• ই-পেপার

হরমুজে নির্ধারিত পথ ছাড়লেই ‘কঠোর জবাব’, সতর্ক করল ইরান

খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে
ছবি : রয়টার্স

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ বহনকারী কফিনটি কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া ঠিক সেই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং’ (আইআরআইবি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, একটি অঘোষিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ নেতা খামেনির মরদেহটি ঠিক সেই স্থানেই আনা হয়েছে, যেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

এদিকে সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। তাদের তথ্য মতে, রাজধানী তেহরানে ৪ ও ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বহু-দিনব্যাপী এই গণবিদায় অনুষ্ঠানে রেকর্ডসংখ্যক—প্রায় ২ কোটি পর্যন্ত মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে জানানো হয়, জাতিসংঘের মহাসচিব ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ফোনালাপে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির শাহাদাতবরণে শোক প্রকাশের পাশাপাশি তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি, লেবাননের যুদ্ধবিরতি এবং চলমান নানান আলোচনা নিয়ে কথা বলেন।

খামেনির স্মরণে ঘানায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকেও বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে তেহরানে তৎকালীন ঘানার রাষ্ট্রপতি জন ড্রামানি মাহামা ও আয়াতুল্লাহ খামেনির মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকের কথা স্মরণ করে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়। এক্সের একটি পোস্টে দূতাবাস উল্লেখ করেছে, তৎকালীন বৈঠকে খামেনি কোনো তেল চুক্তি বা বাণিজ্য স্মারককিপি নিয়ে কথা বলেননি; বরং আফ্রিকায় কী ঘটছে—তা নিয়েই তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন, জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন, জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী
সংগৃহীত ছবি

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আট দিন পর এক নিরাপত্তারক্ষীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দিনের এই কঠিন উদ্ধার অভিযানকে অনেকেই আশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। তার বয়স ৪৩ বছর। গত ২৪ জুন উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিং সেন্টার ধসে পড়ার পর থেকেই তিনি ভবনের বেইসমেন্টে আটকা ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ধুলাবালিতে ঢাকা অবস্থায় তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়। উদ্ধারকর্মীরা তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যান। এ সময় তিনি অক্সিজেন মাস্ক পরা ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকর্মীরা হাততালি দিয়ে এবং উল্লাস করে এই সফল উদ্ধার অভিযান উদ্‌যাপন করেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, গত সপ্তাহান্তে প্রথমবারের মতো তারা গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এরপর তাকে নিরাপদে বের করে আনতে টানা ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করেন তারা। উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়া ভবনের ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে আটকে পড়া ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে হয়েছে। এ সময় অত্যন্ত অস্থিতিশীল কাঠামো, মুষলধারে বৃষ্টি এবং একটানা আফটারশক উদ্ধারকাজকে আরো কঠিন করে তোলে।

গিল ফ্লোরেসকে উদ্ধার করার পর বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল আনন্দ প্রকাশ করে। স্ট্রেচার বহন করা চিলির এক উদ্ধারকর্মী মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কোস্টারিকার রেড ক্রসের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। অনেকেই হাততালি দিয়ে উদ্ধারকর্মীদের অভিনন্দন জানান। কোস্টারিকার রেড ক্রসের উদ্ধারকর্মী মিনিয়ার কোলিয়াদো বলেন, প্রথমবার গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তিনি জীবিত আছেন—এ কথা যেন তার স্ত্রীকে না জানানো হয়। কারণ, শেষ পর্যন্ত যদি তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে তার পরিবার আরো বেশি কষ্ট পাবে। তবে কোলিয়াদো বলেন, উদ্ধারকারী দল শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কোনো অবস্থাতেই তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচে ফেলে রাখা হবে না। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় নিয়মিত গিল ফ্লোরেসের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি দীর্ঘ সময় জীবিত থাকতে পেরেছেন। সাধারণভাবে কোনো দুর্যোগে আটকে পড়া ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে আট দিন পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা বিরল ঘটনা।

গিল ফ্লোরেস ওই শপিং সেন্টারে রাতের শিফটের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। প্রথম ভূমিকম্পের সময় তিনি নিজের ছোট নিরাপত্তাকক্ষে ছিলেন। ভবনের বড় অংশ ধসে পড়লেও তার কক্ষটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি। এতে তিনি ধ্বংসস্তূপের চাপ থেকে রক্ষা পান এবং সেখানে পর্যাপ্ত বাতাসও ছিল। কোস্টারিকার রেড ক্রসের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল প্রথম তার জীবিত থাকার লক্ষণ শনাক্ত করে। পরে রবিবার তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। গিল ফ্লোরেসের স্ত্রী গুসবিমার গনসালেস বলেন, কয়েক দিন ধরে তিনি স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা জানালেন যে তিনি জীবিত আছেন, তখন নতুন করে আশা ফিরে পান। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাদের বয়স আট ও দশ বছর।

চিলির দমকল বাহিনীর নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীদল পুরো অভিযান পরিচালনা করে। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারীদল দিন-রাত কাজ করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস এই সফল উদ্ধার অভিযানের প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, একটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মানবতার সবচেয়ে সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। তিনি দেশি-বিদেশি সব উদ্ধারকর্মীকে ধন্যবাদ জানান। উদ্ধারকাজে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা একটি দূরনিয়ন্ত্রিত লম্বা ক্যামেরার মাধ্যমে সারাক্ষণ গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। অভিযানের শেষ তিন দিনে একটি সরু ছিদ্র দিয়ে তাকে পানি ও তরল পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এতে তার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়নি। চিলির অভিজ্ঞ দমকলকর্মী মারিয়া পাস কাম্পোস পুরো সময় গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে কথা বলে তাকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন। বিশেষ করে উদ্ধারের শেষ কয়েক ঘণ্টায় তিনি তাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করেন। উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সময় কাটানোর জন্য গিল ফ্লোরেস ছবি আঁকছেন। পরে মারিয়া পাস কাম্পোস তাকে সুরক্ষার চশমা পরে থাকতে বলেন, যাতে ওপর থেকে পড়া ধুলাবালি বা কংক্রিটের ছোট টুকরো তার চোখে না লাগে।

