সমালোচনার জবাব কিভাবে দিতে হয় তা ভালো করেই জানা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। মুখে নয়, মাঠেই জবাব দেন তিনি। আজ হিউস্টন স্টেডিয়ামে আরেকবার সেই কাজটাই করলেন সিআর সেভেন। একটি নয় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল পেয়েছেন তিনি। তাতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে গেছে পর্তুগাল। অন্য গোলটি করেছেন নুনো মেন্দেস।
প্রথম গোলটি করে রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৬ বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাতে পেছনে পড়েছে লিওনেল মেসির ৫ বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড।
২ মিনিটেই লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। তবে বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া ব্রুনো ফার্নান্দেজের শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের শরীরে লেগে কর্নার হয়। ৪ মিনিটে গোলখরা কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে নুনো মেন্দেসের ক্রসটায় যথাসময়ে পা লাগাতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
তবে ষষ্ঠ মিনিটে ঠিকই জালের দেখা পেয়েছেন রোনালদো। জোয়াও কানসেলোর ক্রসটায় বুলেট গতির শট নেন তিনি। শটের পাওয়ারে যেন সমালোচনার জবাবই ছিল। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ পর গোল পাওয়া রোনালদোর উদযাপনটাও ছিল দেখার মতো।
নিজের ট্রেডমার্ক উদযাপন ‘সিউ’ করার পর শরীরী ভাষাতে সমালোচনার জবাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন রোনালদো। ‘সিআর সেভেনের’ গোলের রেশ শেষ হতে না হতেই আরেকটি গোলে মাতে পর্তুগাল। এবার বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ফ্রি কিকে গোল করেন মেন্ডেস। তার নেওযা ১৭ মিনিটের শটটি ঠেকানোর কোনো উপায়ই ছিল না গোলরক্ষক আব্দুভোহিদ নেমাতভের।
বিপরীতে ২৯ মিনিটে ব্যবধান কমিয়েছিল আজিজ ঘানিভ। তবে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত গোলটি করলেও পরে বাতিল হয়ে যায়। ২০ গজ দূর থেকে করা গোলের আগে তার এক সতীর্থ কানসেলোকে ফাউল করায় ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়।
অন্যদিকে নিঁখুত শটে জোড়া গোলের দেখা পান রোনালদো। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে ফার্নান্দেজের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিং করেন তিনি। তাতে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলের (১০) মালিক হন ৪১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। এর আগে প্রথম গোলটি করে কিংবদন্তি ইউসেবিওর (৯) পাশে বসেছিলেন তিনি।
বিরতিতে যাওয়ার আগে যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকের দেখাও প্রায় পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক বেরিয়ে আসায় চিপটা ভালো মতো নিতে না পারায় হ্যাটট্রিকটা পাওয়া হয়নি তার। ৩-০ ব্যবধানে অবশ্য ঠিকই বিরতিতে গেছে পর্তুগাল।




