• ই-পেপার

বিশ্বকাপে গোলের রাজা হওয়ার রাতে আরও যত কীর্তি মেসির

গোলে রোনালদোকে ছুঁলেন এমবাপ্পে, এগিয়ে থেকে বিরতিতে ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক
গোলে রোনালদোকে ছুঁলেন এমবাপ্পে, এগিয়ে থেকে বিরতিতে ফ্রান্স
ফ্রান্সকে লিড এনে দেওয়া গোলটি করেছেন এমবাপ্পে। ছবি : রয়টার্স

শুধু লিওনেল মেসিই নন, বিশ্বকাপে উড়ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেও। পারফরম্যান্স দিয়ে দর্শক-সমর্থকদের বিমোহিত করে চলছেন তিনি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে করা অপূর্ব গোলটি মুগ্ধতার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ম্যাচের ১৪ মিনিটের গোলটি সত্যি অবিশ্বাস্য। বিশ্বাস না হলে ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ে করা এমবাপ্পের গোলটি একবার হাইলাইটস দেখে নিতে পারেন। বাঁকানো শটটি যতই দেখবেন ততই মুগ্ধ হবেন। গোলটির এমনি শক্তি। তাতে ফ্রান্সের হয়ে ১০০তম ম্যাচ গোলে রাঙালেন তিনি। তার গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ইরাকের বিপক্ষে বিরতিতে গেছে ফ্রান্স।

৪১ মিনিটে জোড়া গোল পেতে পারতেন এমবাপ্পে। শরীরকে দারুণভাবে স্পিন করিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকেছিলেন তিনি। তবে শট নেওয়ার মুহূর্তে হুসেইন আলি স্লাইড দিয়ে বলকে থামালে আর গোলটি পাওয়া হয়নি এমবাপ্পের। 

দলকে লিড এনে দেওয়া গোলে একটা কীর্তি গড়েছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় রোনালদো নাজারিওকে ছুঁয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। ইরাকের বিপক্ষে করা তার প্রথম গোলটি বিশ্বকাপে ১৫তম। সমান গোল ব্রাজিল কিংবদন্তিরও। 

যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন এমবাপ্পে-রোনালদো। তাদের ওপরে আছেন মিরোস্লাভ ক্লোসা ও লিওনেল মেসি। ১৬ গোল নিয়ে দুইয়ে আছেন জার্মান কিংবদন্তি। তাকে আজ রাতেই ছাড়িয়ে গেছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে এখন চূড়ায় এখন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের গোল ১৮। 

‘পেনাল্টিতে গোল পেলে হয়তো পরের দুটি আর পাওয়া হতো না’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘পেনাল্টিতে গোল পেলে হয়তো পরের দুটি আর পাওয়া হতো না’
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন মেসি। ছবি : রয়টার্স

বয়সের ভারে অন্যরা যখন নিজেদের হারিয়ে ফেলেন লিওনেল মেসি তখন ঠিক উল্টো। তার পারফরম্যান্সের ধার যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের পারফরম্যান্স দেখে তেমনটাই বলেছেন অলিভার জিরু। মেসিকে নিয়ে ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যেন আরও দুর্দান্ত হয়ে উঠছেন লিওনেল মেসি।’

তবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের নায়কের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলের সহজ সুযোগ পেলেও তা করতে ব্যর্থ হন মেসি। মিস করায় বিরক্ত হয়েছিলেন জানিয়ে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেছেন, ‘পেনাল্টিটা মিস করার পর কিছুক্ষণ ভীষণ বিরক্ত ছিলাম। কিন্তু পরে সেটা পুষিয়ে নিতে পেরেছি।’

পেনাল্টি মিস করায় তার জন্য ভালো হয়েছে জানিয়ে মেসি আরও বলেছেন, ‘পুরো বিষয়টি যেভাবে ঘটেছে, সত্যিই অসাধারণ। পেনাল্টিতে গোল করতে পারলে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারতাম। যদি সেই (পেনাল্টি) গোলটি পেতাম তাহলে হয়তো পরের গোল দুটি আর পাওয়া হতো না।’

ম্যাচ জেতায় খুশি মেসি সমর্থকদের আরও আনন্দ দিতে চান। ৩৭ বছর বয়সী তারকা বলেছেন, ‘এই জয়ে আমি সত্যিই খুব খুশি, জয়টি বিশেষ ছিল। এরই মধ্যে আমরা মানুষকে অনেক আনন্দ উপহার দিয়েছি। সামনে তাদের আরও আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করব।’

