• ই-পেপার

টঙ্গীতে মোটরসাইকেলযোগে অস্ত্রের মহড়ায় অংশগ্রহণ, গ্রেপ্তার ৩

‘সময় থাকতে ভালো হয়ে যা’, দরজার সামনে কাফনের কাপড় রেখে চিরকুটে হুমকি!

নাটোর প্রতিনিধি
‘সময় থাকতে ভালো হয়ে যা’, দরজার সামনে কাফনের কাপড় রেখে চিরকুটে হুমকি!
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এক পরিবারের দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট রেখে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির রেখে যাওয়া হুমকিমূলক চিরকুটে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ওই পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে আছেন।

বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে আব্দুল গফুরের বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়সদৃশ কাপড় ও চিরকুট রাখা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে কে বা কারা গেটের দরজার সামনে একটি কাফনের কাপড় রেখে যায় এবং সঙ্গে একটি চিরকুট সংযুক্ত করে। বিষয়টি সকালে নজরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

চিরকুটে লেখা, ‘সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। পরে আর নাও সময় পেতে পারিস। আল্লাহ ছাড়া বাঁচাবার মতো কেউ নাই। অবস্থা খারাপ হওয়ার আগে ভালো হয়ে যা। আল্লাহ তোকে হেদায়েত দিক। মানুষের ওপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে আল্লাহ ভীরু হো।’

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আ. গফুর, আ. বারিকসহ অনেকে জানান, হঠাৎ এমন অপ্রত্যাশিত ও ভয়ংকর হুমকির ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

নলডাঙ্গার ওসি নূরে আলম বলেন, ‘বিষয়টি দেখা হচ্ছে। পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’

মৌলভীবাজারে আপন ভাইকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৫

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে আপন ভাইকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৫
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস আব্দুল মতিন (৫৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। এই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম এতথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়শা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।

থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ভুক্তভোগী আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। গত ২৮ জুন আদালতে মতিনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই ভাই মজিদ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেদিন সকালে আব্দুল মতিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা পরিকল্পনাকারীর দল তাকে অনুসরণ করে। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এর পর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের ঢালের পাকা রাস্তার ওপর মরদেহ ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান। 
সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির অদূরেই স্বামীর হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরে খবর পেয়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মৌলভীবাজার  সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে হাবিবুর রহমান (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত হাবিবুর রহমান উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত লোকমান মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ জুলাই) ভোরে বাড়ির পাশে প্রাকৃতিক কাজে গেলে একটি বিষাক্ত সাপ তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে কামড় দেয়। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালেই তার মৃত্যু হয়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ভোলায় ট্রলির ধাক্কায় মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত, মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় ট্রলির ধাক্কায় মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত, মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বালুবাহী ট্রলির ধাক্কায় লিয়া আক্তার (১৫) নামের এক মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তার মরদেহ কাঁধে নিয়ে তার সহপাঠীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষাভ করেছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কের জলিল মাঝির বাড়ির দরজায় এ দুঘটনা ঘটে। নিহত উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে এবং চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে লিয়া মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কের জলিল মাঝি বাড়ির দরজায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি বালুভর্তি ট্রলি তাকে ধাক্কা দিলে সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ট্রলিচালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।‎

‎দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে সহপাঠীরা নিহত লিয়ার মরদেহ কাঁধে নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ, চালকের বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ‎খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেয়। 

‎শশীভূষণ থানার ওসি মো. ফিরোজ হাসান বলেন, ‘ছাত্রী নিহতের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে।’