• ই-পেপার

বিভ্রান্তি-অপপ্রচার

অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল বন্ধের ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

দুই মামলায় মমতাজের জামিন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুই মামলায় মমতাজের জামিন স্থগিত
সংগৃহীত ছবি

চব্বিশের জুলাইয়ে গণ-আন্দোলনের সময় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। সোমবার (২২ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে সেই জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত। 

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেন ও মো. মাসুদুল আলম দোহা। মমতাজের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী মোসা. খায়রুন নেছা।

আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা, একটি হত্যাচেষ্টা মামলা ও মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় গত ১৫ জুন হাইকোর্ট মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন। আইনজীবী মোসা. খায়রুন নেছা কালের কণ্ঠকে বলেন, এই তিন মামলার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। গত রবিবার একটি আবেদনে চেম্বার আদালত নো অর্ডার দেন। ফলে জামিন বহাল থাকে। কিন্তু সোমবার অন্য দুই মামলার জামিন স্থগিত করেছেন।

মমতাজের বিরুদ্ধে আরো তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় হাইকোর্ট তার জামিন প্রশ্নে পৃথক রুল জারি করেছেন বলে জানান আইনজীবী খায়রুন নেছা।

বাংলা লোকগানের কিংবদন্তি শিল্পী মমতাজ বেগম মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সংসদ সদস্য ছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমণ্ডির  একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় ও কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার কয়েকটি থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
 

হামলা-ভাঙচুরের মামলায় এনসিপি নেতা আনোয়ার ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামলা-ভাঙচুরের মামলায় এনসিপি নেতা আনোয়ার ৩ দিনের রিমান্ডে
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আনোয়ার হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক শাহ মিনহাজ উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, আনোয়ার হোসেন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। স্থানীয় লোকজনের জবানবন্দি, ভিডিও ফুটেজ এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

হত্যাচেষ্টা মামলায় ইনু-মেননকে গ্রেপ্তার দেখালেন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
হত্যাচেষ্টা মামলায় ইনু-মেননকে গ্রেপ্তার দেখালেন আদালত
ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর বংশালে মো. মোখলেছিনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক এমপি হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে আসামিদেরকে আদালতে হাজির করে এ আবেদন করেন। রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ সালের আগস্টের ৫ তারিখ মিছিলরত অবস্থায় চানখারপুল মোরের নাজিমউদ্দীন রোডে বাদী মো. মোখলেছিন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় গত বছরের ১ জানুয়ারি বাদী হয়ে মোখলেছিন একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

পি কে হালদারের সহযোগী অভিজিতের ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
পি কে হালদারের সহযোগী অভিজিতের ৭ বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

দেশের অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িত আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের সহযোগী ও সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিজিৎ অধিকারী তীর্থকে দুর্নীতির মামলায় পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় দেন।

সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় অভিজিৎ অধিকারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং এক কোটি ৩৫ লাখ পাঁচ হাজার ২৮৪ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে অর্জিত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব দে। তিনি জানান, আসামি মামলার শুরু  থেকেই পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

২০২৩ সালের ৬ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদী হয়ে এ মামলা করেন। তার বিরুদ্ধে এক কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ ভোগ দখলের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অপরাধ উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ মে দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে এক কোটি ৩৫ লাখ পাঁচ হাজার ২৮৪ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেননি। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আজ সাজার রায় এলো।