বরিশালের বানাড়ীপাড়ায় শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনিসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদী এ মামলা করেন। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে (রাসেল) স্বপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে গরদ্বার গ্রামে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আসামিরা বোমার বিস্ফোরণ করে। এতে তার ঘর আগুনে পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন– উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু ও জিয়াউল হক মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন উর রশিদ স্বপন ও নুরুল হুদা, সদস্য আনিছুর রহমান মিলন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফারুক সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুল হক মাসুম,সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা, মনির হোসেন ও জাহিদ হোসেন সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক সহসভাপতি মনির বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহসিন ফকির ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার।
এ ছাড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্,যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান সুমন, সেলিম, জসিম মীর, মাসুম আকন সোহাগ মাল, আতিকুল ইসলাম বাপ্পী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মাল, বন্দর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুমন পোদ্দার,বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড, আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ্ ফকির, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাইশারীর ইউপি সদস্য শাহাদাত ফকির, বাইশারীর সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী, সাবেক ইউপি সদস্য রিপন বড়াল, ইউপি সদস্য সাহেব আলী বাইশারীর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কালাম বেপারী,আওয়ামী লীগ কর্মী ছৈয়দ, ইমন ও অলিন কৃষ্ণ শীলকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০-৪০০ জন নেতাকর্মীকে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া ষ্টেশনের টিম লিডার আনোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে গরদ্বার গ্রামে অগ্নিকান্ডের খবর পান। তারা সেখানে যাওযার প্রস্ততি নেয়ার মধ্যে ফের খবর আসে আগুন নেভানো হয়েছে। তাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়নি।
মামলার আাসামি আওয়ামী লীগের দলীয় সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে বিএনপি নাটক মঞ্চস্থ করেছে।
এজাহারের অন্যতম আসামি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল জানান, এ মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন তাকে আসামি করা হয়েছে। বাদী রাসেলকেও তিনি চেনেন না।
আরো পড়ুন
মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এমপিপুত্র সজীবকে
বাদী মো. রাসেলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপরাগতা জানান।
বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আবদুল্লাহ ফকির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনাস্থলে তিনি যাননি। আসামীর মধ্যে উপজেলা বিএনপি সহ সভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।