মার্কিন রিয়েলিটি তারকা ও উদ্যোক্তা কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা করেছেন তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত রাঁধুনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার কথা জানানো সত্ত্বেও তাঁকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয়, প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়নি এবং বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। এসবের ফলেই তিনি গর্ভপাতের মতো মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হন বলে দাবি করেছেন।
এটি কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে কর্মপরিবেশ নিয়ে ওঠা প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে তাঁর দুই সাবেক গৃহপরিচারিকাও বৈরী কর্মপরিবেশের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি এর হাতে থাকা আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিচয় গোপন রাখা ওই নারী ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত কাইলি জেনারের ব্যক্তিগত রাঁধুনি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, গর্ভাবস্থার কারণে তাঁর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কর্মস্থল-সুবিধা দেওয়া হয়নি, মানসিক হয়রানি ও প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে, যথাসময়ে ও সঠিক হারে পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

মামলায় কাইলি জেনারের পাশাপাশি তাঁর প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং কয়েকজন তত্ত্বাবধায়কের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫৫ ঘণ্টা কাজ করতেন। কাইলি জেনারের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে তাঁর ভাই রব কার্ডাশিয়ানের জন্যও রান্না করতে হতো। একই সঙ্গে একাধিক স্থানে যাতায়াত করে দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি কাইলির টিমকে জানান যে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁর গর্ভধারণ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্যগত কারণে কাজের চাপ কমানোর অনুরোধ জানালেও সেটি উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ। বরং আগের মতোই দীর্ঘ সময় কাজ, ভারী দায়িত্ব এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়।
মামলায় আরো বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে তাঁকে কোনো সহায়তা ছাড়াই ভারী খাবারের সামগ্রী রাস্তা পার করে উঁচু জায়গায় বহন করতে বলা হয়। এতে তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তীব্র মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থার পাঁচ মাসে তাঁকে ক্যালিফোর্নিয়ার পাম স্প্রিংসে কাইলি জেনারের সন্তানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কাজ করতে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিকভাবে কষ্টকর কাজ করার কারণে তিনি চরম ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তাঁর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিনি নিজেই হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, গর্ভস্থ শিশুর আর হৃৎস্পন্দন নেই।
গর্ভপাতের পর পরিবারের কাছাকাছি থাকার জন্য নিউইয়র্কে বদলি নিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর দাবি, অতীতে কাইলির টিম একাধিকবার নিউইয়র্কে কাজের প্রস্তাব দিলেও এবার সেই আবেদনকে চাকরি ছাড়ার ইচ্ছা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে তিনি চাকরি ছাড়তে চান না। এরপরও কর্মস্থলে তাঁর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় একটি টেক্সট বার্তারও উল্লেখ রয়েছে। সেখানে এক তত্ত্বাবধায়ক তাঁকে লিখেছিলেন, ‘থামো, দয়া করে থামো। তুমি কাইলিকে কষ্ট দিচ্ছ। তুমি তাকে হতাশ করে তুলছ।’
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলায় সাবেক রাঁধুনি অনির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তবে আদালতের নথিতে কাইলি জেনার ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে সরাসরি হয়রানি বা নির্যাতন করেছেন—এমন অভিযোগ আনা হয়নি। অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মস্থলের অন্যান্য কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়কদের আচরণ সম্পর্কে কাইলি অবগত ছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি পরিবর্তনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।