজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এবারের পরীক্ষা আমরা সুন্দরভাবে নেব। এ ক্ষেত্রে আমরা সবার সহযোগিতাও পাব, ইনশাআল্লাহ।’

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বসছে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৯২ লাখ ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।

মোট ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং মোট ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শাবিপ্রবিতে আরো ৩ সহকারী প্রক্টর নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শাবিপ্রবিতে আরো ৩ সহকারী প্রক্টর নিয়োগ
সংগৃহীত ছবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সহকারী প্রক্টর হিসেবে আরো তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির সই করা এক অফিস আদেশে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন এফইটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদ আলম ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে গত ১৫ জুন তিন জন শিক্ষককে সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।