• ই-পেপার

সংসদের অধিবেশন শুরু

ভূমি অ্যাপে কতটুকু কমবে দুর্নীতি?

অনলাইন ডেস্ক
ভূমি অ্যাপে কতটুকু কমবে দুর্নীতি?

দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, দুর্নীতি, দালালচক্র ও প্রশাসনিক জটিলতায় জর্জরিত দেশের ভূমি সেবাখাত। ফলে সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনগণকে। এমন পরিস্থিতিতে ভূমি সেবাখাতে সবধরনের অনিয়ম রুখতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি, ‘ভূমি অ্যাপ’, অনলাইন সেবা এবং কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে এ খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি কমানো ও ভোগান্তি হ্রাস করা সরকারের লক্ষ্য। 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে টিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমি খাতে দুর্নীতি আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে প্রযুক্তি সেবা দ্রুততর করলেও বহু বছরের ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি ভাঙা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে ভূমি সেবাকে আরো সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা। তিনি বলেন, যত বেশি মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে সেবা নেবেন, দুর্নীতি ও হয়রানির সুযোগ তত কমবে।

সরকারের চালু করা ‘ভূমি অ্যাপ’-এ এরই মধ্যে এক লাখের বেশি ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছেন। অ্যাপটির মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ই-মিউটেশনের আবেদন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, জমির রেকর্ড যাচাই, খতিয়ান ও মৌজা মানচিত্র সংগ্রহ, অনলাইনে অভিযোগ দাখিল এবং উত্তরাধিকার হিসাব নির্ধারণসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

ডিজিটাল সেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে দেশজুড়ে ৮৯৩টি সেবা কেন্দ্র অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং অনলাইন সেবা ব্যবহারে উৎসাহ দিতে তথ্যপত্র ও ভিডিও টিউটোরিয়াল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও গ্রামীণ এলাকায় অনেক মানুষ এখনও দালালের ওপর নির্ভরশীল। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।

এদিকে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে নতুন একটি জিও-ফেন্সিংভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অফিস চলাকালে কোনো কর্মকর্তা নির্ধারিত সীমানার বাইরে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে।

সরকার একই সঙ্গে ডিজিটাল ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ, কেন্দ্রীয় ভূমি তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ভূমি তথ্যব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দিতে আইবিএএস++ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে টিআইবির সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ভূমি সেবা গ্রহণকারী ৬৬ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির শিকার হয়েছেন, যা ২০২৩ সালে ছিল ৫১ শতাংশ। ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ সেবাগ্রহীতা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে প্রতি পরিবারে গড়ে অবৈধ অর্থ পরিশোধের পরিমাণ ১১ হাজার ৩১০ টাকা। 

জরিপে উঠে এসেছে, ভূমি খাতে ঘুষের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার ৮১ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে, যা সরকারি সেবা খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এছাড়া দেশে বিচারাধীন ৪৭ লাখের বেশি মামলার বড় একটি অংশই ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই ভূমি খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব দুর্নীতি তদন্ত করা উচিত

অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব দুর্নীতি তদন্ত করা উচিত
ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, সরকার চায় অতীত ও বর্তমান সব সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ সমানভাবে তদন্তের আওতায় আসুক।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। তাই যেকোনো সময় অভিযোগের তদন্ত করা সম্ভব। দুর্নীতি দমন কমিশন একটি স্বাধীন কমিশন। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের কেউ কিংবা বর্তমান সরকারের কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে দুদকের উচিত স্বাধীনভাবে তদন্ত করা।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে ব্রিফিং করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন আওয়ামী লীগ কোনো নামেই রাজনীতি করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। বলেন, যত দিন পর্যন্ত আদালতে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে, তত দিন তারা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। কোনো নামেই পারবে না।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কিছু গণমাধ্যম এটি মানছে না জানিয়ে গণমাধ্যমকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ায়। এ বিষয়ে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর তার সব ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে। সেই ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো আইন এবং রীতিনীতি মেনে প্রচার করবে এবং এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ভারত সীমান্তে ১৬৫টি এবং মিয়ানমার সীমান্তে ১৫টি পুশ ইন ঠেকিয়েছে বিজিবি।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য টেকসই করতে ভারসাম্য আনা জরুরি : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য টেকসই করতে ভারসাম্য আনা জরুরি : মার্কিন রাষ্ট্রদূত
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই করতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি, নতুন উড়োজাহাজ কেনা এবং প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি হলো—বাণিজ্য হতে হবে মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক। বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও, সে তুলনায় সেখান থেকে পণ্য আমদানি করে খুবই কম। একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের নিয়ম হলো, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করবে, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও পণ্য কিনতে হবে। বিশ্বের সব দেশ যদি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে; কিন্তু নিজেরা কিছু না কেনে, তবে তা দীর্ঘ মেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না। এই বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং সম্পর্ক আরো জোরদার করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’তে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ যেমন আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে, তেমনই এর শর্ত মেনে দেশের কাস্টমসব্যবস্থা, শ্রম খাত ও সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে। এই সংস্কারগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত জরুরি ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ঠিক করতে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানসম্মত গম ও কৃষিপণ্য কিনছে। মার্কিন গমে অপচয় মাত্র ২%, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আনা গমের ২০% নষ্ট হতো। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর বাড়াতে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ভবিষ্যতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। মার্কিন কম্পানিগুলো তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী, তবে সরকারের দেওয়া শর্তগুলো ব্যাবসায়িকভাবে লাভজনক হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যান বা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা নেন। জাল কাগজপত্র এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ যেন বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায়, বিশেষ করে যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবেলায় মার্কিন সহায়তা চালু রয়েছে। খুব শিগগিরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি সই হবে।

তিনি বলেন, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে শুধু ঢাকাতেই নয়—চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান চলবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশাকে লাল, সাদা ও নীল রঙে (মার্কিন পতাকার রঙে) সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও স্বাধীনতার কাহিনী তুলে ধরার জন্য ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে।

সবশেষে বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের মানুষকে মার্কিন দলকে সমর্থন করার অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।

স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার

বিনামূল্যে প্রাথমিকসেবা পাবে তৃণমূলের মানুষ

বাসস
বিনামূল্যে প্রাথমিকসেবা পাবে তৃণমূলের মানুষ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দেশের মানুষের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং ভোগান্তি কমাতে রাজধানীসহ বড় শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে আর শহরমুখী হতে হবে না। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েই আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এতে একদিকে মানুষের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে তৃণমূলের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে তোলা হবে স্বাস্থ্য ইউনিট, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধাসহ জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও আউটডোর সেবা এবং আধুনিক প্যাথলজি সুবিধা সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে প্রতিটি হাসপাতালে একজন নারী ও একজন পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্টের পদ থাকবে।

জেলা হাসপাতালগুলোতেও আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ করা হবে। সেখানে ক্যান্সার ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তৃণমূলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ গঠন এবং ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (হেলথ স্ক্রিনিং) কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে বলা হয়, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। যেখানে চিকিৎসা থাকবে সবার নাগালে। যুক্তরাজ্যের জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) মডেলের আদলে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের অধীনে তিনটি করে প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র (কমিউনিটি ক্লিনিক) থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন তিনজন প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার।’

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মোট ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সরকার প্রত্যেক নাগরিককে একটি ইলেকট্রনিক হেলথ (ই-হেলথ) কার্ড দেবে। এ কার্ডের মাধ্যমে দেশের যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের চিকিৎসক রোগীর আগের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধসংক্রান্ত তথ্য দেখতে পারবেন। এ লক্ষ্যে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী- এই পাঁচ জেলায় ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পে ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শিগগিরই ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীও নিয়োগ দেবে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে মিডওয়াইফ থাকবেন। এতে স্বাভাবিক প্রসবসহ বিভিন্ন ধরনের মাতৃস্বাস্থ্যসেবা আরো সহজলভ্য হবে।

তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিভাগে ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অবকাঠামো আরো শক্তিশালী করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে কার্যকর সেকেন্ডারি হেলথ কেয়ার কেন্দ্রে উন্নীত করতে হবে।