• ই-পেপার

জুটি বাঁধছে পাকিস্তান-সৌদি আরব, স্টেডিয়াম নির্মাণে সমঝোতা স্মারক সই

মেসিই দলকে শেষ ১৬-তে নিয়ে যাবেন

পিটার বাটলার
মেসিই দলকে শেষ ১৬-তে নিয়ে যাবেন
অনুশীলনের সময় মেসি। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। যার প্রমাণ আমরা এরই মধ্যে পেয়েছিও।

জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস বিদায় নিয়েছে। ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলকে জিততে হয়েছে অনেক ঘাম ঝরিয়ে। এখানে গ্রুপ পর্বের হিসাব-নিকাশের খুব একটা মূল্য থাকে না। একটি ভুল, একটি অসাধারণ মুহূর্ত কিংবা একজন বিশেষ খেলোয়াড়ই বদলে দিতে পারেন পুরো ম্যাচের ভাগ্য।

তাই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যতই শক্তিশালী হোক, কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের সতর্ক থাকতেই হবে।
মেসিই দলকে শেষ ১৬-তে নিয়ে যাবেন এই বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। তারা হয়তো তারকাসমৃদ্ধ দল নয়, কিন্তু দারুণ সুসংগঠিত। নিজেদের সীমাবদ্ধতা যেমন জানে, তেমনি শক্তির জায়গাগুলোও সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে পারে।

সবচেয়ে বড় বিষয়, তারা কোনো প্রতিপক্ষকেই ভয় পায় না। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে যেভাবে লড়েছে, তাতেই প্রমাণিত হয়েছে তারা শুধু বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসেনি, এসেছে নতুন গল্প লিখতে। তবে আর্জেন্টিনা পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের প্রতিপক্ষ। এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু লিওনেল মেসি নন, বরং পুরো দলের বোঝাপড়া ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। কখন আক্রমণের গতি বাড়াতে হবে, কখন বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলতে হবে, আবার কখন ছন্দ বদলে হঠাৎ আঘাত হানতে হবে—এসব তারা অসাধারণ দক্ষতায় করতে পারে। নক আউট পর্বে এই পরিণত মানসিকতাই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।

স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে মেসির দিকে। বয়স বাড়লেও তাঁর ফুটবল মস্তিষ্কের তীক্ষতা একটুও কমেনি। তিনি হয়তো আগের মতো পুরো ম্যাচে দৌড়ে বেড়ান না, কিন্তু কখন কোথায় অবস্থান নিতে হবে, কোন পাসটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে কিংবা ঠিক কোন মুহূর্তে নিজেই গোলের সুযোগ তৈরি করবেন—এসব বিষয়ে এখনো বিশ্বের সেরাদের একজন। এমন একজন খেলোয়াড়কে পুরো ৯০ মিনিট নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রায় অসম্ভব। আমার ধারণা, কেপ ভার্দে শুরু থেকেই নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজিয়ে খেলবে। তারা ম্যাচের গতি কমিয়ে আনতে চাইবে এবং যতটা সম্ভব আর্জেন্টিনাকে হতাশ করার চেষ্টা করবে। স্কোরলাইন যতক্ষণ সমতায় থাকবে, তাদের আত্মবিশ্বাসও তত বাড়বে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, মাত্র এক মুহূর্তের মনোযোগের ঘাটতিও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় পরীক্ষাই হবে ধৈর্য ধরে খেলা। অযথা তাড়াহুড়া না করে যদি তারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে পারে, তাহলে সুযোগ অবশ্যই তৈরি হবে। কারণ এই দলটি জানে কিভাবে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করতে হয় এবং কোন মুহূর্তে আঘাত হানতে হয়। আমি কেপ ভার্দেকে মোটেও অবমূল্যায়ন করছি না। আমার বিশ্বাস, তারা আর্জেন্টিনাকে কঠিন লড়াই ছুড়ে দেবে এবং ম্যাচের একটা বড় সময় পর্যন্ত চাপে রাখতেও সক্ষম হবে। কিন্তু নক আউট পর্বে অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখে। সেই অভিজ্ঞতা, স্কোয়াডের গভীরতা এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতায় আর্জেন্টিনা অনেকটাই এগিয়ে।

বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব এমন এক মঞ্চ, যেখানে কিংবদন্তিরা নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করেন। আমার বিশ্বাস, এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনার ভাগ্য গড়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারিগর হবেন লিওনেল মেসি। তাঁর সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সহজাত ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দের প্রতিরোধ ভেঙে আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলোর টিকিট এনে দেবে।

৮৮ বছর পর নকআউটে জয়, শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
৮৮ বছর পর নকআউটে জয়, শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে এনদোয়ের (মাঝে) উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

ফাঁকা গোলবার পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে মিস করলেন ফাবিয়ান রেইডার। ৮১ মিনিটে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সুযোগটা মিস করলেও তাতে অবশ্য জয় পেতে সমস্যা হয়নি সুইজারল্যান্ডের। কেননা তার আগেই ২-০ গোলের লিড পায় সুইসরা।

