• ই-পেপার

ভেটেরিনারি সার্জন নেই ছয় বছর, চিকিৎসা দেন কম্পাউন্ডার

  • ১১টি পদের মধ্যে ছয়টি পদই শূন্য
  • দ্রুত পদক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের

পঞ্চগড়ে দেশ সেরা দুই শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে দেশ সেরা দুই শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা
ছবি: কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড় জেলা শহরের ডোকরোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেশ সেরা দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নাবিহা নাসরিন আঈদা সাধারণ জ্ঞান বিভাগের কুইজে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান ও সাদমান সাদিক বাংলা বিভাগে কুইজে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রেস্ট ও ফুলের মালা পড়িয়ে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই সাথে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পুরষ্কার জয়ী আরো তিন শিক্ষার্থীকেও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল আজাদ, পঞ্চগড় চেম্বারের সাবেক সহসভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক, সাবেক কাউন্সিলর ওসমান গণি বাবুয়া, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রতিবুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার সেন।

এমন আয়োজনে উচ্ছসিত শিক্ষার্থীরা। প্রান্তিক জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে পুরষ্কার ছিনিয়ে আনা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য উদাহরণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

পথকুকুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, ঘাতক গ্রেপ্তার

বগুড়া প্রতিনিধি
পথকুকুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, ঘাতক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

বগুড়া মহানগরে কানছগাড়ী এলাকায় একটি পথকুকুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. স্বপন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক বার্মিজ টিপ চাকু উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া মহানগরের বকসিবাজার এলাকার ১ নম্বর (মেইন) গেট সংলগ্ন ঢালাই সড়কে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া সদর শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন জানতে পারেন যে, বগুড়া মহানগরের কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের গলিতে একটি কুকুর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তিনি স্থানীয় দুই ব্যক্তি এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে সাদা-কালো রঙের আহত কুকুরটিকে উদ্ধার করেন।

পরবর্তীতে কুকুরটিকে দ্রুত জলেশ্বরীতলার ডা. আকাশ পেটস কনসাল্টেন্সিতে নেওয়া হয়। সেখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, বগুড়া সদর এবং জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত টিমের তত্ত্বাবধানে কুকুরটিকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা কার্যক্রমে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. লুৎফর রহমান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম অংশ নেন।

ঘটনাটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, কানছগাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. স্বপন ওই কুকুরটির ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছেন।

এ ঘটনায় মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে সোমবার পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৪২৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার দেহ তল্লাশি করে একটি বার্মিজ টিপ চাকু উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অস্ত্র আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, ‘নিরীহ প্রাণীর ওপর এমন বর্বরতা বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এমন বর্বরতার সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

বদলি আদেশের পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ইউএনও খসরুর

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
বদলি আদেশের পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ইউএনও খসরুর
সংগৃহীত ছবি

বদলি আদেশের পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না তেঁতুলিয়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর। এবার তার বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার নাম করে অসহায় নারীর কাছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

রেহেনা বেগম উর্মি নামে তেঁতুলিয়ার ওই নারী তার ছেলের চাকরি জন্য ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ইউএনওর কাছে চাকরি বা টাকা ফেরত চাওয়ার এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই নারী লাইভে এসে ইউএনওর কাছে টাকা ফেরত চান। এ বিষয়ে গত সোমবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আফরোজ শাহীন খসরু। 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার মাগুরা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম উর্মি তার ছেলের কর্মসংস্থানের জন্য তেঁতুলিয়ার সাবেক ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুর কাছে গেলে তিনি তাকে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে চাকরি দিতে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। ছেলের কর্মসংস্থানের আশায় ধারদেনা করে ওই নারী গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম দফায় ইউএনওকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। চাকরির পর বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল তার। কিন্তু টাকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দিতে তিনি গড়িমসি করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

এরই মধ্যে গত ২৪ জুন ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে তেঁতুলিয়া থেকে তারাগঞ্জ উপজেলায় বদলি করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়। এতে ওই নারী আরও চিন্তিত হয়ে পড়েন। সোমবার দুপুরে তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে থাকা অবস্থায় তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে টাকা চাইতে দেখা যায়। তাকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায় ‘আপনি আমাকে জেলে দেন, ফাঁসি দেন কিন্তু আমার টাকাটা ফেরত দেন, আমির গরিব মানুষ। আমি টাকার চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। আপনি হয় চাকরি দেন না হয় টাকা ফেরত দেন।’ এ সময় উপজেলা প্রশাসনের লোকজন তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম বলেন, অভিযোগ করায় আমাকে মোবাইল কোর্টে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, আমি ওই নারীকে চিনি না। তার সঙ্গে কোনো দিন দেখা হয়নি। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে সেটি বাতিল হয়েছে। সেখানে তার ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই।

এর আগে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকল্পপ্রতি ১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়াসহ অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এদিকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে উপজেলার প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা উপজেলা পরিষদের সামনে ইউএনওর পক্ষে মানববন্ধনে অংশ নেন।

নেত্রকোনা

ধলাই নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ শিশু, ২০ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
ধলাই নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ শিশু, ২০ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে হোসাইন (১০) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়ার দক্ষিণপাড়া গ্রামের রুক্কু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে হোসাইন (১০), সাইমন (৬) ও আরিয়ান (১০) খেলার ছলে কালডোয়ার পশ্চিমপাড়া এলাকার ধলাই নদীতে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে সাইমনের বড় বোন আখি (১৪) ভাইকে খুঁজতে এসে নদীতে ভাসতে দেখে পানিতে নেমে সাইমন ও আরিয়ানকে উদ্ধার করে। তবে হোসাইন নিখোঁজ থাকে। খবর পেয়ে পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং ময়মনসিংহ থেকে আসা ডুবুরি দল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করেও হোসাইনের সন্ধান না পাওয়ায় সন্ধ্যায় অভিযান স্থগিত করা হয়। 

মঙ্গলবার পুনরায় সকালে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্বজনেরা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় হোসাইনের মরদেহ দেখতে পান তার বাবা রুক্কু মিয়া। পরে তিনি মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।