• ই-পেপার

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির আড়াই হাজার মামলা

যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে ডিএসসিসির সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে ডিএসসিসির সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যত্রতত্র ময়লা-বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), বিডি ক্লিন এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩ টায় নগর ভবন অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ডিএসসিসির ৫টি অঞ্চলের ২২টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পুরো এলাকাকে ১০টি ব্লকে বিভক্ত করে ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ বা হটস্পটে কাজ করবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। সপ্তাহে সাত দিনই বিডি ক্লিনের ৭০ জন এবং রেড ক্রিসেন্টের ৫০ জনসহ মোট ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে থাকবেন। তারা নাগরিকদের নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার ব্যাপারে সচেতন করবেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রচারণা চালাবেন, ওয়েস্টবিনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবেন এবং সতর্কীকরণ নোটিশ প্রদান করবেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনকে জরিমানা করার সুপারিশও করবেন তারা।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে শুধু সিটি করপোরেশনের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ সমানভাবে প্রয়োজন। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা গেলে নগর পরিবেশের উন্নতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।’

​তিনি আরো বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার যে লক্ষ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গ্রহণ করেছে, এই যৌথ উদ্যোগ তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি টেকসই পরিচ্ছন্নতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব।’

​অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, সচিব জনাব মো. জয়নুল আবেদীনসহ করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিডি ক্লিন ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রামিসার মায়ের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন ডা. রফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
রামিসার মায়ের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন ডা. রফিক
সংগৃহীত ছবি

ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু রামিসার মৃত্যুশোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার মা। প্রিয় সন্তানের অকাল ও নির্মম বিদায়ের পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শারীরিক জটিলতা—বুকে ব্যথা, নিউরোলজিকাল (ভার্টিগো) ও পরিপাকতন্ত্রজনিত সমস্যা আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

রামিসার মায়ের এই অসহায় অবস্থার কথা জানতে পারেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। বিষয়টি জানার পর দ্রুত মানবিক উদ্যোগ নেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে তাকে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসার জন্য একটি সমন্বিত বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে। যেখানে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শেই তার চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরো জানান, সন্তানের মৃত্যু-পরবর্তী গভীর শোক ও মানসিক আঘাতের কারণে তার শারীরিক উপসর্গগুলো আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও সাইকোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে তার কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা শুরু হয়েছে। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও বিস্তারিত পরীক্ষার পরই পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থতার পথে ফিরতে পারবেন।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ লক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিজিবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, আবরার ফাহাদ এভিনিউ, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, শেরেবাংলা নগর ও মহাখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি মোতায়ন করা হলো।

এর আগে দেশের ৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। জেলাগুলো হলো- কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় বিজিবি সদর দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, দিবসটিতে যেকোনো নাশকতা রোধে নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। মধ্য রাত থেকেই টহলে নামে সেনাবাহিনী। নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ, র‍্যাব।

আ. লীগের পরিকল্পনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে : ডিএমপি কমিশনার

অনলাইন ডেস্ক
আ. লীগের পরিকল্পনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে : ডিএমপি কমিশনার
পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। ছবি : ডিএমপি

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নাশকতা ঘটিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিল। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তা নস্যাৎ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিদর্শনের পর পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা দেশ-বিদেশে লুকিয়ে আছেন। আত্মগোপনে থেকে আজ দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা। এরপর পুলিশ সারা দেশে নজরদারি বাড়ায়। রাজধানীতে কড়া পাহারা বসায় ঢাকা মহানগর পুলিশ।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজকের মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চাইছে। তাদের (আওয়ামী লীগ) এই পরিকল্পনাকে আমরা এখন পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছি। আমি আশা করি, সামনে যে কয়েক ঘণ্টা সময় বাকি আছে, সেই সময়ের মধ্যেও তারা কোথাও মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগ কর্মীদের। বাইরে থেকে ঢাকায় আসার পরিকল্পনাও ছিল।

সেই তথ্য আগাম পেয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সে অনুযায়ী তিন দিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোসহ বিভিন্ন চেকপোস্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোবাইল প্যাট্রল, সাদা পোশাকে টহলের সংখ্যাও বাড়ানো হয়।

আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বাইরের জেলাগুলো থেকে রাজধানীতে আসার পরিকল্পনা ঠেকাতে ঢাকার প্রবেশমুখ, ট্রেনস্টেশন, বাসস্টেশনসহ সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।