• ই-পেপার

গভীর সমুদ্রে বিকল ফিশিং বোটসহ ১০ জেলে উদ্ধার

উখিয়ায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
উখিয়ায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের সময় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মাদককারবারি রাশেদুলকে (২৫) আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল (২৯ জুন) বিকেলে অভিযানটি পরিচালনা করে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর বালুখালী বিওপি-এর একটি বিশেষ টহলদল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ নলবনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

‘আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৪টার পর মায়ানমার থেকে জেলের ছদ্মবেশে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের দিকে আসতে দেখে বিজিবি টহলদলের সন্দেহ হয়। বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। তল্লাশির সময় আটক ব্যক্তির কোমরে বাঁধা অবস্থায় এবং হাতে থাকা মাছের টুকরির ভেতর বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা খাকি রঙের প্যাকেট থেকে নীল রঙের বায়ুরোধী ৬টি কার্টনে সংরক্ষিত মোট ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’

আটক রাশেদুল উখিয়ার বালুখালী নলবুনিয়া গ্রামের মাহাবুব আলমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, তিনি মায়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশে বাংলাদেশে নিয়ে আসছিলেন।

তিনি আরো জানান, নিজে এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার জাল ও মাছের টুকরির মধ্যে ইয়াবা লুকিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে পাচার করে আসছিলেন। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী চক্র এবং তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষকের সঙ্গে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
শিক্ষকের সঙ্গে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সাভারের আশুলিয়ায়  বংশাই (গাজীখাল) নদীতে শিক্ষকের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে রাতুল হাসান রিফাত (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষকের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারটির। 

নিহত রাতুল হাসান রিফাত (১৪) জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার উত্তর কিসমত জাল্লা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আশুলিয়ার কোনাপাড়া এলাকায় আবুল হোসেনের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করত এবং স্থানীয় আল-কলম প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষক ইমরান নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাতসহ ৯ শিক্ষার্থীকে নিয়ে গাজীরখালে গোসল করতে আসেন। পানিতে নেমে রিফাতসহ আরো ২-৩ জন পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ সময় দুইজনকে পানি থেকে উঠাতে পারলেও পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় রিফাত। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর রাহাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত হাসপালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

স্থানীয় আমছু রহমান জানান, ‘আল কলম স্কুলের শিক্ষককে বারবার নিষেধ করা হয়েছে যে এখানে পানির স্রোত বেশি, নাইমেন না। এরপরও ৯ জন বাচ্চা নিয়ে সে নদীতে নামে। আধাঘণ্টা পরেই হঠাৎ ওই শিক্ষকসহ আরো দুই শিক্ষার্থী পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। পরে দুইজন উঠে আসতে পারলেও রিফাত নিখোঁজ হয়। এরপর স্থানীয় আরো বেশ কয়েকজনকে নিয়ে খোঁজাখোঁজি করে প্রায় এক ঘণ্টা পরে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, আল ক্বলম স্কুল থেকে কয়েক দিন পরপরই শিক্ষার্থীদের বিনোদনের নাম করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আর আজকে এমনি করে নদীতে নিয়ে আসা হয়েছিল। একজন শিক্ষকের অবহেলায় এক মায়ের বুক খালি হলো। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানাই। 

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে স্কুলটির কর্ণধার খোরশেদ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে তথ্য চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দেন। পরে বারবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ছাড়া একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরানের কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। মরদেহ বর্তমানে ঢাকা কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে রয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

কর্ণফুলীতে লাইটার জাহাজডুবি, ১২ জন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কর্ণফুলীতে লাইটার জাহাজডুবি, ১২ জন উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের কর্ণফুলী নদীর বঙ্গোপসাগর মোহনায় দুটি লাইটার জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ‘এমভি বে হারবার-২’ নামে পাথরবোঝাই একটি লাইটার জাহাজ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।

সোমবার (২৯ জুন) রাত ৩টার দিকে বন্দর চ্যানেলের ২ ও ৩ নম্বর বয়ার মাঝামাঝি স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর জাহাজের ১২ জন নাবিক নিখোঁজ হলেও কোস্ট গার্ড ও স্থানীয়দের যৌথ তৎপরতায় তাদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বন্দর ও কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, রাতে ঘন কুয়াশার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি জাহাজের সঙ্গে ‘এমভি বে হারবার-২’-এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে জাহাজটির খোল ফেটে গিয়ে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই জাহাজের ১২ জন নাবিক উত্তাল সাগরে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের একটি উদ্ধারকারী দল মেটাল শার্ক ও বিশেষ উদ্ধারকারী বোট নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তারা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সমুদ্রের বুক থেকে ৮ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে তীব্র স্রোতের কারণে বাকি ৪ জন নাবিক মূল দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভেসে যান। পরবর্তী সময়ে প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূরে আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকত এলাকায় তারা ভেসে উঠলে স্থানীয় জেলেরা ও সৈকতে থাকা লোকজন তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন।

কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম সাগরে উদ্ধার অভিযানে নামে। রাতের অন্ধকার ও সমুদ্রের তীব্র স্রোতের কারণে অভিযান বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা ১২ জন নাবিকের সবাইকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘পাথরবোঝাই লাইটার জাহাজটি ডুবে গেলেও চট্টগ্রাম বন্দরের মূল চ্যানেলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি মূল চ্যানেল থেকে কিছুটা দূরে ডুবে যাওয়ায় অন্য কোনো বড় জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাস্থলে লাল বয়া বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত সব নাবিক সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। জাহাজটি উদ্ধারে পরবর্তী আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

১৮ বছরের বঞ্চনার অবসান, সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিলেন এমপি দিপু

রুপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
১৮ বছরের বঞ্চনার অবসান, সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিলেন এমপি দিপু
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জেঁকে বসা কুখ্যাত চাল-গম লুটপাটকারী সিন্ডিকেট অবশেষে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। উপজেলার অসহায়, দুঃস্থ মানুষ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়ে টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির সরকারি খাদ্যশস্য পৌঁছে গেছে প্রকৃত উপকারভোগীদের ঘরে। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তার একক সাহসিকতা, অনড় অবস্থান এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণেই দুই দশকের চুরির রাজত্বের অবসান ঘটল। গত সোমবার সকাল থেকে রূপগঞ্জের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে সরাসরি এই খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

 

​দুই দশকের শোষণের অবসান : যেভাবে চলত লুটপাট

​অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে রূপগঞ্জে সরকারি ত্রাণ ও উন্নয়ন বরাদ্দের চাল-গম নিয়ে এক নজিরবিহীন হরিলুট চলে আসছিল। একটি প্রভাবশালী ও অসাধু চক্র প্রশাসন ও মাঠ পর্যায়কে জিম্মি করে প্রকৃত উপকারভোগীদের নামমাত্র মূল্যে চাল ও গম বিক্রি করতে বাধ্য করত। প্রতি কেজি চাল মাত্র ১৫-১৬ টাকা এবং গম ১০-১২ টাকা দরে অসহায় মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাতিয়ে নিত এই সিন্ডিকেট।

​পরবর্তী সময়ে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে নিত চক্রটি। বছরের পর বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটি এই বৈষম্যের শিকার হলেও, সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু রূপগঞ্জের দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গরিবের হকের ওপর কোনো ধরনের থাবা সহ্য করা হবে না।

 

​প্রথম দিনেই রেকর্ড বরাদ্দ বিতরণ

​সংসদ সদস্যের কঠোর ও প্রত্যক্ষ নজরদারির সুফল মিলেছে হাতেনাতে। গত সোমবার প্রথম দিনেই উপজেলার ২২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুকূলে চলতি অর্থবছরের তিন ধাপের মোট ৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ৮৬ মেট্রিক টন গম স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সরাসরি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের স্পর্শ ছাড়াই শত শত অসহায় মানুষ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে তাদের প্রাপ্য শতভাগ বুঝে নেন। এমপি দিপুর এই জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের ফলে এবারই প্রথম কোনো প্রকার কর্তন বা পার্সেন্টেজ ছাড়া পুরো বরাদ্দ সাধারণ মানুষের ঘরে উঠল।

দিপু ভূঁইয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাধারণ মানুষ

​সরকারি চাল ও গম পুরোপুরি ও সরাসরি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা। দীর্ঘদিন পর কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া নিজের অধিকার ফিরে পেয়ে অনেকেই আনন্দের অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। উপজেলার এক প্রবীণ মাদরাসা শিক্ষক বলেন, ​‘আমরা তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে সরকারি সাহায্য পুরোটা পাওয়া যায়। বিগত ১৮ বছর ধরে আমাদের শুধু কাগজে-কলমে সই নিয়ে নামমাত্র কিছু টাকা ধরিয়ে দেওয়া হতো, বাকি সব খেয়ে ফেলতো দালালরা। মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু সাহেব আমাদের এই জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করেছেন। আল্লাহ ওনাকে দীর্ঘজীবী করুন।’

কামশাইর মসজিদ কমিটির সভাপতি তারা মিয়া বলেন, ‘জীবনে এই প্রথম মসজিদের সব টাকা পেয়েছি। আগে তো ডাকাতি করত। আর এসব হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়ার সাহসিকতার কারণে।’ 

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমপি দিপুর এই একটি পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তিনি রূপগঞ্জকে একটি শোষণমুক্ত, আধুনিক ও আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কতটা বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ দাবি তুলেছেন, বিগত ১৮ বছর ধরে যারা এই চাল আত্মসাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

 

জিরো টলারেন্সে প্রশাসন : এমপির কঠোর হুঁশিয়ারি

​এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর এই কঠোর নির্দেশনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারাও। উপজেলা ওসিএলএসডি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান তুহিন অত্যন্ত প্রত্যয়ের সঙ্গে জানান, ​‘মাননীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু মহোদয়ের স্পষ্ট এবং কঠোর নির্দেশনা রয়েছে—সরকারি খাদ্য সহায়তায় ১ কেজির এদিক-সেদিক করা যাবে না। যারা প্রকৃত হকদার, মাল সরাসরি তাদের হাতেই যাবে। এমপির এই কঠোর অবস্থানের কারণেই আজ আমরা অত্যন্ত সফলভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়া ২২টি প্রকল্পের ৮৬ টন চাল ও ৮৬ টন গম বিতরণ করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে যেন কোনো সিন্ডিকেট বা দালাল চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য স্যারের নির্দেশে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে।’

রূপগঞ্জের সাধারণ ভোটার ও মেহনতি মানুষেরা বলছেন, এই চাল বিতরণ শুধু একটি সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন নয়, বরং এটি রূপগঞ্জে চলমান শুদ্ধি অভিযানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই যেভাবে মাদক, চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, এই চাল বিতরণ কর্মসূচি তারই একটি সফল প্রতিফলন। রূপগঞ্জের আপামর জনতা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে দিপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই রূপগঞ্জ হবে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত এক শান্তির জনপদ।