• ই-পেপার

তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিরল বৈঠক ইইউর

যুক্তরাষ্ট্রে লাইব্রেরিতে বন্দুক হামলা, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে লাইব্রেরিতে বন্দুক হামলা, নিহত ২
ছবি : সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার বুটে কাউন্টি লাইব্রেরির চিকো শাখায় বন্দুক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু পরে জরুরি ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায়। ফোনে লাইব্রেরির ভেতর থেকে গুলির শব্দ ও মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তারা লাইব্রেরিতে প্রবেশ করলে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে লাইব্রেরির বাইরে অবস্থান করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে দ্রুত আটক করে। চিকো পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং পুরো সম্প্রদায়ের জন্য গভীর শোকের বিষয়।

ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে লাইব্রেরির আশপাশের সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ভেতরে থাকা লোকজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি পুনর্মিলন কেন্দ্র খোলা হয়। সামান্য আহত একটি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে জনসাধারণের জন্য আর কোনো বড় হুমকি নেই। হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। সন্দেহভাজনের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাটি একজন ব্যক্তিই চালিয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জানানো না পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হবে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ ছাড়া ঘটনার পর মঙ্গলবার বুটে কাউন্টির সব লাইব্রেরি শাখা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কাউন্টি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিহত ও আহতদের পরিবার, লাইব্রেরির কর্মী এবং এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত ২০

অনলাইন ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত ২০
ছবি : রয়টার্স

নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে সোমবার (২২ জুন) পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ মুখপাত্র আলফ্রেড আলাবো এক বিবৃতিতে বলেন, এই হামলা রবিবার প্লাটো রাজ্যের বোক্কোস এলাকার কাওয়েল সম্প্রদায়ে ঘটে। 

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে হামলাকারীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়ালে তারা পিছু হটে। তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারগুলো ময়নাতদন্ত করতে রাজি না হওয়ায় তাদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। এদিকে প্লাটো রাজ্যের গভর্নর ক্যালেব মুতফওয়াং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলোকে দ্রুত ত্রাণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা চলছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলেও এ ধরনের হামলা নিয়মিত ঘটছে। মার্চ মাসেও প্লাটো রাজ্যের আরেকটি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছিল।

সম্পর্ক ভেঙে গেলেই ধর্ষণের অভিযোগ সংগত নয়, এলাহাবাদ হাইকোর্টের যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সম্পর্ক ভেঙে গেলেই ধর্ষণের অভিযোগ সংগত নয়, এলাহাবাদ হাইকোর্টের যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে তৈরি

দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে পারেন। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তা শারীরিক সম্পর্কেও গড়াতে পারে। কিন্তু কোনো কারণে দীর্ঘদিনের সে সম্পর্ক ভেঙে গেলেই প্রেমিক পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা সংগত নয়। সব প্রেমের সম্পর্ক বিয়ের পরিণতি পাবে এমন কোনো কথা নেই এবং তার কোনো নিশ্চয়তাও নেই। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা খারিজ করে দেওয়া রায়ে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি একক বেঞ্চ এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কও দুজনের মতের অমিল, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পরিপার্শ্বিক নানা কারণে তিক্ততায় পর্যবসিত হতে পারে।

বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ গত সপ্তাহে দেওয়া রায়ে নিম্ন আদালতে চলমান একটি মামলার সব কার্যক্রম বাতিল করে দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘আদালত এ ধরনের বিপুলসংখ্যক মামলায় লক্ষ করেছেন যে, একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি সম্মতিমূলক সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেওয়ার পর, ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করে সেটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার চেষ্টা করা হয়।’

বিচারপতি বিবেক আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষিত এবং স্বাধীনচেতা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যখন একটি সম্মতিমূলক সম্পর্কে জড়ান, তখন তাকে অবশ্যই এটি বুঝতে হবে যে কোনো সম্পর্কের কেবল ব্যর্থতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য আইনের আশ্রয় নেওয়া যায় না। একটি সম্পর্কের বিচ্ছেদ নিজে থেকে কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্ম দেয় না। এই ধরনের বিষয়গুলোকে সংবেদনশীলতা, সংযম এবং উভয় ব্যক্তির স্বাধীনতা ও পছন্দের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে বিবেচনা করা উচিত।’

