• ই-পেপার

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক নয়্যার

জার্মানি ম্যাচে ভিএআরের সিদ্ধান্তে তুমুল বিতর্ক

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানি ম্যাচে ভিএআরের সিদ্ধান্তে তুমুল বিতর্ক
ছবি : রয়টার্স

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না চলতি বিশ্বকাপে। টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, ভিএআরের ‘যাঁতাকলে’ পড়ে দলগুলোর কপাল পোড়ার মিছিল ততই দীর্ঘ হচ্ছে। বিতর্কিত এই প্রযুক্তির সর্বশেষ নির্মম শিকার চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

রাউন্ড অব থার্টি টুর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানরা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষে টাইব্রেকারের ভাগ্যপরীক্ষায় প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ডাই মানশাফটদের। তবে এই ম্যাচ টাইব্রেকার পর্যন্ত গড়াতই না, যদি না ভিএআরের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে জার্মানির নিশ্চিত একটি গোল বাতিল করা হতো।

ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে। নাথানিয়েল ব্রাউনের দারুণ এক কর্নার কিক থেকে পেনাল্টি বক্সে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান জোনাথান তাহ। উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো জার্মান শিবির। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ডাগআউটে থাকা ভিএআর রুম থেকে রেফারির কানে আসে এক বার্তা। মাঠের রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউ (ওএফআর) করার জোর সুপারিশ করা হয়।

ভিএআর রেফারিদের দাবি ছিল, গোলটি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিলকে অবৈধভাবে ব্লক করা হয়েছিল। ভিএআর কক্ষের রিভিউ অনুযায়ী, জার্মানির ভাল্ডেমার আন্তন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাধা দেন, যার ফলে গোলরক্ষক বলটি সেভ করার সুযোগ পাননি। মনিটরে রিপ্লে দেখার পর ভিএআরের সেই মূল্যায়নের সঙ্গেই একমত হন মাঠের রেফারি। ফলে বাতিল হয়ে যায় জার্মানির গোলটি।

তবে প্রযুক্তির চোখ দিয়ে ফাউল খোঁজার চেষ্টা করা হলেও, খালি চোখে ও সাধারণ রিপ্লেতে বাস্তব চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পষ্ট দেখা গেছে, জার্মান ডিফেন্ডার আন্তনের পক্ষ থেকে গোলরক্ষককে ফাউল করার মতো কোনো উদ্দেশ্যমূলক বা অনৈতিক পদক্ষেপ ছিল না। উল্টো প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক নিজেই জার্মানির খেলোয়াড়ের দিকে ঘুরে যান এবং সামান্য গা ঘেঁষাঘেষি হতেই নাটকীয়ভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

বিবিসি স্পোর্টসে ওই বাতিল গোলের ব্যাপারে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন শিয়েরার।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটা কোনোভাবেই ফাউল নয়। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একেবারেই একমত নই। গোলরক্ষক নিজেও জানে, তার গায়ে সামান্য স্পর্শ লেগেছে। কিন্তু সে খুব সহজেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।’

শিয়েরার আরো বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছুটা সংস্পর্শ হয়েছে, কিন্তু এটি তো শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। ছয় গজের বক্সের আশপাশে ১৩–১৪ জন খেলোয়াড় ছিল। গোলরক্ষক জানে, শুধু সামান্য স্পর্শই লেগেছে। গোলকিপার পরিস্থিতিটাকে কাজে লাগিয়ে ফাউল আদায় করে নিয়েছে।’ 

শেষ ষোলোয় প্রতিপক্ষ হিসেবে কাকে পেল মরক্কো?

