• ই-পেপার

সাদাপাথরে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামে ‘শীর্ষ ছিনতাইকারী’ মুন্নাসহ গ্রেপ্তার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ‘শীর্ষ ছিনতাইকারী’ মুন্নাসহ গ্রেপ্তার ৬
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম শীর্ষ ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত মহিউদ্দিন মুন্নাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নগরের চকবাজার থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন মহিউদ্দিন মুন্না (৩০), মো. আলী আকবর (৩০), সাজ্জাদ হোসেন (২৪), বাবু (২২), মো. জসিম (২৬) এবং মো. সাজ্জাদ হোসাইন (২৫)।

ওসি নূর হোসেন মামুন বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি জানান, গ্রেপ্তার মহিউদ্দিন মুন্নার বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ছিনতাই, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অস্ত্র আইনের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি সাজা ভোগ করেছেন, আর কয়েকটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সরকারের লক্ষ্য : প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সরকারের লক্ষ্য : প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবিকায়নের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সমতল অঞ্চলে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জীবনমান সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় শুক্রবার (৩ জুলাই) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় সুফলভোগীদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনকল্যাণমুখী উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। মানবিক রাষ্ট্র গঠনে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিএনপি সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। এরপর তিনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

হাওরের মাছের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করা হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
হাওরের মাছের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করা হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু
ছবি: কালের কণ্ঠ

হাওরের মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, ‘হাওরের মাছের জন্য যেসব কাজ করলে আপনাদের উপকার হবে, আমরা সবই করব। তবে এ জন্য আমাদের সময় দিতে হবে। মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে এবং নিয়ম মানতে হবে।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনার মদন উপজেলা খেলার মাঠে পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ১৬ টন পোনা মাছ হাওরে অবমুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘দয়া করে কেউ ৩ টাকার আশায় ৩০০ টাকার মাছ নষ্ট করবেন না। আপনাদের আর কিছু চাইতে হবে না, রাস্তাঘাটসহ সব উন্নয়ন করা হবে।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরকে স্থানীয় এলাকার ‘মা-মাটি ও মানুষের নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন।

মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘এই এলাকায় পোনা মাছ অবমুক্ত করা হবে। চার মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে এই এলাকার মানুষের অভাব-অনটন দূর হবে। আমি যখনই জেলে গিয়েছি, আমাদের প্রিয় বড় ভাই লুৎফুজ্জামান বাবর পাশে থেকেছেন। আজ আমরা তার এলাকায় এসেছি। আমার পূর্বপুরুষ এখনো এই এলাকায় বসবাস করেন। এই এলাকার উন্নয়নে যা প্রয়োজন, আমি তা করব ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাদির হোসেন শামীমসহ অনেকে।

পরে পোনামাছ অবমুক্ত উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা ৪ আসনের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

কলেজছাত্র নয়ন হত্যা মামলায় স্কুলছাত্র মানিক জেলহাজতে

ভোলা প্রতিনিধি
কলেজছাত্র নয়ন হত্যা মামলায় স্কুলছাত্র মানিক জেলহাজতে
সংগৃহীত ছবি

ভোলার লালমোহনে কলেজছাত্র মো. ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৮) হত্যা মামলায় স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ আল মানিককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। 

গ্রেপ্তার মানিক উপজেলার ফুলবাগিচা এলাকার মো. আলাউদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

এর আগে গত ২ জুলাই রাতে নিহতের বাবা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে লালমোহন থানায় মানিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। 

অপরদিকে স্কুলছাত্র মানিকের ছুরিকাঘাতে আহত মো. আশরাফ ও মো. আরমান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২ জুলাই দুপুরে লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাম্মেল উকিলের বালুর মাঠে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন ইব্রাহিম খলিল নয়নসহ মো. আশরাফ, মো. আরমান ও অমিত নামের আরো তিন যুবক। সে সময় মো. আবদুল্লাহ আল মানিক সেখানে এলে পূর্ববিরোধের জেরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মানিক পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার কাছে থাকা চাকু বের করে নয়নসহ আশরাফ ও আরমানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে নয়ন মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিল নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া বাকি দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর লালমোহন থানা পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে হাজির হয়। পুলিশ সেখান থেকে রক্তমাখা মাটি ও একজোড়া স্যান্ডেল জব্দ করে। পরবর্তীতে পুলিশ লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহত নয়নের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. আবদুল্লাহ আল মানিক স্থানীয় লোকজনের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে লালমোহন থানার সামনে থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুসহ তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মানিকের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ সুপার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকের সঙ্গে নয়ন ও তার বন্ধুদের একটি মেয়ের প্রেমসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছুদিন আগে বাগবিতণ্ডা হয়। ওই বিষয়টি নিয়েই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, নিহত নয়নের বাবার মামলার আলোকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে পুলিশ আসামির রিমান্ড আবেদন করবে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত আসামি একজন।