ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আজ গভীর শোকে মুহ্যমান। প্রায় চার দশক ধরে ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে দেশটির জনগণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, শুক্রবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ নিয়ে আসা হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়ার শোকানুষ্ঠান আগামী ৬ দিন ধরে তেহরান, কোম, ইরাকের নাজাফ এবং ইরানের মাশহাদে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এতে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।
খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিদেশি অতিথিদের মধ্যে আছেন—ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ইসলামী আলেম এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। ইরানে স্বীকৃত বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ ছাড়া খামেনির দাফনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসছে। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্তত ৮ জন সরকারপ্রধান এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া আরো অনেক দেশ তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী অথবা বিশেষ দূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠাবে।
পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পার্লামেন্টের সদস্যরা শেষবিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানানো ইউরোপের দেশগুলোকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও জানান বাঘাই।
বাঘাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

এদিকে সরকারিভাবে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের এই আয়োজনের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কর্মীদের স্বজনেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রয়াত নেতাকে শেষবিদায় জানান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সব শ্রেণি-পেশা ও মতের ইরানিদের শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘বীরত্বপূর্ণ ইরান যখন ইসলাম ও বিপ্লবের একনিষ্ঠ সেবককে শেষবিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমি জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক মত, আদর্শ বা ধর্ম-নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত, মর্যাদাপূর্ণ এবং ইতিহাসে স্মরণীয় সংখ্যায় এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার উচ্চ আদর্শের প্রতি আনুগত্যের এক স্থায়ী চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।’
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ বলছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তাদের ভাষায়, এটি আধুনিক ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য ও জনসমর্থনের অন্যতম বৃহত্তম সমাবেশে পরিণত হতে পারে।
খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। ওই হামলার মধ্য দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের সূচনা হয়।