• ই-পেপার

শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামিন করিয়েছিল স্ত্রী, এবার তাকেই হত্যা করল স্বামী

শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লা (৫৮) মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি বগুড়া গ্রামের আদালত মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপার বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর আওয়াল এবং সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থক এনা শেখকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। জামিরের পক্ষের লোকজনের ধারণা ছিল, সভাপতি আব্দুর আওয়ালের সমর্থক মতিয়ার রহমানই পুলিশকে তথ্য দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন।

এই ঘটনার জের ধরে ওই দিনই জামিরের লোকজন মতিয়ারের ওপর হামলা চালান। পরবর্তীতে আওয়ালের সমর্থকরা পাল্টা তার দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। উভয়পক্ষের এই উত্তেজনা রূপ নেয় বড় সংঘর্ষে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে জামির হোসেনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুর আওয়ালের লোকজনের বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় অন্তত ৫টি বাড়িঘর ভাঙচুরসহ ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই সোমবার মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘষে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশি অভিযান চলছে। একেন আলী মোল্লা আহত হওয়ার পর যে মামলাটি করা হয়েছিল সেটা হত্যা মামলায় রুপান্তরিত করা হবে।

ড্রেনে রক্তাক্ত কুকুর, ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ড্রেনে রক্তাক্ত কুকুর,  ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি

বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকায় ড্রেনে একটি কুকুর রক্তাক্ত হয়ে আহত অবস্থায় পড়ে থাকার বিষয়টি নজরে আসার পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার রাতে এ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা সায়েম মাহমুদ।

এ ঘটনায় এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে মামলায় অভিযুক্ত মো. স্বপনকে গতকাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার স্বপন কানছগাড়ী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গতকাল সোমবার দুপুরে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে এমরান হোসেন কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে যান। সেখানে একটি সাদা-কালো রঙের পথকুকুরকে ধারালো কোনো কিছুর আঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জলেশ্বরীতলার একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে বাদী মো. এমরান হোসেন জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের খবর দিলে উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি সমন্বিত চিকিৎসকদল কুকুরটির চিকিৎসা দেয়। 

মো. এমরান হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দেখতে পাই দা, বঁটি বা ধারালো কিছু দিয়ে কুকুরটির পিঠে আঘাত করা হয়েছে। এতে ক্ষতটি প্রায় মেরুদণ্ডর কাছ পর্যন্ত চলে গিয়েছে।

বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা সায়েম মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কুকুরটির করুণ অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি গত রাত ১০টার দিকে আমাকে ফোন করেন। একই সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আমরা একজনকে রাতেই গ্রেপ্তার করেছি।’

গফরগাঁওয়ে পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
গফরগাঁওয়ে পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরে মসজিদের পুকুরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের পরের দিন মো. তামিম মিয়া (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিলাসী নিশাই সরকার পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মো. তামিম আট নম্বর ওয়ার্ড শিলাসী মহিলা কলেজ এলাকার কুয়েতপ্রবাসী মো. রনি মিয়ার একমাত্র ছেলে ও গফরগাঁও ইসলামিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত তামিম সোমবার দুপুর ১টার দিকে মায়ের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সহপাঠী অন্য শিশুদের সঙ্গে নিশাই সরকার মসজিদের পুকুরে গোসল করতে নামে। পরে অন্য শিশুরা বাড়ি ফিরে গেলেও তামিম বাড়ি যায়নি। পরে স্বজনরা পুকুর পাড়ে এসে তামিমের জুতো জোড়া পড়ে থাকতে দেখে কান্নাকাটি শুরু করেন এবং পুকুরে খোঁজতে থাকেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল ও জাল দিয়ে খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে রাত হয়ে যাওয়ায় চলে যায়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে পুকুরঘাটের সামনে তামিমের মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান।

নিহত তামিমের মা শিল্পী আক্তার সন্তানের জুতো জোড়া বুকে চেপে বিলাপ করে বলেন, ‘বাজান ১০টা টেহা লইয়া যাওয়ার সময় কইছে মা তুমি গোস্ত পোলাও রান্ধ আমি গোসল কইরা আইয়া খাইবাম। আল্লাহ্গো অহন কেডায় গোস্ত পোলাও খাইব? কেডায় আমারে মা ডাকব?’

গফরগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, ‘খবর পেয়ে অফিসার পাঠিয়েছি। বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্যজীবীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্যজীবীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে দুর্যোগে সাময়িক কর্মহীন অসহায় ১৬ জন মৎস্যজীবীকে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিমরাইলকান্দি দাসপাড়ার মৎস্যজীবীদের এ সহায়তা দেওয়া হয়। 

এ সময় মো. তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুর রহিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন ও আশরাফুল আলম মাহফুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘নদীতে এখন কচুরিপানা। তাই জেলেরা মাছ ধরতে না পেরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের কথা চিন্তা করে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপহার দিতে পেরে আমি আনন্দিত।’