মেসি জাদুতে নকআউটে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি জাদুতে নকআউটে আর্জেন্টিনা
সতীর্থর সঙ্গে গোল উদযাপনে মেসি। ছবি : রয়টার্স

শুরুতেই হতাশ করলেও সমর্থকদের মুখে কিভাবে হাসি ফোটানো যায় তা ভালো করেই জানেন লিওনেল মেসি। ডালাসে সেটা আরেকবার করে দেখালেন জাদুকর মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে। তার জাদুতে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটও নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরুতেই ভুল করেন মেসি। পরে অবশ্য প্রায়শ্চিত্ত করলেন তিনি। ডালাসে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪ মিনিটে পেনাল্টি পাওয়ায়। লাউতারো মার্তিনেজকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডার। রেফারি ফাউলের বাঁশি না বাজালেও ভিএআরে ঠিকই পেনাল্টি দেন তিনি।  তবে দলকে লিড এনে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও পেনাল্টি মিস করেন মেসি। বল বাইরে মারায় বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার অপেক্ষাটাও তাই বেড়ে যায়। 

১৯ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। এবার ঠিক মতো শট নিতে না পারায় বল সেভ দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সন্ডার শ্লেগার। ২২ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। তবে শট ব্লক হওয়ায় গোল আর পাওয়া হয়নি। 

৩২ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। এবার বল জালে জড়ানোর আগে ব্লক করে দেন অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডার। তবে ৩৮ মিনিটে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে থামাতে পারেনি কেউই।

বক্সের মধ্যে থেকে দুর্দান্ত এক শটে আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন মেসি। ফাকুন্দো মেদিনার পাস থেকে গোল করে তাতে রেকর্ডও গড়েন তিনি। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন ৩৮ বছর বয়সী প্লে মেকার। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের গোল ১৭টি। ছাড়িয়ে গেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। জার্মান কিংবদন্তির গোল সংখ্যা এখন ১৬। 

বিরতির পর সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। তবে ৫৫ মিনিটে নেওয়া মার্সেল সাবিটজারের ফ্রি কিক বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

৭৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন নিকো গঞ্জালেস। তবে মেসির নেওয়া কর্নারে হেড নিলেও অল্পের জন্য গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৮৬ মিনিটে আরেকটি সুযোগ মিস করেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সের মধ্যে প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের শরীর বরাবর বল মারেন তিনি।

সতীর্থরা মিস করলেও যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল ঠিকই আদায় করে নিলেন মেসি। তবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের আগে কিছুটা নাটকীয়তা ছিল গোলটিতে।  যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে গোল করাতে চেয়েছিলেন মেসি। মুখে তুলে দেওয়ার মতো এক পাস বাড়িয়েছিলেন তিনি। 

কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলেন আলভারেজ। ফিরতি সুযোগ পেয়ে অবশ্য দুর্দান্ত এক ফিনিশিংই দিলেন বিশ্বকাপে ১৮ গোলের মালিক মেসি। তারা জোড়া গোলের পরেই ম্যাচ শেষের বাঁশিও বাঁজান রেফারি।

এ জয়ে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট দ্বিতীয় অস্ট্রিয়ার। জর্ডান-আলজেরিয়া পয়েন্ট পায়নি এখনো।

বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের বিব্রতকর রেকর্ডের মালিকও এখন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের বিব্রতকর রেকর্ডের মালিকও এখন মেসি
পেনাল্টি মিস করার পর হতাশ মেসি। ছবি : রয়টার্স

রেকর্ড গড়তে কার না ভালো লাগে। তবে রেকর্ডটা বিব্রতকর হলে কারোই ভালো লাগার কথা নয়। আজ তেমনি এক রেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পেনাল্টি মিস করার রেকর্ড।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আজ বিশ্বকাপের ৩ নম্বর পেনাল্টিটা মিস করেছেন মেসি। এতদিন ২ গোল নিয়ে ঘানার সাকে ফরোয়ার্ড আসামোয়া জিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে ৭টি পেনাল্টি নিয়েছেন মেসি। এর মধ্যে ৪টি গোল করেন। বাকি ৩টি মিস করেন। সবকটি আবার ইউরোপের দলের বিপক্ষে। শুরুটা ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্যদিকে ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপরীতে এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে।

বিব্রতকর রেকর্ডের পর অবশ্য বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়েছেন মেসি। তার গোল এখন ১৭টি। তাতে ১৬ গোল করা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।