• ই-পেপার

৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ‘খেলা অসম্ভব’, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচ স্থগিতের দাবি

প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে ইতিহাস গড়ার পথে মিসর

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে ইতিহাস গড়ার পথে মিসর
ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের বয়স তখন কেবল ১৩ মিনিট। ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজতেই নড়েচড়ে বসল মিসর। সবাই যখন আশা করছিলেন মোহাম্মদ সালাহর চেনা বাঁকানো শট, ঠিক তখনই দেখা গেল দারুণ এক ‘ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস’। অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে আলতো করে পাস বাড়ালেন বক্সে ওত পেতে থাকা ইমান আশুরের দিকে।

সেখান থেকে আশুরের নেওয়া প্রথম জোরালো শটটি অবশ্য সকারুজ ডিফেন্ডারদের দেওয়ালে লেগে ফিরে আসে। তবে তাতেও শেষরক্ষা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। বলটি ডি-বক্স থেকে বিপদমুক্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় তাদের রক্ষণভাগ। উল্টো ফিরতি বলটি যখন বাতাসে ভেসে আবার বক্সের ভেতর ড্রপ খাচ্ছিল, ঠিক তখনই ব্যাক-পোস্টে বাজপাখির মতো ছোঁ মারেন আশুর। নিখুঁত ও চমৎকার এক হেডে বলকে জড়িয়ে দেন জালে।

এই এক গোলের ব্যাবধান নিয়েই বিরতিতে গেছে মিশর। এই ম্যাচ দিয়ে ৯২ বছর পর নকআউটের ম্যাচে খেলছে তারা। ১৯৩৪ সালের সে নকআউট ম্যাচে হাঙ্গেরির কাছে ৪-২ গোলে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। এবার মিশরের সামনে প্রথম নকআউট জয়ের ইতিহাসের হাতছানি। সালাহদের অপেক্ষা আর ৪৫ মিনিটের।

ট্রাম্পকে দেওয়া ‘শান্তি পুরস্কার’ নিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

ক্রীড়া ডেস্ক
ট্রাম্পকে দেওয়া ‘শান্তি পুরস্কার’ নিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
ছবি : রয়টার্স

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর এবার চড়াও হলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিতর্কিত ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায় ফিফা বসের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য।

এই বিষয়ে ফিফার নৈতিকতা কমিটিকে (এথিক্স কমিটি) কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে ইনফান্তিনোর এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হয়েছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রীড়া মানবাধিকার সংস্থা ‘ফেয়ারস্কয়ার’।

সংস্থাটি তখন ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা (এমইপি) এক যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করে ফেয়ারস্কয়ারের সেই অভিযোগের প্রতি নিজেদের প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন। 

কেপ ভার্দের রূপকথা কি থামাতে পারবে আর্জেন্টিনা

শাহজাহান কবির, মায়ামি থেকে
কেপ ভার্দের রূপকথা কি থামাতে পারবে আর্জেন্টিনা

‘আমার মনে হয়, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে হারাবে ১-০ গোলে’—এই মুহূর্তে এমন মন্তব্য করে কেউ হয়তো আলোচনায় থাকতে চান, নয়তো বাড়াবাড়ি রকমের আবেগতাড়িত তিনি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে গোটা কেপ ভার্দে এমন আবেগে ভাসলে অবশ্য তা বাড়াবাড়ি নয় মোটেও।

সে রকম কিছু ঘটিয়েই তো তারা এখন মায়ামিতে মুখোমুখি আর্জেন্টিনার। খোদ দলটির ফুটবলাররা বলেছেন, তাঁরা এর আগে লিওনেল মেসিকে খেলতে দেখেছেন শুধু টিভিতে, আগামীকাল ভোরে মাঠে সেই মেসিকে ট্যাকল করতে হবে তাঁদের, চোখে চোখ রেখে বলতে হবে, ‘তুমি সেরা হতে পারো, তবে আমরাও কম নই।’ দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেসও তাই আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারানোর অমন আগাম ঘোষণা দিয়ে দেন।

কেপ ভার্দের রূপকথা কি থামাতে পারবে আর্জেন্টিনা? মেসিদের জন্য একেবারে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে এই ম্যাচ। নিশ্চিতভাবেই লিওনেল স্কালোনির টুর্নামেন্টপূর্ব হিসাব-নিকাশ ও গবেষণায় ছিল না এই কেপ ভার্দে। তারা নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের সামনে। স্পেন, উরুগুয়েকে আটকে দিয়ে তারা এমন একটা বাতাবরণ তৈরি করেছে যে বাজিকররাও হয়তো দ্বিধায়। তাদের এই রূপকথার শেষ কোথায়!

