• ই-পেপার

দেড় মাস আগে বদলির আদেশ, এখনো মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘরেই তন্ময়

নবীনগরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ মামলা, গ্রেপ্তার ১

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
নবীনগরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ মামলা, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে নবীনগর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সুমন মিয়া উপজেলার চিত্রি গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টায় নবীনগর থানার চিত্রি গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া একই এলাকার এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে কৌশলে ধর্ষণ করে। এ অভিযোগ এনে ভুক্তভোগীর পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশক্রমে নবীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

দীর্ঘ চার মাস পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ২৩ জুন রাতে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চিত্রি গ্রামের মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী গ্রেপ্তারের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি সুমন মিয়াকে সব আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে আজ বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখ হারালেন আইনজীবী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখ হারালেন আইনজীবী
ছবি: কালের কণ্ঠ

চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরের আঘাতে ডান চোখ হারিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৫)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান চোখটি অপসারণ করতে হয়।

বুধবার (২৪ জুন) বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক মনা জানান, পারিবারিক কাজে তিনি ও শ্যামল চন্দ্র দাস সোমবার সকালে ঢাকায় যান। রাতে তারা তূর্ণা নিশিতা ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরছিলেন। ট্রেনের ‘ন’ বগিতে বসেছিলেন তারা।

রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি আশুগঞ্জের তালশহর রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর এসে শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে নেমে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকরা তার ডান চোখটি অপসারণ করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনাটি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন। তবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অর্ধগলিত মরদেহ দেখে চিনতে পারেননি স্বজনরা, গ্রেপ্তার ৬

জামালপুর প্রতিনিধি
অর্ধগলিত মরদেহ দেখে চিনতে পারেননি স্বজনরা, গ্রেপ্তার ৬
সংগৃহীত ছবি

জামালপুরের ইসলামপুরে লাগেজবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহ প্রথমে শনাক্ত করতে পারেননি নিহতের পরিবারের সদস্যরাও। পরে পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন তারা। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নিহত নায়েব আলী (৩৫) মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন।

পিবিআই জানায়, গত ২১ জুন নায়েব আলী নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। দুই দিন পর, ২৩ জুন ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে লাগেজবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে প্রথমে পরিবারের সদস্যরা সেটি শনাক্ত করতে পারেননি। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। পরে নিখোঁজ ব্যক্তির জিডির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে স্বজনদের আবার মর্গে নেওয়া হলে তারা পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে মরদেহটি নায়েব আলীর বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন নাহিদুল ইসলাম (৩০), সোলাইমান (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আবদুল কাদের (৫৪), রাসেল হোসেন (৩৪) ও সাগর পাশা (২৬)। তারা সবাই মেলান্দহ উপজেলার বাসিন্দা।

জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, তদন্তের একপর্যায়ে নাহিদুল ইসলামের ওপর সন্দেহ হয়। পরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় নিহতের অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নাহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নায়েব আলীকে একটি ভাঙারির দোকানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পেছন থেকে জিআই তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ একদিন একটি ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। এদিকে অটোরিকশাটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা স্থানে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ইসলামপুরের বেনুয়ারচর এলাকার মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়।

এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, আদালতেও তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

ময়মনসিংহে বজ্রাঘাতে কলেজছাত্রীসহ দুজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে বজ্রাঘাতে কলেজছাত্রীসহ দুজনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বজ্রাঘাতে এক কলেজছাত্রীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন পুটিজানা ইউনিয়নের দেবগ্রামের ঝুটন চন্দ্র সেনের মেয়ে তুলী রানী সেন (১৬)। সে ফুলবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। আরেকজন নিজপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক (৫০)।

স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যার দিকে তুলী রানী বাড়ির পাশে হাঁটছিল। ওই সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। এক পর্যায়ে হঠাৎ বজ্রপাতে তুলী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

কালাদহ ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান নামের একজন বাসিন্দা জানান, নিজপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেক স্থানীয় বাজার থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বজ্রাঘাতে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি।