• ই-পেপার

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

  • বাড়ছে সাইবার অপরাধ

কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ

কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান

একসময় দেখা গেছে, বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজে ক্রেতাদের চোখ জ্বালা করত, দাম ছিল চড়া। সেই পেঁয়াজ এবার দেশে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদিত হয়েছে। দামও কমেছে। বলা হচ্ছে, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে দেশ, যা অত্যন্ত আশা-জাগানিয়া খবর। কিন্তু একই সঙ্গে হতাশ হতে হয়, যখন দেখা যায় পেঁয়াজ চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, বেশির ভাগ পেঁয়াজ চাষি তাঁদের উৎপাদন খরচের অর্ধেকও তুলতে পারছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে এবার সর্বোচ্চ পরিমাণ পেঁয়াজ ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। এর পরও স্বস্তিতে নেই তাঁরা। জানা গেছে, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদন খরচের অর্ধেকের কম দামে কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্ষোভ, হতাশায় অনেক কৃষককে পুকুর বা ডোবার পানিতে পেঁয়াজ ফেলে দিতেও দেখা গেছে। এবার প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়ও নেমে এসেছে। অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ টাকা। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, দেশ যখন পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে যাচ্ছে, সেই সময়ও এক শ্রেণির ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করছেন। এতে কৃষক আরো ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, তাঁরা ক্ষতির মুখে আছেন। এই অবস্থায় আমদানির কোনো সুযোগ নেই। আমরা পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নিতে চাইছি। তাঁর এই কথার বাস্তবায়ন জরুরি।

খবরে বলা হয়েছে, সারা বছরে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে এবার পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার টন। আরো আশার কথা শুনিয়েছেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাসউদুল হক ঝন্টু। তিনি জানান, পেঁয়াজের ২২টি ফেনোটাইপ নিয়ে গবেষণা চলছে এবং প্রতিবছর উৎপাদন ৭ থেকে ১২ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি বড় অংশই মুড়ি কাটা বা আগাম জাতের, যা বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায় না। এ ছাড়া মূল মৌসুমের হালি পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য দেশে আধুনিক বা নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার স্টোরেজ অনেক কম। এ কারণে প্রতিবছর উৎপাদিত পেঁয়াজের উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়।

আমরা মনে করি, রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন অনেক বড় অর্জন, তবে এই অর্জন ধরে রাখাও কম বড় চ্যালেঞ্জ নয়। এর জন্য প্রথমত কৃষক যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা দেখতে হবে। তাঁদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক স্টোরেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।

কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

মানবপাচারে দালালের দৌরাত্ম্য

কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

দেশে কর্মসংস্থানের সংকট, আকাশছোঁয়া বেকারত্ব ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে পড়ে অনেকে অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হন। তাঁদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয় না। অনেকে জিম্মিদশার শিকার হন। চলে জুলুম-নির্যাতন। আবার চাইলে বাড়িও ফেরা যায় না। সে ক্ষেত্রেও লাখ লাখ টাকার মামলা। এভাবে বহু পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে।

কালের কণ্ঠের খবরে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়ায় গিয়ে হাজারো বাংলাদেশি ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাঁদের চাকরির কথা বলে নিয়ে যাওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের বাধ্য করা হয় প্রতারণার কাজে। এমনই এক ভুক্তভোগী নোয়াখালীর আব্দুল্লাহ আল শাকিল গত ফেব্রুয়ারিতে দালালদের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় যান। তাঁকেও এক স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছ থেকে নিয়ে দুই লাখ টাকা পরিশোধের পর কোনো রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে দেশে ফিরেছেন। আরেক খবরে দেখা গেছে, রাজবাড়ী জেলার আলী হাসান সোহেল অটোরিকশা চালাতেন। জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে কষ্টের টাকা দিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। কথা ছিল, মাসে ৬০ হাজার রুবলে নির্মাণকাজ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, নামমাত্র ট্রেনিং দিয়ে তাঁকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। ড্রোন হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেল। ভিডিও কলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন তিনি। সোহেলের মতো আরো অনেক বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এটি ঠিক যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে যাঁরা বৈধ পথে বিদেশে যান, তাঁরা প্রতারণার শিকার হন না। কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল দেশের বাস্তবতা হলো, বহু লোক দালালদের কথা বিশ্বাস করেন বা ভুঁইফোড় এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যান। অনেকে সরকারি দপ্তরের নিয়ম-কানুন বোঝেন নামূলত দালালরা তাঁদেরই টার্গেট করে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবপাচার ও প্রতারণা প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে দালালচক্রের বিরুদ্ধে শাস্তির নজির কম। এ কারণেও দালালদের দৌরাত্ম্য কমছে না।

দেশের মানুষ জীবিকার তাগিদে ভিটামাটি বিক্রি করে বিদেশে যেতে চান, তাঁরা যেন প্রতারণার শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য দালালচক্রের অপতৎপরতা বন্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিএমইটির পরিষেবা যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছানো যায়, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতন প্রয়াসও।

