নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জেঁকে বসা কুখ্যাত চাল-গম লুটপাটকারী সিন্ডিকেট অবশেষে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। উপজেলার অসহায়, দুঃস্থ মানুষ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়ে টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির সরকারি খাদ্যশস্য পৌঁছে গেছে প্রকৃত উপকারভোগীদের ঘরে। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তার একক সাহসিকতা, অনড় অবস্থান এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণেই দুই দশকের চুরির রাজত্বের অবসান ঘটল। গত সোমবার সকাল থেকে রূপগঞ্জের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে সরাসরি এই খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
দুই দশকের শোষণের অবসান : যেভাবে চলত লুটপাট
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে রূপগঞ্জে সরকারি ত্রাণ ও উন্নয়ন বরাদ্দের চাল-গম নিয়ে এক নজিরবিহীন হরিলুট চলে আসছিল। একটি প্রভাবশালী ও অসাধু চক্র প্রশাসন ও মাঠ পর্যায়কে জিম্মি করে প্রকৃত উপকারভোগীদের নামমাত্র মূল্যে চাল ও গম বিক্রি করতে বাধ্য করত। প্রতি কেজি চাল মাত্র ১৫-১৬ টাকা এবং গম ১০-১২ টাকা দরে অসহায় মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাতিয়ে নিত এই সিন্ডিকেট।
পরবর্তী সময়ে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে নিত চক্রটি। বছরের পর বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটি এই বৈষম্যের শিকার হলেও, সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু রূপগঞ্জের দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গরিবের হকের ওপর কোনো ধরনের থাবা সহ্য করা হবে না।
প্রথম দিনেই রেকর্ড বরাদ্দ বিতরণ
সংসদ সদস্যের কঠোর ও প্রত্যক্ষ নজরদারির সুফল মিলেছে হাতেনাতে। গত সোমবার প্রথম দিনেই উপজেলার ২২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুকূলে চলতি অর্থবছরের তিন ধাপের মোট ৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ৮৬ মেট্রিক টন গম স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সরাসরি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের স্পর্শ ছাড়াই শত শত অসহায় মানুষ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে তাদের প্রাপ্য শতভাগ বুঝে নেন। এমপি দিপুর এই জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের ফলে এবারই প্রথম কোনো প্রকার কর্তন বা পার্সেন্টেজ ছাড়া পুরো বরাদ্দ সাধারণ মানুষের ঘরে উঠল।
দিপু ভূঁইয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাধারণ মানুষ
সরকারি চাল ও গম পুরোপুরি ও সরাসরি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা। দীর্ঘদিন পর কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া নিজের অধিকার ফিরে পেয়ে অনেকেই আনন্দের অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। উপজেলার এক প্রবীণ মাদরাসা শিক্ষক বলেন, ‘আমরা তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে সরকারি সাহায্য পুরোটা পাওয়া যায়। বিগত ১৮ বছর ধরে আমাদের শুধু কাগজে-কলমে সই নিয়ে নামমাত্র কিছু টাকা ধরিয়ে দেওয়া হতো, বাকি সব খেয়ে ফেলতো দালালরা। মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু সাহেব আমাদের এই জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করেছেন। আল্লাহ ওনাকে দীর্ঘজীবী করুন।’
কামশাইর মসজিদ কমিটির সভাপতি তারা মিয়া বলেন, ‘জীবনে এই প্রথম মসজিদের সব টাকা পেয়েছি। আগে তো ডাকাতি করত। আর এসব হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়ার সাহসিকতার কারণে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমপি দিপুর এই একটি পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তিনি রূপগঞ্জকে একটি শোষণমুক্ত, আধুনিক ও আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কতটা বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ দাবি তুলেছেন, বিগত ১৮ বছর ধরে যারা এই চাল আত্মসাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
জিরো টলারেন্সে প্রশাসন : এমপির কঠোর হুঁশিয়ারি
এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর এই কঠোর নির্দেশনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারাও। উপজেলা ওসিএলএসডি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান তুহিন অত্যন্ত প্রত্যয়ের সঙ্গে জানান, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু মহোদয়ের স্পষ্ট এবং কঠোর নির্দেশনা রয়েছে—সরকারি খাদ্য সহায়তায় ১ কেজির এদিক-সেদিক করা যাবে না। যারা প্রকৃত হকদার, মাল সরাসরি তাদের হাতেই যাবে। এমপির এই কঠোর অবস্থানের কারণেই আজ আমরা অত্যন্ত সফলভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়া ২২টি প্রকল্পের ৮৬ টন চাল ও ৮৬ টন গম বিতরণ করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে যেন কোনো সিন্ডিকেট বা দালাল চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য স্যারের নির্দেশে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে।’
রূপগঞ্জের সাধারণ ভোটার ও মেহনতি মানুষেরা বলছেন, এই চাল বিতরণ শুধু একটি সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন নয়, বরং এটি রূপগঞ্জে চলমান শুদ্ধি অভিযানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই যেভাবে মাদক, চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, এই চাল বিতরণ কর্মসূচি তারই একটি সফল প্রতিফলন। রূপগঞ্জের আপামর জনতা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে দিপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই রূপগঞ্জ হবে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত এক শান্তির জনপদ।