ঐতিহাসিক পলাশী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আব্দুল খালেক মিলনায়তনে ‘আর নয় পলাশী : চাই জাতীয় ঐক্য ও সংহতি’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
পলাশী দিবস উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক এস এম সিরাজুদ্দৌলাহ্। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকার গবেষক অ্যাডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহসান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ্ ছিদ্দিকী। সেমিনার উদ্বোধন করেন নবাব সিরাজউদ্দৌলাহ্’র ৯ম রক্তধারা প্রজন্ম সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেফ ওরফে নবাবজাদা আলী আব্বাসউদ্দৌলা। তিনি বলেন, ‘ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বে সত্যকে সদা সমুন্নত রাখতে ঐতিহাসিক কারবালা ট্রাজেডির শিক্ষা যেমন বিশ্ব মুসলিমের জন্য অপরিহার্য, অনুরূপ স্বদেশপ্রেম, স্বদেশীয় রাজনীতি এবং মুসলিম ঐতিহ্য ও আদর্শ বজায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও সংসদে বিরোধী দলসহ দেশপ্রেমী সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে ঐতিহাসিক পলাশী বিপর্যয় থেকে যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহিবউল্যাহ্ বলেন, ‘পলাশীর প্রধান শিক্ষা হল, কারো তুলনামূলক সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও অতুলনীয় অর্জন থাকলেও কর্মস্থলে সততা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ হারালে তাকে তার অসততা, বিশ্বাসঘাতকতা ও কর্তব্যকর্মে দায়িত্ব অবহেলার জন্য চরম পরিণতি ভোগ করতেই হবে। নবাবের বিশ্বস্ত প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের বিশ্বাসঘাতকতায় ইংরেজদের সাথে পলাশী যুদ্ধে কেবল নবাবের পরাজয় হয়নি, ভারতবর্ষে মুসলিম নেতৃত্ব ও সোনালী মুসলিম শাসনের অবসানও ঘটেছিল। তা থেকে উত্তরণে প্রতিবাদী অসংখ্য উলামা-মাশায়িখ ও সচেতন মুসলিম জনতাকে অকাতরে প্রাণ দিতে হয়েছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ১৯০ বছর ইংরেজ শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের এক পর্যায়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতৃত্বে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষের মুসলিমপ্রধান দুটি অঞ্চলের সমন্বয়ে ‘পাকিস্তান’ রাষ্ট্র স্বাধীন হয়। সেদিন পাকিস্তানের সাথে ‘পূর্ববঙ্গ’ সংযুক্ত করা হয়েছিল বলেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘সাম্য, সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মর্যাদা’র ভিত্তিতেই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ থেকে ‘বাংলাদেশ’ নামে এ ভূখণ্ড দ্বিতীয় বার স্বাধীন হয়।’
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বকর রফীক। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থার আবহ বজায় রাখার স্বার্থে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামী সাহিত্যিক ও মানবাধিকার গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার। ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চিটাগং-এর ক্যাম্পাস কো-অর্ডিনিটর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রবন্ধের আলোকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ্ নোমান, ইতিহাস অন্বেষা সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলাম, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখর-উদ-দীন, ইসলামী সমাজচিন্তক প্রিন্সিপ্যাল আবদুর রহমান চৌধুরী।
দ্বিতীয় পর্বে ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক সাময়িকী ‘নাগরিক বার্তা’র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশনার সম্পাদকীয় উপস্থাপন করেন সাময়িকীর সম্পাদক ও পলাশী উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব প্রবীণ সাংবাদিক এম ওসমান গণি।





