রেস্টুরেন্টে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন প্রেমিক-প্রেমিকা। এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান প্রেমিক মো. আবদুল্লাহ। এ ঘটনায় আহত হন প্রেমিকা সুমা আক্তারও। মৃত আব্দুল্লাহর পরিবারের দাবি, প্রেমিকা সুমা আক্তার প্রেমিক আব্দুল্লাহকে খুন করেছে।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যার দিকে গাজীপুর মহানগরীর রাজেন্দ্রপুর এলাকার জঙ্গলের গল্প রির্সোটের ভেতর এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে দুজন তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আব্দুল্লাহ, আহত হন সুমাও। পরে সুমাকে উদ্ধার গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
মৃত মো. আব্দুল্লাহ (২৬) গাজীপুর সদর উপজেলার পানিশাইল এলাকার অটোচালক শাহীন আলমের ছেলে। সুমা আক্তার (২০) একই উপজেলার পিরুজালী গ্রামের মো. সামসুদ্দিনের মেয়ে। তারা পরস্পর মামাতো ফুফাতো ভাইবোন।
আব্দুল্লাহর খালাতো ভাই মো. রেজাউল করিম বলেন, সুমার আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল। বর্তমানে সে স্থানীয় একটি সুপারশপে কাজ করতেন। আর মৃত আব্দুল্লাহ সৌদি আরব থাকতেন। তিন মাস এগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন তিনি। ৫ দিন পর তার সৌদি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
করিম জানান, বাড়িতে আসার পর ফুফাতো বোন সুমার সঙ্গে আব্দুল্লাহর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে আব্দুল্লাহ জানতে পারে কয়েকমাস আগে সুপারশপের এক সহকর্মীর সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল তার প্রেমিকা। সুমা বিষয়টি অস্বীকার করে সৌদি ফিরে যাওয়ার আগেই বিয়ের জন্য আব্দুল্লাহকে চাপ দেয়। কিন্তু বিয়েতে রাজি না হলে ২০-২৫ দিন আগে সুইচ গিয়ার চাকু বের করে আব্দুল্লাহকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল সুমি। বিষয়টি আব্দুল্লাহ তার মা-বাবাকেও জানিয়েছিল। এরপর থেকেই সুমাকে এড়িয়ে চলতেন আব্দুল্লাহ।
আব্দুল্লাহর খালাতো ভাই আরো জানান, রবিবার সকালে মোবাইল ফোনে আব্দুল্লাহকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় সুমা। সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহ মৃত্যুর খবর পান তারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের পাশে রক্তাক্ত সুইচ গিয়ার পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরে একাধিক আঘাত এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। পুলিশ আব্দুল্লাহর পরিবারকে জানিয়েছিল, আব্দুল্লাহ সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সুমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নিজের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমাদের ধারণা সুমি নিজের কাছে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে আব্দুল্লাহকে হত্যা করে ঘটনার দায় এড়াতে নিজেই নিজের শরীরে আঘাত করেছেন। তা ছাড়া সুমির শরীরের আঘাত ততটা গুরুতর নয়।
নিহতের বাবা শাহীন আলম বলেন, সুমা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। কয়েকদিন আগেও সে একই চাকু বের করে আব্দুল্লাহকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। এ ঘটনায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আব্দুল্লাহ সঙ্গে সুমার প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। শনিবার তারা জঙ্গলের গল্প রির্সোটে ঘুরতে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ও তর্ক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এরপরই এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