কেপ ভার্দে যে এসেছে হিসাবের বাইরে থেকে। তাই হিসাব-নিকাশে তাদের মেলানোটা সহজ হবে না। তবে এবার ভাবুন আর্জেন্টিনা বা মেসির কথা। এই বিশ্বকাপেই যিনি খেলতে পারবেন কি না নিশ্চয়তা ছিল না, তিনি প্রথম তিন ম্যাচেই ছয় গোল করে ফেলবেন, ভাবতে পেরেছিল কেউ?

বিশ্বকাপে অবশ্য অনেক হিসাবই মেলে না। গতবার সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পর কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল যে সেই আর্জেন্টিনাই ট্রফি নিয়ে বাড়ি যাবে! মায়ামিতে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে লড়াইয়ে তাই রোমাঞ্চের ডাক আছে ষোলো আনাই। সেটি ডেভিড আর গোলিয়াথের লড়াই হলেও।

বিশ্বকাপের এই মাঝপথেও সত্যিকার অর্থে জমে উঠতে চলেছে শিরোপার লড়াই। ফ্রান্স আছে আগুনে ফর্মে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হলে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের কী হবে? ব্রাজিল যে গতবারের আর্জেন্টিনার মতোই এগোচ্ছে নানা চ্যালেঞ্জ সামলে। আর্জেন্টিনা বড় সমস্যায় পড়েনি এখনো, মেসি যেভাবে চাইছেন সবই হচ্ছে। তো এই যাত্রা কি থেমে যাবে! কেপ ভার্দে চমকেরও তাই হয়তো আজই শেষ, না হলেই বরং সেটি হবে আরো বড় চমক। বিশ্বকাপ কোন পথে যাচ্ছে, পথের বাঁকে বাঁকে রোমাঞ্চটা এখানেই।

কেপ ভার্দে কোচ মেসিকে থামানোরও পরিকল্পনা এঁটেছেন। মেসি কিভাবে কী করেন, সেটি অবশ্য কারোরই অজানা নয়। তবু ম্যাচ পরিস্থিতিতে তিনি ঠিকই পথ খুঁজে নেন, হয়তো অপ্রত্যাশিতভাবে গতি বাড়ান, চেনা মুভমেন্টেও যোগ করেন নতুন সৃষ্টিশীলতা, পার্থক্য গড়া হয়ে যায় সেভাবেই।

আলোচিত পারফর্মার ভোজিনিয়াও এই ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকাকে কেমন সামলান, সেটিও দেখার। জর্দানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্কালোনি সবাইকে খেলার সুযোগ দিয়েছেন। নক আউট পর্বের শুরু থেকে মেসিসহ মূল একাদশটাই তাঁর ফিরিয়ে আনার কথা। জর্ডান ম্যাচের পর সেই চেনা একাদশের কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই দেখার।

ফিট নিকোলাস তালিয়াফিকো জর্ডান ম্যাচে একাদশে ফিরেছেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তিনি লেফট ব্যাকের জায়গাটা ধরে রাখতে পারেন। আবার একই পজিশনে ফাকুন্দো মেদিনাও তাঁর সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসি গোল করেছেন তাঁর ক্রস থেকে। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে কে খেলবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ফিট হয়ে উঠেছেন বলেই খবর। সে ক্ষেত্রে নিকোলাস ওতামেন্দিই কি শুরু করবেন, নাকি রোমেরো, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন স্কালোনি।

একই রকম কৌতূহল মেসির সঙ্গী কে হবেন, সেটি নিয়ে। লাউতারো মার্তিনেজ নাকি হুলিয়ান আলভারেস শুরু করবেন? যদিও শক্তিমত্তার হিসাব বলে কেপ ভার্দের জন্য আর্জেন্টিনার যেকোনো একাদশই যথেষ্ট। তবে স্কালোনিকেও এর রহস্যভেদ করতে হবে যে স্পেনের মতো দল কেন কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল পেল না কিংবা কোন লড়াইয়ে উরুগুয়েকে তারা রুখে দিতে পারল?

