শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রীর (১২) নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে তিন দিন বয়সী ওই পুত্রসন্তানটি মারা যায়।
সোমবার (২২ জুন) মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ নবজাতকের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতকের প্রকৃত পিতৃপরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
জানা যায়, শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে দাদির সঙ্গে থেকে একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত ওই কিশোরী। তার বাবা-মা অপর এক সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরে থাকতেন এবং বাবা সেখানে রিকশা চালাতেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানান, প্রায় নয় মাস আগে একদিন সন্ধ্যায় কোচিং শেষ করে বাড়ি ফিরছিল তার মেয়ে। পথে প্রতিবেশী সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মফিজুল ওরফে সোহেল তাকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে বিষয়টি তখন কাউকে জানায়নি ওই কিশোরী।
ঘটনার চার মাস পর কিশোরীর দাদি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। ইতিমধ্যে তার বাবা-মা গাজীপুর থেকে বাসা বদল করে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আসার পর কিশোরীটি আর গ্রামে ফিরে যেতে রাজি হয়নি। পরে দাদিকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে কিশোরীকে মোহাম্মদপুরের বাসায় রেখে পড়াশোনা করানোর উদ্যোগ নিচ্ছিলেন বাবা-মা।
পারিবারিক সূত্রে আরো জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ জুন) হঠাৎ ওই কিশোরী পেটে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানায়। তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় সে বাথরুমে প্রবেশ করে। দীর্ঘক্ষণ পর সে বাথরুম থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ওই বাড়ির ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) বাথরুমে একটি নবজাতক পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন নারীর সহায়তায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করে ওই দিনই ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে শিশুটি মারা যায়।
কিশোরীর বাবা বলেন, ‘নবজাতকটি কোথা থেকে এলো, তা খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি সেটি আমার মেয়েরই গর্ভের সন্তান। পরে তাকে অভয় দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বিস্তারিত জানায়। আমরা মান-সম্মানের দিকে তাকিয়ে বিষয়টি আর কাউকে জানাতে চাইনি। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কোনো মামলাও করতে চাইনি।’
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. সেলিম আজ বিকেলে নবজাতকের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। মর্গ সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নবজাতকের বাবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।