আদালত এ ধরনের মামলাকে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার চরম অপব্যবহার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অভিযোগকারী নারী ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট প্রয়াগরাজ জেলায় বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ, মারধর এবং অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর, উভয় পরিবারের সম্মতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পরও ওই নারী মামলাটি প্রত্যাহার করেননি। তার দাবি ছিল, অভিযোগ দায়েরের পর বিয়ে করলেও স্বামী তার সঙ্গে স্ত্রীর মতো আচরণ করছেন না এবং একজন বিবাহিত নারীর যে মর্যাদা পাওয়া উচিত, তা তিনি পাচ্ছেন না। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের কাছে দেওয়া তার আগের জবানবন্দিতেই অনড় থাকেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর ও অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগে চার্জশিট জমা দেন। এরপর অভিযুক্ত স্বামী হাইকোর্টে মামলা খারিজের আবেদন করেন।
 
অভিযোগকারী নারী জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ২০১৪ সাল থেকে তিনি প্রয়াগরাজে ছিলেন। সেখানেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু পরে বিয়ে করতে বারবার অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি এই ধর্ষণের মামলাটি দায়ের করেন।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পযন্ত ৫ বছরেরও বেশি সময় তারা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্কে ছিলেন এবং এই মামলা মূলত একটি ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের ফল। তিনি বলেন, প্রথমবার ধর্ষণের ঘটনাটি ঠিক কোন তারিখে, সময়ে এবং স্থানে ঘটেছিল, তার কোনো উল্লেখ নেই।

আইনজীবী আরো উল্লেখ করেন যে ওই নারী উচ্চশিক্ষিত, যার এমএ, এলএলবি এবং বিএড ডিগ্রি রয়েছে।

জবাবে অভিযোগকারী নারীর আইনজীবী বলেন, পাঁচ বছর ধরে ওই নারীকে শোষণ করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের পর আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পেতেই অভিযুক্ত তাকে বিয়ে করেছিলেন। এই বিয়েটি কেবল একটি প্রতারণা বা নাটক ছিল। 
বিচারপতি বিবেক সিং তার রায়ে বলেন, অভিযোগকারী নারী নৈতিক ও অনৈতিক কাজের পরিণতি বোঝার মতো যথেষ্ট পরিপক্ব এবং বুদ্ধিমান ছিলেন। কোনোভাবেই এটা বলা যায় না যে, তিনি কোনো ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে শারীরিক সম্পর্কের সম্মতি দিয়েছিলেন। পাঁচ বছর ধরে চলা এই ধারাবাহিক সম্পর্ক আদালতকে নিশ্চিত করে যে, এটি স্পষ্টতই একটি প্রেমের সম্পর্ক, যা পরবর্তীতে তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।’

বেঞ্চ তার আদেশে উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয় না এবং বরং ওই নারী তার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই এই এফআইআর দায়ের করেছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করতে দেবে না ইরান

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করতে দেবে না ইরান
ছবি : রয়টার্স।

গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান।

মঙ্গলবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আইএইএর মহাপরিচালকের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো বৈঠক হয়নি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য সংস্থাটিকে আমন্ত্রণ জানানোরও কোনো পরিকল্পনা নেই।

এর এক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ব্যান্স বলেছিলেন, ইরান শিগগিরই জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের ফিরে আসার অনুমতি দেবে। তিনি এটিকে ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।

গত বছরের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধে পরে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়ে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোরডো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতেও নাতাঞ্জে আবার হামলা হয়েছে। তবে ইসরায়েল এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি করেছিলেন, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান এসব স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না।

ইরান অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা না করায় আইএইএর ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। এ কারণে দেশটি গত বছরের জুলাইয়ে সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছিল। পরে সেপ্টেম্বরে উভয় পক্ষ নতুন একটি কাঠামোতে সমঝোতায় পৌঁছালে সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয়। তবে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সেই চুক্তির আওতায় ছিল না। 

বাকাই বলেন, এ ধরনের স্থাপনা পরিদর্শনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রোটোকল নেই। তবে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) ও বিদ্যমান সুরক্ষা চুক্তির আওতায় ইরান তার বর্তমান নীতি অনুসরণ করে যাবে।