• ই-পেপার

আইফোনপ্রেমীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে দিতে হবে টাকা, হঠাৎ কেন সাবস্ক্রিপশন চালু করল মেটা

অনলাইন ডেস্ক
ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে দিতে হবে টাকা, হঠাৎ কেন সাবস্ক্রিপশন চালু করল মেটা
সংগৃহীত ছবি

নিখরচায় হাতের মুঠোয় ছিল পৃথিবী। অপরিচিত মানুষকে চেনার সুযোগ। আবার ব্যক্তিগত কথোপকথন থেকে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কথা-মিটিং। এই সবকিছুই সহজ হয়ে উঠেছিল ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের দৌলতে। খবর এনডিটিভি

একই সঙ্গে বৈশ্বিক নাগরিক হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল ইনস্টাগ্রাম। পছন্দের তারকাকে ফলো করা থেকে ছবি ও ভিডিও দেখার আনন্দ। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই এতদিন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করা যেত। কিন্তু এখন থেকে এই প্লাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে চাইলে গুনতে হবে টাকা।

মার্কিন ধনকুবের মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা মেটা এই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক। সম্প্রতি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহারকারীদের জন্য সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান চালু করেছে তারা। চালু হয়েছে ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস পরিষেবা। প্রত্যেকটি সেবা বাবদ মাসে ৯৯ টাকা দিতে হচ্ছে।
 
পাশাপাশি বিজনেসেস, ক্রিয়েটর্স এবং মেটা আই ব্যবহারকারীদের জন্য এআই চ্যাটবটও আনা হয়েছে। পাওয়ার ইউজার্সদের জন্য আপগ্রেডেট টিয়ার্স নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে তারা।
 
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। জাকারবার্গ অন্যদের তুলনায় এআই জগতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি সেই জায়গাটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

টেক আর্কের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কাওসা এনডিটিভিকে বলেন, মেটা এআই অবকাঠামোতে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের সার্থকতা প্রমাণের জন্য তাদের একটি পূর্বাভাসযোগ্য এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়ের উৎস প্রয়োজন। শুধু বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে এটি পূরণ করা সম্ভব নয়। এআই আসার পর কনটেন্ট খোঁজ করার এবং ব্যবহারের ধরন বদলে যাচ্ছে।
 
তিনি বলেন, মেটা মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ফলে তাদের বাণিজ্যিক উপস্থিতিও তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। বিনা মূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নেতিবাচক মনে হতে পারে।
 
ট্রুইস্ট সিকিউরিটিজ বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ সাবস্ক্রিপশন থেকে বছরে মেটার ২০ বিলিয়ন ডলার বাড়তি আয় হতে পারে। ডয়চে ব্যাংকের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, আগামী বছর সাবস্ক্রিপশন থেকে ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। যদিও অনেক বিশ্লেষক এমন উচ্চাভিলাষী হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

মেটা বলছে, গত বছর সংস্থাটির মোট আয়ের ৯৭.৬ শতাংশ বিজ্ঞাপন থেকে এসেছিল। প্রতিষ্ঠানটি দুই দশকেও বিজ্ঞাপনের বাইরে ব্যবসা বিস্তৃত করতে পারেনি। অন্যদিকে গুগল বিজ্ঞপননির্ভর হলেও ১০ বছর আগে বিজ্ঞাপনের বাইরে যা আয় করত, মেটা গত বছরও সেই পরিমাণ আয় করতে পারেনি। এসব কারণে জাকারবার্গ এ ধরনের তৎপরতার দিকে ঝুঁকতে পারেন।
 
এআই বিশেষজ্ঞ এবং এআইএনসিউর্ডের সিটিও শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনী বলেন, মেটার এ ধরনের পদক্ষেপ মূলত সাময়িক জোড়াতালি দেওয়ার শামিল। তিনি বলেন, মেটার পেইড প্ল্যানগুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা এআইতে নিজেদের বিশাল বিনিয়োগ তুলে আনতে চেষ্টা করছে। এজন্য কেবল নিয়মিত ব্যবহারকারীদের আরো বাড়তি কিছু সুবিধা দিয়ে টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