আসল পরিশোধে ঋণমুক্তি

উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ

আসল পরিশোধে ঋণমুক্তি

আধুনিক অর্থনীতির গতিশীলতা বহুলাংশেই নির্ভরশীল সুস্থ-সবল ব্যাংকিং খাতের ওপর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে দেশের ব্যাংক খাতের অবস্থা ভালো নয়। আকাশচুম্বী খেলাপি ঋণের কারণে বেশির ভাগ ব্যাংকের নতুন ঋণ প্রদানের সক্ষমতা কমে গেছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। আবার অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো চাইলে সুদ বাদ দিয়ে ঋণ বাবদ প্রদত্ত আসল অর্থ ফেরত নিয়ে খেলাপি ঋণ কমাতে পারবে।

কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করছেন। করোনা মহামারির ভয়াবহ সময়ে টোটাল লকডাউনের মতো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। এর পরপরই শুরু হয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ এখনো চলছে। সর্বশেষ ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশকে ব্যাপকভাবে নাড়া দেয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার বিপরীতে ডলারের দর বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হয় অনেক ব্যবসায়ীকে। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক ব্যবসায়ী ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছেন। তাঁদের জন্যও এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে। সুদ ছাড়াই আসল ঋণ শোধ করা গেলে তাঁরা যেমন ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন, তেমনি নতুন করে ব্যবসায় গতি ফেরানোর পরিকল্পনা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যাঁরা বিশেষ পুনঃ তফসিল সুবিধা পেয়েছেন, তাঁরাও এই সুদ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। মন্দ ঋণ চিরতরে মুছে ফেলে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট সাফসুতরো করতে এবং খেলাপিদের খেলাপি তকমা থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন কৌশল নিয়ে এসেছে বলে মত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। নতুন সার্কুলারের আওতায় খেলাপিরা শুধু ঋণের আসল টাকা পরিশোধ করে এককালীন নিষ্পত্তি করার সুযোগ পাবেন; যার অর্থ, তাঁদের কোনো সুদ দিতে হবে না। তবে এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সুদ মওকুফের সুযোগ দিয়েছে মাত্র, কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়নি। এক্সিট পলিসি অনুযায়ী, যেকোনো ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণ কমাতে চাইলে এই সুযোগ নিতে পারে। আবার না-ও নিতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। কিন্তু এর বিপরীতে আরোপিত ও অনারোপিত সুদের পরিমাণ কত, তা বাংলাদেশ ব্যাংকও জানে না। কারণ এমন কোনো হিসাব ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করে না বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ৩০ জুন মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে জানান, উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে খেলাপি ঋণ কমানো অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে খেলাপি ঋণের উচ্চহার ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ সফল হবে। ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের স্থবিরতার কারণ হয়ে ওঠা খেলাপি ঋণ থেকে ব্যাংকগুলোকে মুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার করতে হবে।

কার্যকর ব্যবস্থা নিন

গ্যাসসংকটে ধুঁকছে শিল্প খাত

কার্যকর ব্যবস্থা নিন

দেশের শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট তীব্র। দৈনিক ঘাটতি থেকে যাচ্ছে প্রায় এক হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সব প্রক্রিয়া শেষ করে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়ে বসে আছে শত শত প্রতিষ্ঠান, অথচ গ্যাসের সংযোগ মিলছে না। এর মধ্যে শিল্প খাতে অনেক নতুন সংযোগের আবেদনও জমা পড়ছে। এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তথা গোটা অর্থনীতিতেই।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫০০। কিন্তু চার-পাঁচ বছরেও তারা গ্যাসের সংযোগ পায়নি। এতে উৎপাদন শুরু করতে না পারায় উদ্যোক্তাদের মাথার ওপর ব্যাংকঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ অন্যান্য আর্থিক চাপ বেড়েই চলছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারের অধিকারপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও গ্যাসের আকাল। দেশের শিল্পায়নে গতি ফেরাতে গড়ে তোলা এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করেও গ্যাস সংযোগের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না। বলা বাহুল্য, এতে যে লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছিল, সেটিই পূরণ হচ্ছে না। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সার কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না।

সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও বলা হয়, গত চার-পাঁচ বছরে শিল্পে কোনো গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়নি। এদিকে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ডিমান্ড নোট পরিশোধ করা প্রায় ৪৯০টি প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের এই সংকট রাতারাতি তৈরি হয়নি। এটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে অচলাবস্থা এবং আমদানীকৃত এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতারই ফল। অথচ শিল্প মালিকরা বারবার গ্যাসের দাম বাড়াতে সম্মত হয়েছেন এই শর্তে যে তাঁরা নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ পাবেন। কিন্তু চড়া দাম দেওয়ার পরও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না। বর্তমানে দেশে বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা চলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ না করা গেলে সংকট আরো প্রকট হবে।

আমরা মনে করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্যাসসংকটকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসবে। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে।