পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্যই এবার বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার জন্য উল্টো সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের একটি পডকাস্টে নিজের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আভিয়ানকে নিয়ে একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন দিয়া।
সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। অনেক নেটিজেন দিয়া ও তাঁর ছেলের আচরণকে ‘অহংকারী’ এবং ‘শ্রেণিবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পডকাস্টে দিয়া জানান, একদিন তাঁদের বাসায় ডাবের পানি পৌঁছে দিতে আসেন একজন বিক্রেতা। কিন্তু ডাবগুলো প্লাস্টিকের ব্যাগে এবং সঙ্গে প্লাস্টিকের স্ট্র দেখে তিনি বিরক্ত হন।
সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে দিয়া বলেন, দরজা খুলে তাঁর ছেলে আভিয়ান কোমরে হাত দিয়ে বিক্রেতার সামনে দাঁড়িয়ে বলে, তাঁদের বাসায় প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় না, তাই তিনি যেন প্লাস্টিকের ব্যাগ ও স্ট্র নিয়ে চলে যান।
পডকাস্টে উপস্থিত সোহা আলি খান আভিয়ানের এই আচরণের প্রশংসা করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন অনেকেই।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে এতটাই সচেতন হলে ডেলিভারি কর্মীকে বিব্রত না করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
তাঁদের মতে, চাইলে নিজেরাই পাত্র নিয়ে গিয়ে ডাব কিনে আনতে পারতেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, জীবিকার তাগিদে কাজ করা একজন ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে এমন আচরণ অসম্মানজনক।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি সমাজের দুই ভিন্ন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে এমন এক শিশু, যে বাস্তব জীবনের সংগ্রাম সম্পর্কে ধারণা রাখে না; অন্যদিকে একজন শ্রমজীবী মানুষ, যার প্রতিদিনের লড়াই কেবল জীবিকা নির্বাহের জন্য।
আবার অনেকে পুরো ঘটনাকে দিয়া মির্জার ‘এলিট মানসিকতার’ প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, পরিবেশ রক্ষার বার্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই বার্তা দিতে গিয়ে কোনো শ্রমজীবী মানুষকে বিব্রত বা ছোট করা গ্রহণযোগ্য নয়।