স্মার্ট চশমা ও সামরিক এআই নিয়ে নতুন বিতর্ক

পেন্টাগনের চাপেও নতি স্বীকার করেনি অ্যানথ্রপিক

অনলাইন ডেস্ক
পেন্টাগনের চাপেও নতি স্বীকার করেনি অ্যানথ্রপিক
ছবি : রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। একদিকে মেটার স্মার্ট চশমায় মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করার গোপন উদ্যোগের তথ্য সামনে এসেছে, অন্যদিকে সামরিক কাজে এআই ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পেন্টাগনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী ওয়্যার্ড-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটা পেন্টাগনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান র‍্যাংক ওয়ান কম্পিউটিং-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের রে-ব্যান ও ওকলি স্মার্ট গ্লাসে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির একটি প্রোটোটাইপ বা ডেমো তৈরি করেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নেমট্যাগ’ নামে একটি অভ্যন্তরীণ প্রকল্পের আওতায় স্মার্ট গ্লাসের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও থেকে মানুষের পরিচয় শনাক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছিল। এ উদ্দেশ্যে মেটার অ্যাপে প্রয়োজনীয় কোডও যুক্ত করা হয়েছিল, যদিও তা কখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের অজান্তে নজরদারির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সমালোচনার মুখে পরে মেটা সংশ্লিষ্ট কোড অপসারণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে অ্যানথ্রপিক। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পরিচালনা বা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে ব্যবহারের ওপর থাকা নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও অ্যামোডেই বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করা সম্ভব হলেও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পেন্টাগনের চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনতে রাজি হয়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় অ্যানথ্রপিক ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আইনি বিরোধও সামনে এসেছে। কম্পানিটি অভিযোগ করেছে, সামরিক কাজে তাদের ক্লাউড চ্যাটবট ব্যবহারের নিয়ম শিথিল করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সরকারি সংস্থাগুলো তাদের পণ্য ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগ নেয়।

চলতি বছরের ৯ মার্চ অ্যানথ্রপিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর বিরুদ্ধে মামলা করে। কোম্পানিটির দাবি, তাদের প্রযুক্তিকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় সরকার তাদের কার্যত কালো তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করেছে।

গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) রয়টার্স এর এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে দাখিল করা নথিতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, মেটার স্মার্ট গ্লাস বিতর্ক এবং অ্যানথ্রপিক-পেন্টাগন বিরোধ দেখিয়ে দিচ্ছে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে গোপনীয়তা, নাগরিক অধিকার ও সামরিক ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন আরো তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানি ও সরকারের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের সীমা নিয়েও নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।

চার্জে দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ?

অনলাইন ডেস্ক
চার্জে দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ?
এআই জেনারেটেড

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো—চার্জে থাকা অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করা কি নিরাপদ?

অনেকেই ফোন চার্জে দিয়ে কথা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন কিংবা গেম খেলেন। তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহার করা সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা ও নিরাপত্তা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জিং সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও নিম্নমানের চার্জার, অতিরিক্ত তাপ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি এবং চার্জের সময় ভারী ব্যবহার দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক স্মার্টফোনে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় চার্জে থাকা ফোন ব্যবহার করলে তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে ফোনের ব্যাটারি, চার্জার কিংবা ব্যবহার পদ্ধতিতে ত্রুটি থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কেন সতর্ক থাকতে হবে?

চার্জ দেওয়ার সময় ফোনের ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। একই সময়ে ফোনে গেম খেলা, ভিডিও দেখা বা দীর্ঘ সময় ভিডিও কল করলে প্রসেসর ও ব্যাটারি উভয়ই অতিরিক্ত গরম হতে পারে। ফলে ফোনের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, নিম্নমানের বা নকল চার্জার ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। কারণ এসব চার্জার অনেক সময় সঠিক ভোল্টেজ ও কারেন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এতে ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কোন কাজগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?