ক্রীড়া ডেস্ক
শেষ ষোলোয় প্রতিপক্ষ হিসেবে কাকে পেল মরক্কো?
ছবি : রয়টার্স

শ্বাসরুদ্ধকর, রোমাঞ্চকর আর টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে টাইব্রেকারে ডাচদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে মরক্কো।

এবার শেষ ষোলোর তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে বিশ্বকাপের স্বাগতিক কানাডাকে। সাউথ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষ ১৬ দলের কোটায় জায়গা করে নিয়েছে তারা।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মাঠে নামবে কানাডা-মরক্কো।

জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মঞ্চে পরাশক্তি জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে প্যারাগুয়ে। আর এই ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) দেশটির সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতায় থাকবে।

এক বিশেষ পুশ বার্তায় সোমবার রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট। সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ফুটবল দলের এই অভাবনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য যেন পুরো দেশবাসী একসঙ্গে উদযাপন করতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই এই বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মাঠের লড়াইয়ে এদিন স্নায়ুযুদ্ধের চরম পরীক্ষা দিতে হয়েছে প্যারাগুয়েকে। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় ছিল। এরপর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ু ধরে রেখে ৪-৩ ব্যবধানে শক্তিশালী জার্মানিকে স্তব্ধ করে দেয় প্যারাগুয়ে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পরপরই রাজপথে নেমে আসে দেশটির লাখো ফুটবলপ্রেমী। রাজধানীসহ দেশজুড়ে শুরু হয় বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাস।

কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ খেলছে প্যারাগুয়ে। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানিকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়াটা ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক। ফুটবলবোদ্ধারা এই জয়কে প্যারাগুয়ের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও গৌরবময় মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ তিনটি বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণার সাংবিধানিক এখতিয়ার রয়েছে। ফুটবলারদের এই ঐতিহাসিক কীর্তিকে সম্মান জানাতেই নিজের সেই আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে এই জাতীয় ছুটি ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। 
 

ডাচদের রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো

ক্রীড়া ডেস্ক
ডাচদের রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো
ছবি : রয়টার্স

শ্বাসরুদ্ধকর, রোমাঞ্চকর আর টানটান উত্তেজনা—ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এর চেয়ে দারুণ কোনো চিত্রনাট্য বোধহয় আর হতে পারত না। মরক্কো ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক চরম স্নায়ুযুদ্ধে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর, ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে ডাচদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে মরক্কো।

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তই ছিল নাটকীয়তায় ঠাসা। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে কোডি গাকপোর দুর্দান্ত এক গোলে লিড নিয়ে উল্লাসে মেতেছিল নেদারল্যান্ডস। ডাচ সমর্থকরা যখন জয়ের প্রহর গুনছিলেন, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে পাশার দান উল্টে দেন ইসা দিয়োপ। তার নাটকীয় গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো। এরপর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো দল জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যপরীক্ষা তথা টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারের শুরুটা অবশ্য নেদারল্যান্ডসের পক্ষেই ছিল। প্রথম শটেই লক্ষ্যভেদ করেন টেউন কুপমাইনার্স। অন্যদিকে মরক্কোর হয়ে প্রথম শট নিতে এসে হতাশ করেন নিল আল আইনাউই, তার শটটি প্রতিহত হয় ক্রসবারে লেগে। তবে ডাচদের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। জাস্টিন ক্লাইভার্টের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় মরক্কো। সুফিয়ান রাহিমির শট ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন হাত দিয়ে ছোঁয়ালেও বল জড়ায় জালে, সমতায় ফেরে মরক্কো।

এরপর ভাউট ভেগহর্স্ট ডাচদের হয়ে এবং তালবি মরক্কোর হয়ে গোল করলে রোমাঞ্চ আরও বাড়ে। তবে ডাচ ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বারের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ব্যাকফুটে চলে যায় নেদারল্যান্ডস। মরক্কোর সামনে সুযোগ ছিল লিড নেওয়ার, কিন্তু আশরাফ হাকিমিও মারেন পোস্টে!

ম্যাচে ফেরার এমন সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ডাচরা। ক্রাইভেন সামারভিলের শট বাম দিকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বনো।

সবশেষে মরক্কোর নায়ক হয়ে স্পট কিক নিতে আসেন ইসমাইল সাইবারি। কোটি ভক্তের চোখ তখন তার পায়ে। কোনো ভুল করেননি তিনি, নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়েই বুনো উল্লাসে মাতান পুরো দলকে। আর তাতেই ডাচদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে শেষ ষোলোর উল্লাসে মেতে ওঠে মরক্কো।