• ই-পেপার

নানার মৃত্যুর ২ দিনের মাথায় পানিতে ডুবে নাতনির মৃত্যু

সিংড়ায় ২০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
সিংড়ায় ২০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস
ছবি: কালের কণ্ঠ

নাটোরের সিংড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসআই) এর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ২০ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সিংড়া পৌরসভার সরকারপাড়া মহল্লায় অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

অভিযানে ২০ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জাল ব্যবহার ও বিক্রির দায়ে ৩ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জব্দ জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে সরকারপাড়া মহল্লার মৃত হায়দার আলীর ছেলে মো. একাব্বর হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, নলডাঙ্গা উপজেলার একডালা গ্রামের মৃত আমির আলী সরদারের ছেলে মো. শহীদুল সরদারকে ২ মাসের জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং সরকারপাড়ার মো. আলাউদ্দিনের ছেলে মো. রাজীব হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ, সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ও এনএসআই-এর সদস্যরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। দুজনকে বিভিন্ন সাজা ও একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। চলনবিলের মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

শেষ বয়সে নিজের ঘরে মরতে পারবো কিনা জানি না—ভাঙনে বৃদ্ধের হাহাকার

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
শেষ বয়সে নিজের ঘরে মরতে পারবো কিনা জানি না—ভাঙনে বৃদ্ধের হাহাকার
সংগৃহীত ছবি

‘শেষ বয়সে নিজের একটা ঘরে মরতে পারবো কিনা জানি না।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখ ভিজে আসে নব্বই ঊর্ধ্ব হাসমত বেপারীর। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে শান্তিতে নিজের ভিটেমাটিতে থাকার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন বারবার ভেঙে দিয়েছে সর্বগ্রাসী পদ্মা নদী। গত কয়েক দশকে সাতবার বসতভিটা হারানোর পর এবারও নদীভাঙনের কবলে পড়ে স্মৃতিবিজড়িত বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে ভাড়া বাসায়।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা হাসমত বেপারী বর্তমানে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। তার ছেলে সৌদি আরবে প্রবাসী হলেও জীবনের শেষ সময়ে নিজের মাথা গোঁজার স্থায়ী কোনো ঠাঁই নেই এই বৃদ্ধের। চোখের সামনে ভেঙে যেতে দেখেছেন নিজের হাতে গড়া বাড়ি, আবাদি জমি আর বহু বছরের স্মৃতি।

কাঁপা কণ্ঠে হাসমত বেপারী বলেন, ‘জীবনে আটবার ঘর তুলেছি, আটবারই পদ্মা নিয়ে গেছে। এই বয়সে এসে আর নতুন করে কিছু করার শক্তি নেই। বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। জানি না শেষ বয়সে নিজের একটা ঘরে মরতে পারবো কিনা।’

হাসমত বেপারীর মতো এমন বেদনার গল্প রয়েছে সদরপুর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী এলাকার অসংখ্য মানুষের। প্রতি বছরই নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারাচ্ছে শত শত পরিবার। পানি বাড়লেই বাড়ে আতঙ্ক, কাটে নির্ঘুম রাত। নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে অনেক পরিবারকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

বর্তমানে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা ও আকোট গ্রামে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার এবং প্রায় ১০টি গ্রাম।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। কয়েকদিন ধরে পদ্মার তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

তারা দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আকোটেরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার জানান, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন,‘পদ্মা নদীর ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

পদ্মার ভয়াল থাবায় বছরের পর বছর ধরে সর্বস্ব হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন থামছেই না। হাসমত বেপারীর মতো অসংখ্য মানুষ এখনো অপেক্ষায় আছেন—কবে মিলবে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান, কবে ফিরবে নিজের ভিটেমাটিতে নিরাপদে থাকার নিশ্চয়তা।

দামুড়হুদায় বিশেষ অভিযানে যুবলীগকর্মী গ্রেপ্তার

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দামুড়হুদায় বিশেষ অভিযানে যুবলীগকর্মী গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে যুবলীগের এক সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) ভোররাতে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার কাদীপুর গাংপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে নিজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন ওই গ্রামের মৃত নিজামুদ্দিনের ছেলে ও যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সন্ত্রাস বিরোধী মামলার আসামি দেলোয়ারকে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে রাসেল মিয়া (৩৭) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল মিয়া ওই গ্রামের কতুব উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাসেল মিয়ার কাছে রামনগর গ্রামের সাইদুর রহমানের চার হাজার টাকা পাওনা ছিল। এ টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অন্যদিকে, রাসেল তার স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার দুপুরে সাইদুর রহমান কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রাসেলকে আটক করেন। পরে তারা একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সাইদুর রহমান ও তার সহযোগীরা রাসেলকে ব্যাপক মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মা শিল্পী বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, রাসেলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত সাইদুর রহমান, লাল মিয়া ও মামুনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

করিমগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুবীর কুমার সাহা বলেন, ‘পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন রাসেলকে আটক করে মারধর করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তিনি আরো জানান, মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।