চার্জে থাকা অবস্থায় সাধারণ কল করা বা মেসেজ পাঠানো তুলনামূলক নিরাপদ হলেও নিচের কাজগুলো ঝুঁকি বাড়াতে পারে— 

উচ্চ গ্রাফিক্সের গেম খেলা
দীর্ঘ সময় ভিডিও এডিটিং করা
লাইভ স্ট্রিমিং বা ভিডিও কল চালানো
রোদে বা গরম পরিবেশে ফোন ব্যবহার করা
বালিশ, বিছানা বা কম্বলের ওপর ফোন রেখে চার্জ দেওয়া


নিরাপদ ব্যবহারের জন্য যা করবেন

১. সবসময় অরিজিনাল বা মানসম্মত চার্জার ব্যবহার করুন।
২. চার্জের সময় ফোনকে শক্ত ও সমতল স্থানে রাখুন।
৩. ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ব্যবহার বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দিন।
৪. চার্জে থাকা অবস্থায় ভারী গেম বা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অ্যাপ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
৫. ব্যাটারি ফুলে গেলে বা অস্বাভাবিক গরম হলে দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করুন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জে থাকা অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ভারী কাজ এড়িয়ে চলা এবং মানসম্মত চার্জিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত। সচেতনতা ও সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই স্মার্টফোনকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

এআইয়ের রূপ ধরে ফিরছে নতুন উপনিবেশবাদ?

অনলাইন ডেস্ক
এআইয়ের রূপ ধরে ফিরছে নতুন উপনিবেশবাদ?
সংগৃহীত ছবি

একসময় উপনিবেশবাদ মানেই ছিল বিদেশি শক্তির হাতে ভূখণ্ড দখল, সম্পদ লুট এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। ইতিহাসের পাতায় সেই সাম্রাজ্যবাদী যুগের অবসান ঘটেছে বহু আগেই। কিন্তু সমালোচকদের একাংশ বলছেন, উপনিবেশবাদ শেষ হয়নি; বরং নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এবার অস্ত্র বা সেনাবাহিনী নয়, এর হাতিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)।

এক্সিওস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যবহারের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে এআই। কিন্তু এই প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই বাড়ছে এর পক্ষপাত ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ। 

সমালোচকদের মতে, বর্তমানের অধিকাংশ এআই মডেল আদিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা এসব জনগোষ্ঠীকে ঘিরে প্রচলিত গৎবাঁধা ধারণাকেই আরো শক্তিশালী করছে। এর অন্যতম কারণ, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই মডেলগুলোর বড় অংশই প্রশিক্ষিত হয়েছে পশ্চিমা জ্ঞানভান্ডারের ওপর। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ পুরুষ লেখক, গবেষক ও চিন্তাবিদদের লেখা বিপুল পরিমাণ তথ্য এসব মডেলের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। ফলে এআই প্রায়ই তাদের মূল্যবোধ, ভাষা, দৃষ্টিভঙ্গি ও পক্ষপাতের প্রতিফলন ঘটায়।

সমালোচকদের ভাষায়, এ যেন উপনিবেশবাদেরই ডিজিটাল সংস্করণ। অতীতে যেমন সাম্রাজ্যবাদীরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভূমি, সম্পদ ও শ্রম দখল করেছিল, এখন তেমনি প্রযুক্তি কম্পানিগুলো বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের তথ্য সংগ্রহ করছে। অনেক সময় সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অনুমতি ছাড়াই, এমনকি তথ্যের যথার্থতা যাচাই না করেও।

মানবশ্রম ও ডেটা উৎপাদনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুলিয়ান পোসাদা বলেন, উপনিবেশবাদকে সাধারণত অতীতের একটি অধ্যায় হিসেবে পড়ানো হয়। কিন্তু বাস্তবে এর বিভিন্ন রূপ এখনো টিকে আছে, যদিও আমরা অনেক সময় তা বুঝতে পারি না।

