পর্তুগালের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর ঐতিহাসিক ড্রয়ের রাতে নায়ক ছিলেন ইয়োনে উইসা। তার শক্তিশালী হেড থেকেই আসে ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপে ৫২ বছর পর প্রথম গোল, যা এনে দেয় ১-১ গোলের স্মরণীয় ড্র। কিন্তু গোলের উচ্ছ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য সংগ্রামের গল্প।
বর্তমানে ইয়োনে উইসাকে বিশ্বকাপের নায়ক হিসেবে দেখছে ফুটবল বিশ্ব। অথচ পাঁচ বছর আগেও তার ফুটবল ক্যারিয়ার তো দূরের কথা, স্বাভাবিক জীবনই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গিয়েছিল।
২০২১ সালে ফরাসি ক্লাব লরিয়ঁতে খেলার সময় নিজ বাসভবনে ভয়াবহ অ্যাসিড হামলার শিকার হন উইসা। এক নারী ভক্ত সেজে তার বাড়িতে এসে মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। শুধু তাই নয়, তার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে পরে জানা যায়। হামলায় উইসার দুই চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে উইসা বলেছিলেন, ‘দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আমার মুখে তরল কিছু ছুড়ে মারা হয়। আমি চিৎকার করতে শুরু করি, শ্বাস নিতে পারছিলাম না। হাসপাতালে আমাকে বলা হয়, আমার চোখ পুড়ে গেছে। প্রতি ঘণ্টায় চোখ পরিষ্কার করতে হতো। এটি ছিল এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন।’
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, দ্রুত চিকিৎসা না পেলে তিনি দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারতেন। দুই চোখে অস্ত্রোপচার করতে হয় তাকে এবং আজীবন আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল।
তবে ভয়াবহ সেই ট্র্যাজেডি তাকে থামাতে পারেনি। সুস্থ হয়ে একই বছর ইংলিশ ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেন উইসা। চার মৌসুমে ১৪৯ ম্যাচ খেলে ৪৯ গোল করেন। পরে বড় অঙ্কের চুক্তিতে যোগ দেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডে।
আর এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে লিখলেন নতুন ইতিহাস। পর্তুগালের বিপক্ষে তার গোলেই ডিআর কঙ্গো অর্জন করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান একটি পয়েন্ট।




