• ই-পেপার

বকশীগঞ্জে ভাঙন আতঙ্ক

নদীপারের মানুষের নির্ঘুম রাত

  • স্থায়ী সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি

দুই বছরে ৫ বার বদলি পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুল

ফরিদপুর প্রতিনিধি
দুই বছরে ৫ বার বদলি পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুল
পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম।

ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৩ দিনের মাথায় পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। 

পুলিশ সদর দপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ হিসেবে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হলেও ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ডিবি হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলমান থাকায় এই বদলিকে ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে ২৯ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে ফরিদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে প্রশাসনিক কারণে খুলনা রেঞ্জে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

একই প্রজ্ঞাপনে আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ৯ জুলাই থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।

জানা গেছে, রাকিবুল ইসলাম গত ১৫ জুন ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি থেকে ফরিদপুর জেলা পুলিশে যোগদান করেন। এরপর ২৫ জুন ডিবির তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।পরেরদিন ২৬ জুন তাকে ডিবির ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৩ দিনের মাথায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এই আকস্মিক বদলির পেছনে কোনো প্রশাসনিক কারণ নাকি চলমান তদন্তের প্রভাব রয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন ফরিদপুরের মধুখালী থানার একটি ঘটনায় ইসতিয়াক আহমদ প্রান্ত নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরেরদিন ২৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ২৫ জুন তৎকালীন ডিবি ওসি আলমগীর হোসেনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পরে রাকিবুল ইসলামকে ডিবির ওসি করা হয়। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ তদন্ত দল।

পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, তদন্তকারী দল যখন ফরিদপুরে আসে, তখন রাকিবুল ইসলাম সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, এই বিষয়টি হয়তো যথাযথভাবে বিবেচনায় আসেনি। ফলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মূল্যায়ণে কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বদলির বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুরে যোগদানের পর থেকে বদলির আগ পর্যন্ত তিনি মাত্র কয়েকটি কর্মদিবস দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে তিনি কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি এবং কোনো অবৈধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন না। তাই প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাকে বদলি করায় বিষয়টি তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন না। 

তিনি আরো জানান, গত দুই বছরে তাকে ৫ বার বদলি করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জ থেকে বরিশাল রেঞ্জ, পরে আবার ঢাকা রেঞ্জ, এরপর ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুনরায় ঢাকা রেঞ্জ এবং সর্বশেষ খুলনা রেঞ্জে বদলি করা করা হলো। বার বার বদলির কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের। বদলির কারণ সম্পর্কে তারাই ভালো বলতে পারবেন।’

সিল-সই জালিয়াতি, কম্পিউটার ব্যবসায়ীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
সিল-সই জালিয়াতি, কম্পিউটার ব্যবসায়ীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে জমির জাল কাগজপত্র তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সিল-সই জাল করে সংরক্ষণের অভিযোগে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। 

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আবু সাইদ হোসেন লাভলু (২৮)। তিনি উপজেলার শরিফেরহাট খন্দকারপাড়া এলাকার মৃত জহরত আলীর ছেলে।

উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকায় কম্পিউটারের ব্যবসার আড়ালে আবু সাইদ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এসএ, আরএস ও সিএস খতিয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসংক্রান্ত কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে আসছিলেন।

সম্প্রতি এক কৃষক নামজারির আবেদন করতে গিয়ে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে একটি খতিয়ান জমা দেন। খতিয়ানটি দেখে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি খতিয়ানটি কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিলে বিষয়টি তদন্তে আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আবু সাইদের কম্পিউটার দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন জাল খতিয়ান, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত সিল এবং জাল সিল তৈরির উপকরণ এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় প্রমাণসহ আটক হওয়ার পর আবু সাইদ অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আবু সাইদ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এসএ, আরএস ও সিএস খতিয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করে তাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জাল সিল ও সই ব্যবহার করে আসছিলেন। অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীতে ৫৮ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীতে ৫৮ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ বোতল বিদেশি মদসহ মো. মামুন (৪২) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ছাতারপায়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই এলাকার মৃত দীন মোহাম্মদের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামুনের বাড়ির পাশে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতঘরের সামনে বালুর স্তূপের ভেতর থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৮ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নামাজরত মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
নামাজরত মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের টাকার জন্য নামাজরত (সিজদারত) অবস্থায় মাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিককে (৪৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ঘাতক ভাইয়ের সাজা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান বড় ভাই মাওলানা আবুল কাশেম।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘাতক আবু বক্কর সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন মাদকের টাকা না পেয়ে সে তার ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মোছা. খায়েরা বেগম প্রকাশ খায়রুন্নেছার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে মা যখন জোহরের নামাজ আদায়ের সময় সেজদায় যান, তখন আবু বক্কর সিদ্দিক পেছন থেকে কুড়াল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম বাদী হয়ে ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিককে একমাত্র আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নাসের তদন্ত শেষে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে মামলার বাদী ও নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করছিল। মাদকের টাকার জন্য তখন সে প্রায়ই মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সালিস-বৈঠক হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত ঘটনার দিন জোহরের নামাজের সময় সেজদারত অবস্থায় সে মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারল।’

তিনি আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ঘাতক ভাইয়ের সাজা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিককে কড়া পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে।