• ই-পেপার

এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা বৃহস্পতিবার

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড

বাসস
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড
সংগৃহীত ছবি

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। একই সঙ্গে বন্দর আবারো ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’-এ ফিরেছে, যার ফলে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষা এখন শূন্যে নেমে এসেছে। এতে জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম কমে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। 

শতভাগ ই-গেট, পেপারলেস সেবা, রিয়েল-টাইম ডিজিটাল অপারেশন এবং আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি বিশ্বমানের স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের পথে সব সূচকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭.১৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা ৫.৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। এছাড়া জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৬টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৩৫ শতাংশ বেশি। 

আর্থিক সূচকেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা, রাজস্ব উদ্বৃত্ত হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সরকারকে ৯৬০ কোটি ৪ লাখ টাকা কর পরিশোধ করা হয়েছে। একই সময়ে কর-পরবর্তী রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা বন্দরের আর্থিক সক্ষমতার নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে। ফলে জাহাজের অপেক্ষার সময় প্রায় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে, যা শিপিং কোম্পানির পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। 

চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও মুখপাত্র মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে বন্দরের সব গেটে শতভাগ ই-গেট পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ই-ডেলিভারি অর্ডার (ই-ডিও), অনলাইন এনওসি, ই-চালান, কার্ট টিকিট এবং ওয়ান-স্টপ ডকুমেন্টেশনসহ বিভিন্ন সেবা সম্পূর্ণ কাগজবিহীন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এনবিআরের এসকুয়াডা ওয়ার্ল্ড এবং বন্দরের বন্দর পরিচালনা পদ্ধতির (টস) মধ্যে সরাসরি তথ্য বিনিময় চালু হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে। 

এছাড়া ‘সিপিএ স্কাই’ নামে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে কাস্টমস, ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। বন্দর পরিচালনার তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চট্টগ্রাম বন্দর আবারও ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছে। ফলে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য খালাস ও বোঝাই করতে পারছে, শিপিং কোম্পানির সময় ও ব্যয় কমছে, আমদানিকারক দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরাও সময়মতো পণ্য পাঠাতে সক্ষম হচ্ছেন। ঈদের ছুটিতেও ২৪ ঘণ্টা অপারেশন সচল রেখে এ সাফল্য ধরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের আন্তর্জাতিক পরিদর্শনে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে। একই সঙ্গে বহির্নোঙরে ডাকাতি ও চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৪০ সালের মধ্যে কার্গো হ্যান্ডলিং ৩০৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন টিইইউস-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল, বে টার্মিনাল, হেভি লিফট কার্গো জেটি এবং বহুমুখী পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ও পরিচালনগত সাফল্য বন্দরের আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। জাহাজের অবস্থানকাল কমানো, রাজস্ব উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি এবং শতভাগ কাগজবিহীন ডিজিটাল সেবা চালুর মাধ্যমে বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বমানের একটি স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক নথিপত্র ডিজিটাল করণে পাইলট কর্মসূচি চালু

বাসস
বাণিজ্যিক নথিপত্র ডিজিটাল করণে পাইলট কর্মসূচি চালু

রপ্তানি ও আমদানি লেনদেনে বাণিজ্যিক নথিপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি পরীক্ষামূলক (পাইলট) কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের সীমান্ত-বাণিজ্য ও বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, দ্রুত এবং দক্ষ করে তুলতে এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কাঠামোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক নথিপত্রের ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণ সহজতর হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কাগজের নথিপত্রের জায়গায় ধাপে ধাপে নিরাপদ ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু করার মাধ্যমে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। 

এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত বাণিজ্য করিডরগুলোতে ‘ডকুমেন্টারি কালেকশন’ এবং ‘লেটার অব ক্রেডিট’ (এলসি)’র মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন বিধিমালার আওতাধীন রপ্তানি ও আমদানি লেনদেনে এ কাঠামো প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ইউআরসি), ইলেকট্রনিক ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ই-ইউআরসি), ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিটস (ইউসিপি) এবং ইলেকট্রনিক ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস (ই-ইউসিপি)।

এ কাঠামোর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হবে। ফলে বাণিজ্যিক নথি ডিজিটালভাবে ইস্যু, হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে এবং অনুমোদিত পাইলট ব্যবস্থার আওতায় ইলেকট্রনিক নথিভিত্তিক ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, এ কাঠামো পাঁচটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এগুলো হলো বিভিন্ন সিস্টেমের মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি), প্রযুক্তি-নিরপেক্ষতা, ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতিতে নথির সত্যতা বিকেন্দ্রীকৃতভাবে যাচাই, তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং ইলেকট্রনিক ও কাগজভিত্তিক বাণিজ্যিক নথির সমান আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা।

এই পাইলট কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রস্তাবিত বাণিজ্য করিডোর, অংশীদার প্রতিষ্ঠান, লেনদেনের ধরন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ জমা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন নিতে হবে।

এ কাঠামোর আওতায় ব্যাংকগুলো নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল স্বাক্ষর এবং প্রমাণীকৃত আন্তঃব্যাংক বার্তা বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক চালান (কমার্শিয়াল ইনভয়েস), ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিংসহ পরিবহনসংক্রান্ত নথিপত্র এবং বিল অব এক্সচেঞ্জ প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে।

নথির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইলেকট্রনিক রেকর্ডের স্বকীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। অননুমোদিত পরিবর্তন প্রতিরোধ করতে হবে এবং এনক্রিপশন, টাইম-স্ট্যাম্পিং ও টেম্পার-প্রুফ অডিট ট্রেইলের মাধ্যমে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই পাইলট কর্মসূচিটি অনুমোদিত বাণিজ্য করিডরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এই পরীক্ষামূলক ধাপের সফল সমাপ্তি এবং পরবর্তী রেগুলেটরি মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এই ডিজিটাল বাণিজ্য নথি ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রপ্তানি নথি নিরাপদভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দাখিলের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সার্কুলার জারি করেছিল, এ নতুন উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে অধিক দক্ষ ও গতিশীল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংকের টাকা লেনদেন নিয়ে নতুন নির্দেশনা, সার্কুলার জারি

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংকের টাকা লেনদেন নিয়ে নতুন নির্দেশনা, সার্কুলার জারি
ফাইল ছবি

ব্যাংক থেকে ব্যাংকে টাকা লেনদেনের ফি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বুধবার (১ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এনপিএসবির (NPSB) মাধ্যমে সম্পাদিত লেনদেন এবং কার্ড স্কিমের মাধ্যমে সরকারি অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় পয়েন্ট অফ সেল (POS), বাংলা কিউআর কোড লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেটের সীমা নির্ধারণ করা হয়। উল্লিখিত সার্কুলারের সব ফি/চার্জ এবং শর্তাবলী অপরিবর্তিত রেখে এনপিএসবির আওতায় কেবল বাংলা কিউআর কোড পরিশোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট এ প্রিপেইড কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, এমএফএস, পিএসপির মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্টে অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মার্চেন্ট হতে আদায়যোগ্য এমিডিআরের সর্বনিম্ন হার ১% (ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত) নির্ধারণ করা হলো।

তবে কোনো একোয়ারিং প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল লেনদেনের উন্নয়নের স্বার্থে প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক (পিএসডি-২) মো. শরাফত উল্লাহ খান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বিশেষ এক্সিট নীতিমালায় বড় ছাড়

সুদের বোঝা ছাড়াই খেলাপি ঋণ এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সুদের বোঝা ছাড়াই খেলাপি ঋণ এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি : সংগৃহীত

পুনঃতফসিল করার পরও উৎপাদনশীল খাতের অধিকাংশ ঋণ বারবার খেলাপি হয়ে পড়ায় ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের বিশেষ সুবিধা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে, তারল্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এবং উৎপাদনশীল খাতে নতুন ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানের খেলাপি ঋণ এককালীন নিষ্পত্তির (বিশেষ এক্সিট) সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এই সুবিধার আওতায় খেলাপি গ্রাহকেরা কেবল ঋণের আসল বা প্রিন্সিপাল টাকা পরিশোধ করেই ঋণমুক্ত হতে পারবেন। অর্থাৎ তাদের কোনো সুদ দিতে হবে না।

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি-১) এর পরিপালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এসংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বাস্তবসম্মত কারণে আর্থিক সংকটে পতিত হলেও যেসব ঋণগ্রহীতার ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা এবং ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা রয়েছে, তাদের এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা দেওয়া হবে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা কার্যকর থাকবে। এক্ষেত্রে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভিত্তিতে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণসমূহ এই সুবিধার আওতায় আসবে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের সুদ মওকুফের সুবিধা নিশ্চিত করতে আগের দুটি কঠোর শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলার অনুযায়ী, বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় ঋণগ্রহীতাকে সমুদয় দায় এককালীন পরিশোধ করতে হবে। আর এই সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সব আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ২০২২ সালের এপ্রিল ও মে মাসের আগের দুটি সার্কুলারের শর্ত শিথিল হয়ে যাচ্ছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, সুদ মওকুফের আগে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় বা কস্ট অব ফান্ড আদায় নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা ছিল। একই সঙ্গে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আয় খাত বিকলন (ডেবিট) করে সুদ মওকুফের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, নতুন নির্দেশনায় তাও শিথিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে যেসব মন্দ বা ক্ষতিজনক মানের ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেই ঋণগুলোও এই সার্কুলারের আওতায় বিশেষ এক্সিট সুবিধা পাবে। তবে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও স্মল ঋণসমূহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে অবিলম্বে এই বিশেষ এক্সিট সুবিধার বিষয়টি চিঠি পাঠানোসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সুবিধার ফলে একদিকে যেমন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার হবে; অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।