গোলের জন্য হয়তো বা মেসিই যথেষ্ট, কিন্তু উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দে দেখিয়েছে তারা পাল্টা গোল করে ম্যাচে ফিরতেও পারে। কেপ ভার্দে ছোট দল বা চমক—যেটিই হোক, নক আউটের ম্যাচের সব রকম চ্যালেঞ্জই এই ম্যাচে আছে স্কালোনির সামনে। সেই চ্যালেঞ্জ জিতে শিরোপার পথে তাদের আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে বাজি ধরার লোকই এই মুহূর্তে বেশি!

রোনালদোর পেনাল্টিময় জীবন

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদোর পেনাল্টিময় জীবন
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অবশেষে গোল পেয়েছেন রোনালদো এবং সেটি পেনাল্টি থেকে। ছবি: ফিফা

রেকর্ড ষষ্ঠ এবং খুব সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে এত দিন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে কোনো গোল ছিল না তার। 

অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচেছে রোনালদোর। টরন্টোয় আজ ভোরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে পর্তুগালের প্রথম গোলটি করেছেন তিনি, যা সবচেয়ে বেশি বয়সে (৪১ বছর ১৪৭ দিন) বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোলের রেকর্ড। 

তবে রোনালদোর গোলটি এসেছে পেনাল্টি থেকে। আর এ নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের বন্যা বইয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা আর্জেন্টিনা বা মেসির ভক্ত, তারাই মজা করছেন। 

Goal
রোনালদোর গোল উদযাপন। ছবি: ফিফা

কারণ, পর্তুগাল বা রোনালদোর সমর্থকরা প্রায়ই দাবি করেন, বিশ্বকাপে মেসির জন্য ফিফা নাকি পেনাল্টি বরাদ্দ রাখে। কিন্তু এখন বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদো দুজনেরই পেনাল্টি থেকে গোল সমান ৪টি করে। 

ফুটবল ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোল করা রোনালদোকে কেউ কেউ মজা করে পেনালদোও ডাকেন। ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাব অনুযায়ী, আজ ভোরে ক্রোয়েশিয়ার জাল কাঁপানোর পর তার পেনাল্টি গোলের সংখ্যা ১৮৩টি!

ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি আসরে বা নির্দিষ্ট কোনো পর্বে রোনালদো নিজের প্রথম গোলটা পেয়েছেন পেনাল্টি থেকে। সেটির তালিকা তুলে ধরা হলো—

বিশ্বকাপে প্রথম গোল (১৭ জুন ২০০৬) ⚽ পেনাল্টি থেকে
লা লিগায় প্রথম গোল (২৯ আগস্ট ২০০৯) ⚽ পেনাল্টি থেকে
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রথম গোল (২৯ আগস্ট ২০০৯) ⚽ পেনাল্টি থেকে
উয়েফা ইউরোপা লিগে প্রথম গোল (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২) ⚽ পেনাল্টি থেকে
আল নাসরের হয়ে প্রথম গোল (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) ⚽ পেনাল্টি থেকে
বিশ্বকাপ নকআউটে প্রথম গোল (৩ জুলাই ২০২৬) ⚽ পেনাল্টি থেকে

বর্তমানে রোনালদোর মোট গোলসংখ্যা ৯৭৬টি। ক্যারিয়ারে এতগুলো পেনাল্টি নিতে গিয়ে বেশ কিছু মিসও করেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। সেই সংখ্যাও নেহাত কম নয়; ৩৬টি। গোলগুলো করতে পারলে অনেক আগেই তিনি ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারতেন। 

সব মিলিয়ে কথাটা তাই বলতেই হচ্ছে—রোনালদোর পেনাল্টিময় জীবন!