ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৩ দিনের মাথায় পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ হিসেবে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হলেও ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ডিবি হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলমান থাকায় এই বদলিকে ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে ২৯ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে ফরিদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে প্রশাসনিক কারণে খুলনা রেঞ্জে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ৯ জুলাই থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।
জানা গেছে, রাকিবুল ইসলাম গত ১৫ জুন ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি থেকে ফরিদপুর জেলা পুলিশে যোগদান করেন। এরপর ২৫ জুন ডিবির তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।পরেরদিন ২৬ জুন তাকে ডিবির ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৩ দিনের মাথায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আকস্মিক বদলির পেছনে কোনো প্রশাসনিক কারণ নাকি চলমান তদন্তের প্রভাব রয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন ফরিদপুরের মধুখালী থানার একটি ঘটনায় ইসতিয়াক আহমদ প্রান্ত নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরেরদিন ২৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ২৫ জুন তৎকালীন ডিবি ওসি আলমগীর হোসেনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পরে রাকিবুল ইসলামকে ডিবির ওসি করা হয়। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ তদন্ত দল।
পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, তদন্তকারী দল যখন ফরিদপুরে আসে, তখন রাকিবুল ইসলাম সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, এই বিষয়টি হয়তো যথাযথভাবে বিবেচনায় আসেনি। ফলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মূল্যায়ণে কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বদলির বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুরে যোগদানের পর থেকে বদলির আগ পর্যন্ত তিনি মাত্র কয়েকটি কর্মদিবস দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে তিনি কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি এবং কোনো অবৈধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন না। তাই প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাকে বদলি করায় বিষয়টি তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন না।
তিনি আরো জানান, গত দুই বছরে তাকে ৫ বার বদলি করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জ থেকে বরিশাল রেঞ্জ, পরে আবার ঢাকা রেঞ্জ, এরপর ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুনরায় ঢাকা রেঞ্জ এবং সর্বশেষ খুলনা রেঞ্জে বদলি করা করা হলো। বার বার বদলির কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের। বদলির কারণ সম্পর্কে তারাই ভালো বলতে পারবেন।’