বেশিরভাগ বৃহৎ ভাষা মডেল বা এলএলএম তৈরি হয়েছে পশ্চিমা, শিক্ষিত, শিল্পোন্নত, ধনী ও গণতান্ত্রিক সমাজে। গবেষণার ভাষায় যেগুলোকে সংক্ষেপে ‘উইয়ার্ড’  বা ‘অদ্ভুদ’ সমাজ বলা হয়। এসব মডেলের ডেটা এসেছে মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, সংবাদ আর্কাইভ এবং ডিজিটাল নথি থেকে, যার বড় অংশের উৎস উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ।

ফলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে এআই অনেক সময় পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়। এতে স্থানীয় বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক সূক্ষ্মতা হারিয়ে যায়।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদিত্য বাশিষ্ঠ একটি উদাহরণ তুলে জানান, এআই প্রায়ই সব ভারতীয় খাবারকে ‘মশলাদার’, ‘সুগন্ধযুক্ত’ এবং ‘সমৃদ্ধ’ বলে বর্ণনা করে। অথচ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতি একে অপরের থেকে ব্যাপকভাবে ভিন্ন। এসব ব্যবহৃত মসলা, রান্নার কৌশল এবং স্বাদের ধরন অঞ্চলভেদে বদলে যায়। কিন্তু এআই সেই বৈচিত্র্যকে প্রায়ই এক ছাঁচে ফেলে দেয়।

‘ডেটা গ্র্যাব: দ্য নিউ কলোনিয়ালিজম অব বিগ টেক অ্যান্ড হাউ টু ফাইট ব্যাক’ বইয়ের সহ-লেখক নিক কুড্রির মতে, মানুষের তথ্যকে অবাধে সংগ্রহ করে নিজের সম্পদে পরিণত করাই নতুন উপনিবেশবাদের কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য।

তার ভাষায়, ইন্টারনেটে সবকিছু উন্মুক্ত, তাই আমরা তা নিয়ে নিতেই পারি। এমন মানসিকতা উপনিবেশবাদের পুরোনো যুক্তিরই আধুনিক সংস্করণ।

গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাও এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

কুইন্স ইউনিভার্সিটির ফেলো এবং পিকোয়াকানাগান ফার্স্ট নেশনের সদস্য মাইকেল শেরবার্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এআই কোম্পানি চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলতে চায়। ফলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা, তাদের জ্ঞানব্যবস্থার ধরণ বোঝা কিংবা তাদের সম্মতি নেওয়ার মতো কাজগুলো বেশ ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। তাই তাদের কাছে এই কাজগুলো অগ্রাধিকার পায় না।

কামা ডট এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং চ্যাপলিউ ক্রি ফার্স্ট নেশনের সদস্য ব্রায়ান রিচি জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলননে আদিবাসিদের অংশগ্রহণ দেখেছি। কিন্তু এআই প্রশিক্ষণের সেমিনারগুলোতে অংশগ্রহণের নজির দেখি নি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিপুল জ্ঞানভান্ডারের বড় অংশই লিখিত নয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা মৌখিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। ফলে লিখিত তথ্যনির্ভর এআই মডেলগুলোর পক্ষে সেই জ্ঞান আত্মস্থ করা কঠিন। অন্যদিকে কিছু জ্ঞান ও ঐতিহ্য সচেতনভাবেই গোপন রাখা হয়, যা কখনও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটি শুধু ভুল তথ্য বা সাংস্কৃতিক বিকৃতি নয়। কারণ এআই এখন ক্রমশ মানুষের জ্ঞান অর্জন, ইতিহাস বোঝা এবং নিজের পরিচয় নির্মাণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠছে। ফলে মানুষ নিজেদের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং এমনকি সত্য-মিথ্যা নিয়ে কীভাবে ভাববে তা এআইয়ের তৈরি ব্যাখ্যা ও উত্তরগুলোর উপরই নির্ধারিত হবে ।

সেই কারণেই অনেক গবেষক প্রশ্ন তুলছেন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই সবার জ্ঞানকে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে, নাকি প্রযুক্তির আবরণে আবারও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এক নতুন ধরনের উপনিবেশবাদ?