সেই ব্যবধানেই পরে আলজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা দলটির হয়ে গোল দুটি করেছেন ব্রিল এমবোলো ও ড্যান এনদোয়ে। এতে করে ৮৮ বছর পর নকআউটে প্রথম জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। সর্বশেষ ১৯৩৮ বিশ্বকাপে নকআউটে জিতেছিল তারা।

ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচের ১০ মিনিটে গোল পায় সুইজারল্যান্ড। সতীর্থ জোহান মানজাম্বির পাসে ৬ গজ দূরত্ব থেকে গোলটি করতে ভুল করেননি এমবোলো। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল। এমবোলোর সেই গোলে পরে বিরতিতে যায় সুইজারল্যান্ড।

বিরতির পরপরেই লিড দ্বিগুণ করে সুইজারল্যান্ড। ৪৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে থেকে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন এনদোয়ে। বিপরীতে ব্যবধান কমানোর তেমন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি আলজেরিয়া। আর শেষ দিকে রেইডারের সেই অবিশ্বাস্য ভুল। গোলে শট নিলেও ঠিকমতো পাওয়ার দিতে না পারায় প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ধরে ফেলেন।

অবসরের বিষয়ে কী বললেন রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক
অবসরের বিষয়ে কী বললেন রোনালদো
অবসর নিয়ে এখন ভাবছেন না রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ভাইয়ের অবসর নিয়ে এমনি তথ্য দিয়েছেন পর্তুগিজ তারকার বোন কাতিয়া আভেইরো।

বিষয়টা নিশ্চিত হতেই রোনালদোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কবে অবসর নিচ্ছেন তিনি। উত্তরে যা বলেছেন তাতে বিশ্বকাপ শেষেই অবসর নিচ্ছেন না তিনি। তার মতে, হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না তিনি।

 

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এ ২-১ গোলের জয় পাওয়ার পর রোনালদো বলেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানোর ভবিষ্যৎ এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলব এবং তারপর সিদ্ধান্ত নেব। তাড়াহুড়ো করে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। এখন বিশ্রাম নেওয়ার এবং পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। টুর্নামেন্ট শেষে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেব, এখন নয়।’

এর আগে রোনালদোর বোন আভেইরো বলেন, “আমার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আমি বিদায়ের কথা বলতে পারি। আজই নয়, তবে আমার মনে হয় এটাই শেষ। আমি জাতীয় দলের কথা বলছি। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপই তার ‘লাস্ট ড্যান্স’।”

জোতাকে উৎসর্গ পর্তুগালের রোমাঞ্চকর জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
জোতাকে উৎসর্গ পর্তুগালের রোমাঞ্চকর জয়
জোতার জার্সি হাতে ফটোসেশন রোনালদোদের। ছবি : রয়টার্স

বেঁচে থাকলে আজ হয়তো টরন্টো থাকতেন ডিয়েগো জোতা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে সাক্ষী হতেন তিনিও। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে হচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-বেনার্দো সিলভাদের। 

আজকের দিনেই স্পেনের জামোরা প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন জোতা। মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার। সতীর্থকে হারানোর দিনে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে পর্তুগাল। 

রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর তাই জোতাকে ভুললেন না রোনালদোরা। ম্যাচ জয়ের পর তার জার্সি নম্বর ২১ হাতে নিয়ে পর্তুগালের সকলে একসঙ্গে ছবি তুললেন। জার্সিটা হাতে নিয়ে ছবি তোলার আগে রোনালদো গায়েও জড়িয়েছিলেন। সে সময় ‘সিআর সেভেনের’ চোখে চিকচিক করছিল জল। সেই ভেজা চোখেই আকাশের পানে চেয়ে সতীর্থকে স্মরণ করেন তিনি। 

 

পর্তুগালের হয়ে ৪৯ ম্যাচ খেলেছেন জোতা। করেছেন ১৪ গোল। ম্যাচে নামার আগেই সতীর্থর মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেছেন, ‘এটা ম্যাচের আগেই আমরা জানতাম। এটা সত্যিই আবেগঘন একটা মুহূর্ত ছিল। আজ জীবনের অদ্ভুত কাকতালীয় বিষয়টা নিয়ে দলের সবাই মিলে কথা বলছিলাম, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

জোতাকে অবশ্য বিশ্বকাপের শুরু থেকেই স্মরণ করছে পর্তুগাল। অন্যরা ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করলে পর্তুগিজরা তাকে নিয়ে ২৭ দলের স্কোয়াড সাজায়। জোতা সব সময় তাদের সঙ্গে আছে জানিয়ে জয়টা তাকে উৎসর্গ করেছেন রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘আমরা জানি সে আমাদের সঙ্গেই আছে। তাকে সবচেয়ে সুন্দর উপায়ে সম্মান জানানোর জন্য আজকের এই জয়টা খুবই দরকার ছিল।’

টরন্টোয় প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল পর্তুগাল। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার ইভান পেরিসিচের গোল পেনাল্টিতে শোধ করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন গঞ্জালো রামোস। এতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা।