• ই-পেপার

১৮ বছরের বঞ্চনার অবসান, সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিলেন এমপি দিপু

শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামিন করিয়েছিল স্ত্রী, এবার তাকেই হত্যা করল স্বামী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামিন করিয়েছিল স্ত্রী, এবার তাকেই হত্যা করল স্বামী
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রী দুলালি বেগমকে (৫৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে স্বামী বিরাজ মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের গোশাইপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার।

নিহত দুলালি বেগম উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চক সিংহডাঙ্গা গ্রামের দুলু মিয়ার মেয়ে।

আটক বিরাজ কাটাবাড়ী ইউনিয়নের সদর কলোনি গ্রামের ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৯ বছর আগে শাশুড়ি হত্যার অভিযোগও রয়েছে। তার স্ত্রী দুলালী বেগমই ওই মামলায় কারাগার থেকে জামিন করিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলে সাংসারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী দুলালির বুকে ছুরিকাঘাত করে রিয়াজ। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এরপর পাটক্ষেতে আত্মগোপন করে রিয়াজ। সন্ধ্যার পরে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত স্বামী বিরাজকে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।’  


 

কু‌ড়িগ্রা‌মে দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে

কম‌ছে অন্য নদ-নদীর পানি

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কু‌ড়িগ্রা‌মে দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে
ছবি: কালের কণ্ঠ

উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদের পানি সমতলে কমলেও এখনো বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদী অববাহিকার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টায় কু‌ড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢল কমে গিয়ে জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

অন্যদিকে, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন‌্য ৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৩ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার ও দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।

দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া ও চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, চর লুছনি ও ফান্দরচর, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ঢেবঢেবীর চর, কাঠগিরী, কৃষ্ণপুর এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নিচু এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মিয়াপাড়া, মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ সড়ক ডুবে গিয়ে ওপর দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়াও দুধকুমার নদের পানি বেড়ে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘গতকাল সোমবার বিকেল থেকে জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাগেশ্বরী উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকায় ডুবে যাওয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় আমরা জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এনেছি।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘জেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য নগদ ২ লাখ টাকা এবং ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

ড্রেনে পড়ে ছিল রক্তাক্ত কুকুর, নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা

অনলাইন ডেস্ক
ড্রেনে পড়ে ছিল রক্তাক্ত কুকুর, নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা
সংগৃহীত ছবি

বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকায় একটি পথকুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে এজাহারটি দায়ের করেন।

মামলায় কানছগাড়ী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. স্বপনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সোমবার দুপুরে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে এমরান হোসেন কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে যান। সেখানে একটি সাদা-কালো রঙের পথকুকুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জলেশ্বরীতলার একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

বাদীর দাবি, খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাসহ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি সমন্বিত চিকিৎসকদল কুকুরটির চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসার পর প্রাণীটি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে।

এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়, ঘটনাস্থলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত স্বপন ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে কুকুরটিকে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছেন। আহত প্রাণীটির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এবং সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।

এ অভিযোগটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বগুড়া সদর থানা সূত্রে জানা গেছে ।

কান্নার শব্দে মিলল শিশুর অবস্থান, ময়লার স্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
কান্নার শব্দে মিলল শিশুর অবস্থান, ময়লার স্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার স্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে খবর পেয়ে হাসপাতালের নার্সরা ওই নবজাতককে উদ্ধার করে।

জানা গেছে, সোমবার রাত ১টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে ভেসে আসা শিশুর কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় আয়া বিষয়টি কর্তব্যরত নার্সদের জানান। পরে নার্সরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পরপরই নবজাতকটিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে শুরু করেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরাত ফারজানা খান জানান, শিশুটি বর্তমানে জীবিত আছে। তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে নবজাতক উদ্ধারের খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাফসা নাদিয়া। তিনি জানান, একজন মা হিসেবে এমন সংবাদ শুনে তিনি মানসিকভাবে স্থির থাকতে পারেননি। শিশুটির সর্বোচ্চ সুরক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে এমন নির্মম ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।