উল্লেখ্য যে, ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া (ডাবলেট) ভূমিকম্পে ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত, ১১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি আহত এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গেছে। এতে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ কোটি (৭ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কয়েক হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। অগভীর কেন্দ্রে হওয়া এই ভূমিকম্প রিখটার স্কেলে যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী কম্পনে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দেশটির উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কারণে দেশটিতে উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য, যেখানে আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস।

ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ শেষ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক
ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ শেষ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ছবি : রয়টার্স

একটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরীর (ক্রুজ শিপ) যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অবশেষে শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজে আক্রান্ত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সর্বশেষ ব্যক্তিটি তার কোয়ারেন্টাইন পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। পরীক্ষায় তার করোনা বা হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি এবং তিনি সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেছেন। গত ২৫ মে-র পর থেকে আর কোনো নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।

ডব্লিউএইচও জানায়, এই প্রাদুর্ভাবে মোট ১৩ জন যাত্রী ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’, যা হান্টাভাইরাসের একটি অত্যন্ত বিরল স্ট্রেইন (ধরন)

‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের প্রমোদতরীটি ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রথম যে দুজন যাত্রী আক্রান্ত হয়েছিলেন, তারা আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়ে ভ্রমণ করেছিলেন। ওই সফরের কিছু এলাকায় হান্টাভাইরাস বহনকারী বিশেষ প্রজাতির ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল। সেখান থেকেই মূলত ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ানোর পর জাহাজের ভেতর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা মানুষের মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে থাকতে পারে। এই প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ৩৩টি দেশ ও অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ ৬৫০ জনেরও বেশি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে শনাক্ত করে কঠোর নজরদারির আওতায় এনেছিল। যেসব যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য আগে নামানো হয়নি, তারা মে মাসে স্পেনের টেনেরিফে জাহাজ থেকে নামেন এবং সেখান থেকে বিমানে করে নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।

ডব্লিউএইচও-এর চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ডায়ানা রোজাস আলভারেজ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, অ্যান্ডিস ভাইরাসসহ অন্যান্য হান্টাভাইরাসগুলো এখনো দক্ষিণ আমেরিকা এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকার জন্য জনস্বাস্থ্যের বড় ঝুঁকি। আমাদের কাজ হলো এই ভাইরাসের ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখা এবং এর যেকোনো ধরনের বিস্তার মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকা।

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মূত্র, মল বা লালা থেকে ছড়ায়। বাতাসে মিশে থাকা এই ভাইরাস কণা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মানুষ সংক্রমিত হয়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বর, অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশি ও পেটেব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে (কখনো এক মাসেরও বেশি সময় পর) এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এই দীর্ঘ সুপ্তাবস্থার কারণেই যাত্রীদের দীর্ঘদিন আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল।

ইরানে টানা ৩ দিনের হামলা, রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে টানা ৩ দিনের হামলা, রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা তিন রাত ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলায় বারবার ইরানের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব দাবি করেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তার ভাষায়, ইরানের কোনো কার্যকর রাডার এখন আর নেই। তিনি বলেন, ইরান নতুন করে একটি আধুনিক রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছিল। তবে গত সপ্তাহে সেটিও ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইরানকে আবার শুরু থেকে নতুন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরো সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নৌঅভিযান চালিয়েছে, সেটি শুধু অবরোধ ছিল না, বরং ‘ইস্পাতের দেয়াল’ ছিল। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের অভিযানের কারণে একটি জাহাজও ইরানে যেতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প আরো দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে রয়েছে। তার ভাষায়, দেশটির মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ইরান এখন কার্যত কোনো আয় করতে পারছে না। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে খাদ্যপণ্য রপ্তানি করতে চায়। তিনি বলেন, ইরানের খাদ্যশস্যের প্রয়োজন। দেশটির ভুট্টা, গম ও সয়াবিন দরকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরাই ইরানে রপ্তানি করতে পারবেন। ইরান সংঘাতের পর আগের তুলনায় আরো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে—এমন কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চার মাস আগের তুলনায় এখন ইরান ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি এ দাবির সঙ্গে একমত নন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের অনেকেই আর জীবিত নেই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির অনেক নেতাও নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি বেশির ভাগ জেনারেলও নেই বলে দাবি করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করার কারণও ব্যাখ্যা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে প্রণালিটি বন্ধ করে দিতে পারত। কিন্তু তা করা হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ থেকে ২১ শতাংশ বন্ধ হয়ে যেত। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারত এবং বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিত। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিক দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপদে পার করে দেয় বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রতি রাতে জাহাজগুলোকে এমন একটি পথ দিয়ে নেওয়া হতো, যা ইরানের অস্ত্রের অবস্থান থেকে সবচেয়ে দূরে ছিল। নিরাপত্তার কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে জাহাজগুলো কোনো আলো না জ্বালিয়ে উপকূল ঘেঁষে চলাচল করেছে বলেও জানান তিনি।  চারপাশে ছিল সম্পূর্ণ নীরবতা। ফলে নিরাপদেই জাহাজগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প আরো বলেন, এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ২২টি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি পার করে দেয়। তার মতে, এসব জাহাজে বিপুলপরিমাণ তেল ছিল।