• ই-পেপার

পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সাদা পাথর, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

মধুখালীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল লুট

ফরিদপুর ও মধুখালী প্রতিনিধি
মধুখালীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল লুট

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার হাটঘাটা গ্রামের একটি প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতে ১৩ থেকে ১৪ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

গতকাল রবিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার হাটঘাটা গ্রামের হাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক মো. খাইরুল ইসলাম মোল্লা প্রতিদিনের মতো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে দরজায় শব্দ শুনে তিনি ও তার স্ত্রী এগিয়ে গেলে একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।

ডাকাতরা প্রথমেই পরিবারের ১৫ বছর বয়সী ছেলে মাহিকে বেঁধে ফেলে। পরে খাইরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে রাখে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে ঘরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নতুন কাপড়চোপড় এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছে পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাতরা পাশের আরো কয়েকটি বাড়িতে হানা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং দরজায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার সকালে মধুখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে সোমবার সকালে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনা। সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুট করেছে। আমিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। 

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এদিকে ঘটনার পর হাটঘাটা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

নানার মৃত্যুর ২ দিনের মাথায় পানিতে ডুবে নাতনির মৃত্যু

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
নানার মৃত্যুর ২ দিনের মাথায় পানিতে ডুবে নাতনির মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে নানার মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই পানিতে ডুবে নাতনির মৃত্যু হয়েছে। পরপর দুই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটোরা বিলওয়াই গ্রামের মুন্সী বাড়ির একটি পুকুরে ডুবে হাবিবা (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের বাসিন্দা করিম মুন্সীর ছেলে আবু তাহের (৫৫) গত শনিবার (২০ জুন) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর দুই দিনের মাথায় নাতনি হাবিবার পানিতে ডুবে মৃত্যু ঘটে।

হাবিবা আবু তাহেরের মেয়ের সন্তান বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মহসিন ফারুক বাদল বলেন, ‘নানা ও নাতনির পরপর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

আ. লীগের সাবেক এমপিসহ ৪০০ নেতাকর্মীর নামে মামলা

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
আ. লীগের সাবেক এমপিসহ ৪০০ নেতাকর্মীর নামে মামলা
সংগৃহীত ছবি

বরিশালের বানাড়ীপাড়ায় শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনিসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদী এ মামলা করেন। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে (রাসেল) স্বপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে গরদ্বার গ্রামে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আসামিরা বোমার বিস্ফোরণ করে। এতে তার ঘর আগুনে পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।  

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু ও জিয়াউল হক মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন উর রশিদ স্বপন ও নুরুল হুদা, সদস্য আনিছুর রহমান মিলন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফারুক সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুল হক মাসুম,সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা, মনির হোসেন ও জাহিদ হোসেন সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক সহসভাপতি মনির বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহসিন ফকির ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার।

এ ছাড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্,যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান সুমন, সেলিম, জসিম মীর, মাসুম আকন  সোহাগ মাল, আতিকুল ইসলাম বাপ্পী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মাল, বন্দর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুমন পোদ্দার,বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর  ওয়ার্ড, আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ্ ফকির, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাইশারীর ইউপি সদস্য শাহাদাত ফকির, বাইশারীর সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী, সাবেক ইউপি সদস্য রিপন বড়াল,  ইউপি সদস্য সাহেব আলী বাইশারীর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ  সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, ৮ নম্বর ওয়ার্ড  আওয়ামী লীগ সভাপতি কালাম বেপারী,আওয়ামী লীগ কর্মী ছৈয়দ,  ইমন ও অলিন কৃষ্ণ শীলকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০-৪০০ জন নেতাকর্মীকে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া ষ্টেশনের টিম লিডার আনোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে গরদ্বার গ্রামে অগ্নিকান্ডের খবর পান। তারা সেখানে যাওযার প্রস্ততি নেয়ার মধ্যে ফের খবর আসে আগুন নেভানো হয়েছে। তাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়নি। 

মামলার আাসামি আওয়ামী লীগের দলীয় সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে বিএনপি নাটক মঞ্চস্থ করেছে।

এজাহারের অন্যতম আসামি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল জানান, এ মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন তাকে আসামি করা হয়েছে। বাদী রাসেলকেও তিনি চেনেন না।

বাদী মো. রাসেলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপরাগতা জানান।

বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আবদুল্লাহ ফকির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনাস্থলে তিনি যাননি। আসামীর মধ্যে উপজেলা বিএনপি সহ সভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।
 

রাজশাহীর দুর্গাপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর দুর্গাপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীর দুর্গাপুরে ঝটিকা মিছিল করেছেন দলটির কয়েক নেতাকর্মী। মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২১ জুন) উপজেলার কানপাড়া-খড়খড়ি সড়কের ফলিয়ার বিল এলাকায় ১০ থেকে ১২ যুবক মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরে ঝটিকা মিছিল করেন। প্রায় ৫ থেকে ৬ মিনিট স্থায়ী ওই মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে থাকা ব্যানারে ‘আয়োজনে—রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ’ লেখা ছিল।

ব্যানারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারার ছবি ছিল। এ ছাড়া সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিও স্থান পায়। ব্যানারে ‘প্রত্যাবর্তন-০২’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগানসহ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা ১০ থেকে ১২ জন যুবক ফলিয়ার বিলের মধ্যবর্তী সেতুর কাছে ব্যানার প্রদর্শন করে ছবি তোলেন। পরে তারা ব্যানার হাতে সংক্ষিপ্ত মিছিল করে দক্ষিণ দিকে চলে যান। মিছিল শেষে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তাদের দেখে ছাত্রলীগের কর্মী বলে মনে হয়েছে।

রবিবার রাতে ঝটিকা মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী নিজেদের ফেসবুক আইডিতে এসব ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, ‘ঝটিকা মিছিলের বিষয়টি আমরা জেনেছি। কারা এ ধরনের মিছিল করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট থাকায় প্রাথমিকভাবে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’