• ই-পেপার

ড্রেনে রক্তাক্ত কুকুর, ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ভেটেরিনারি সার্জন নেই ছয় বছর, চিকিৎসা দেন কম্পাউন্ডার

১১টি পদের মধ্যে ছয়টি পদই শূন্য দ্রুত পদক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের

গণেশ চন্দ্র পাল, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
ভেটেরিনারি সার্জন নেই ছয় বছর, চিকিৎসা দেন কম্পাউন্ডার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসস্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল। ছবি: কালের কণ্ঠ

হাসপাতালের ১১টি পদের মধ্যে ছয়টি পদই শূন্য। প্রায় ছয় বছর ধরে নেই ভেটেরিনারি সার্জন। গবাদিপশুর সব রোগের চিকিৎসা দেন ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডার।

এমন অবস্থা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের। 

জনবল সংকটে উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভেটেরিনারি চিকিৎসকের অভাবে গবাদি পশুর যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ কৃষক ও খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালটি দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। সেখানে উপজেলা প্রাণিসস্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন, প্রাণিসম্পদ সহকারী, ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিসট্যান্ট, ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেট, ড্রেসার ও অফিস সহায়কসহ মোট ১১টি পদ রয়েছে। কিন্তু সেখানে ছয়টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। 

সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভেটেরিনারি সার্জন পদে চিকিৎসক নেই ২০২১ সাল থেকে। পাশাপাশি উপজেলা লাইফ অ্যাসিসট্যান্ট (ইউএলএ)-এর একটি পদ, ফিল্ড অ্যাসিসট্যান্ট (এফএ) একটি ও অফিস সহায়কের একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিসট্যান্ট (ভিএফএ)-এর তিনটি পদের মধ্যে দুটি পদ শূন্য। এছাড়া ড্রেসার পদে একজন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রেষণে ঢাকা চিরিয়াখানায় রয়েছেন।

এদিকে, সরকারি ওই ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০টি অসুস্থ গবাদিপশু চিকিৎসা নিতে আসে। প্রচণ্ড গরম ও ভাইরাসজনিত কারণে নানা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। এর মধ্যে লাম্পি স্কিন ডিজিস (এলএসডি)-এ আক্রান্ত গরু-বাছুর ও জ্বর, সর্দি-কাশি, পাতলা পায়খানা ও  নিমোনিয়ায় আক্রান্ত ছাগলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে, চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় উপজেলার  প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। 

স্থানীয় গবাদিপশু পালনকারী বিভিন্ন কৃষক ও খামাররিদের অনেকে বলেন, ভেটেরিনারি চিকিৎসক ছাড়া অন্য  কোনো কারো গবাদি পশুর চিকিৎসা করার কথা নয়। অথচ গোয়ালন্দ উপজেলার সরকারি ওই ভেটেরিনারি হাসপাতালে ভেটেরিনারি চিকিৎসক (সার্জন) নেই। 

তারা বলেন, অসুস্থ গবাদিপশুর চিকিৎসা করছেন ওই হাসপাতালে কর্মরত ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডার। সব রোগের  চিকিৎসায় তিনিই ওই হাসপাতালে আসা অসুস্থ গবাদিপশু দেখে সাদা কাগজে চিকিৎসাপত্র লিখে দিচ্ছেন।  সেখানে গবাদিপশুর যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ কৃষক ও খামারিরা।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে জনবল সংকট প্রকট। ১১টি পদের মধ্যে ভেটেরিনারি সার্জনসহ ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

গোপালগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ২৫

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ২৫
ছবি: কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাসুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল স্থানীয় মানুষের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ আড়াই শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের এসআই নৃপেন চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পিরোজপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সেবা গ্রিন লাইনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটনাস্থলে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।

তিনি আরো জানান, আহতদের মধ্যে ২০ জনকে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং ৫ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মহেশপুরে হাটের খাজনা আদায়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
মহেশপুরে হাটের খাজনা আদায়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ইজারা নেওয়ার সরকারি হাট থেকে খাজনা আদায়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু।

সংবাদ সম্মেলনে ইজারাদার লেন্টু অভিযোগ করেন, মহেশপুর উপজেলার গৌরিনাথপুর ও আদমপুর হাট সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পান তিনি। এখন খাজনা আদায় করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী ইসমাইল হোসেন, সোহাগ সরকার ও ফারুক হোসেন বাঁধা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে তারা টাকা আদায় করছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, হাটে আমার মনোনীত ব্যক্তি খাজনা আদায় করতে গেলে মারধর করা হচ্ছে। কিছু বললে উল্টো হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালকের বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। সঠিকভাবে সরকারিভাবে পাওয়া হাটের ইজারা আদায়ের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিস্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

অভিযুক্ত সোহাগ সরকার বলেন, ‘আমরা টাকা আদায় করছি না। হাটের আড়তদাররা কমিশন নিচ্ছে।’

হবিগঞ্জ

সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ঠেলে পাঠানো বা পুশ ইনের অপতৎপরতা  মোকাবেলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ  (বিজিবি)। গত কয়েকদিন ধরে সীমান্ত পাহারায় বিজিবির বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। 

সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্থানীয় কৃষক, চা বাগানের কর্মী ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষও দিন-রাত পরিশ্রম করছে। 

বিজিবি জানায়, সম্প্রতি ভারত থেকে পুশ ইনের মতো অপচেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে  নিয়মিত উঠান বৈঠক, মাইকিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছে। 

সূত্র জানায়, স্থানীয় চা শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুশ ইন প্রতিরোধ ও এ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন। এই ঐক্যবদ্ধ  হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পুশ ইন বা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারেনি।

গত ২৭ ও ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ রাতে ও ভোরে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার তেলিয়াপাড়া এবং গুইবিল সীমান্ত এলাকায় রাতে নিরাপত্তা লাইট বন্ধ করে একাধিক পুশ ইনের অপচেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকাবাসীর সতর্ক অবস্থান ও তথ্যের ভিত্তিতে টহলদল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়।

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জ সীমান্তে আমরা একা নই। বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্থানীয় কৃষক, চা শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সবাইকে নিয়ে একটি অটুট সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছি। 

 ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক আরো বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় সব শ্রেণি পেশার মানুষের এই দেশপ্রেমই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্তের প্রতিইঞ্চি পাহারা দিচ্ছি। যেকোনো পুশ ইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’