ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতি গঠনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংকটের প্রতিটি মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির প্রত্যাশা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে টিএসসিতে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এ কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে উন্নত হচ্ছে এবং ২০২৬-২০৪৬ মেয়াদের ‘একাডেমিক প্ল্যান’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবননির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”
আলোচনাসভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস মূলত গণতন্ত্র, জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক অগ্রগতির ইতিহাস। এর প্রকৃত শক্তি মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চায় নিহিত রয়েছে।’
এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল, হোস্টেল ও প্রশাসনিক ভবন থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রা সহকারে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হন। এরপর উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। সকাল ১০টায় টিএসসি মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন ও কেক কাটা হয় এবং সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীতসহ দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, গণতন্ত্র ও উচ্চশিক্ষা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গবেষণা ও উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে পরিকল্পিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। এ ছাড়া ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু এবং ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমও আলোচনায় অংশ নেন।
দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্যানেল আলোচনা, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কনসার্ট এবং সাইক্লিং ক্লাবের বাইসাইকেল র্যালি ও স্টান্ট শো। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১০৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদী।





