• ই-পেপার

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক মনোমালিন্য এড়াতে নববী নির্দেশনা

টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানা কি জায়েজ, ইসলাম কী বলে?

মুফতি ওমর বিন নাছির
টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানা কি জায়েজ, ইসলাম কী বলে?
সংগৃহীত ছবি

মানুষ স্বভাবতই নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আগামী দিনে কী ঘটবে, জীবনে সুখ-দুঃখ, সফলতা-ব্যর্থতা, বিয়ে, সন্তান, অর্থ-সম্পদ কিংবা মৃত্যু—এসব বিষয় জানার কৌতূহল মানুষের চিরন্তন প্রবৃত্তি। এই কৌতূহলকে পুঁজি করেই যুগে যুগে জ্যোতিষী, গণক, ভাগ্যবিচারক ও বিভিন্ন অলৌকিক দাবিদার মানুষের ঈমান ও বিশ্বাস নিয়ে খেলেছে। আধুনিক সময়ে এই ধারারই একটি মাধ্যম হলো টেরোট কার্ড। অনেকে দাবি করে, এই বিশেষ ধরনের কার্ড দেখে মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য বলা যায়। কিন্তু একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার দাবি ইসলামের দৃষ্টিতে কি বৈধ? এটি কি শুধু হারাম, নাকি শিরক ও কুফরির অন্তর্ভুক্ত? বর্তমানে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এর উত্তর জানা অত্যন্ত জরুরী।

আল্লাহই একমাত্র অদৃশ্য সব বিষয় জানেন 

ইসলামের মৌলিক আকিদা হলো—গায়েব তথা অদৃশ্য জগতের পূর্ণ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলার। তিনি যাকে যতটুকু ইচ্ছা ওহির মাধ্যমে জানান, সে শুধু ততটুকুই জানতে পারে। এর বাইরে কোনো মানুষ, ফেরেশতা, জিন, গণক কিংবা কোনো বস্তু নিজস্ব ক্ষমতায় ভবিষ্যৎ জানে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘অদৃশ্য জগতের চাবিকাঠি তাঁর কাছেই রয়েছে। তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী (সা.) ঘোষণা করতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘বলুন, আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডার রয়েছে এবং আমি গায়েব জানি না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫০)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, মহানবী (সা.)ও নিজ থেকে গায়েব জানতেন না; আল্লাহ ওহির মাধ্যমে যতটুকু জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ততটুকুই জানতেন।

টেরোট কার্ডে বিশ্বাস কেন হারাম?
টেরোট কার্ডের মূল ভিত্তিই হলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। অথচ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলারই রয়েছে। তাই কেউ যদি বিশ্বাস করে যে টেরোট কার্ড বা কার্ড পাঠকারী ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে ভবিষ্যৎ জানে, তাহলে সে আল্লাহর একচেটিয়া গুণে অন্যকে অংশীদার বানাচ্ছে। এটা শিরক এবং অত্যন্ত ভয়াবহ আকিদাগত বিচ্যুতি। কেননা টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার দাবি মিথ্যা। এতে বিশ্বাস করা হারাম। এমনকি কৌতূহলবশত এসব চর্চায় অংশ নেওয়াও মারাত্মক গুনাহ এবং ঈমানের জন্য বিপজ্জনক।

হাদিসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা
রাসুলুল্লাহ (সা.) গণক ও ভাগ্যবিচারকদের কাছে যাওয়া থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, সে যেন মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ বিধানের সঙ্গে কুফরি করল।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৩৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৬৩৯)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে কোনো বিষয় জিজ্ঞাসা করবে, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল করা হবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৩০)
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, শুধু বিশ্বাস করাই নয়; নিছক কৌতূহলবশত এসব গণক বা ভবিষ্যৎবক্তার কাছে যাওয়াও মারাত্মক অপরাধ।

একজন মুসলিমের করণীয়
১. একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
২. ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা না করে আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।
৩. কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী দোয়া, ইস্তিখারা ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
৪. টেরোট কার্ড, রাশিফল, জ্যোতিষ, হাত দেখা, সংখ্যা বা নক্ষত্রের মাধ্যমে ভাগ্য গণনা—এসব থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।
৫. নিজের পরিবার ও সন্তানদেরও এসব ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে রক্ষা করা।

অতএব, টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানা যায়—এমন বিশ্বাস করা কুফরি, এবং এটা ইসলামে সুস্পষ্ট হারাম । তাই কৌতূহলবশতও এসব চর্চায় অংশ নেওয়া জায়েজ নেই। কেননা এটা ঈমানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একজন মুমিনের প্রকৃত পথ হলো—আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করা, তাঁর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা এবং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শিরক, কুফরি, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত আকিদা থেকে হেফাজত করুন এবং বিশুদ্ধ ঈমানের ওপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের বাণী

কেয়ামতের দিন আল্লাহ যেভাবে গুনাহগার বান্দার প্রতি রহম করবেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কেয়ামতের দিন আল্লাহ যেভাবে গুনাহগার বান্দার প্রতি রহম করবেন
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয় আমি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে ভালোভাবে জানি। আর যে ব্যক্তি সর্বশেষ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, তাকেও জানি। কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে (আল্লাহর নিকট উপস্থিত করে) বলা হবে, এর সগিরা গুনাহগুলো উপস্থিত করো এবং কবিরা গুনাহগুলো গোপন করে রাখো। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি অমুক অমুক দিনে এই এই গুনাহ করেছ। তখন সে ব্যক্তি সবগুলো গোনাহের কথা স্বীকার করবে। একটিও অস্বীকার করবে না। তখন সে তার কবীরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তার এই অবস্থা দেখে ঘোষণা দেয়া হবে যে, তার প্রতিটি মন্দ কাজের বিনিময়ে একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করো। তখন বান্দা খুশিতে বলে উঠবে যে, নিশ্চয় এখনো আমার অনেক গুনাহ বাকী আছে, যা আমি দেখতে পাচ্ছি না। এই হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আবু জর (রা.) বলেন, তখন আমি দেখলাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসছেন; এমনকি তাঁর সাদা দাতগুলো দেখা যাচ্ছিল। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৪৩০, সিলসিলায়ে সহিহাহ, হাদিস : ৩০৫২)

শিক্ষা ও বিধান 
১. আল্লাহর রহমত অত্যন্ত ব্যাপক। তাই আল্লাহ তাআলা চাইলে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে সেগুলোর পরিবর্তে নেকি দান করতে পারেন। তাই কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়।
২. সগিরা ও কবিরা গুনাহের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইসলামে গুনাহ দুই প্রকার—সগিরা (ছোট) ও কবিরা (বড়)। উভয় থেকেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
৩. কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে নিজের আমলের হিসাব দিতে হবে। দুনিয়ার কোনো কাজই আল্লাহর কাছে গোপন নয়। সবকিছুর হিসাব নেওয়া হবে।
৪. সত্য গোপন করার সুযোগ থাকবে না। আল্লাহর সামনে মানুষ নিজের গুনাহ স্বীকার করতে বাধ্য হবে। সেখানে মিথ্যা বলা বা অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকবে না।
৫. আল্লাহ বান্দার সম্মান রক্ষা করেন। এই হাদিসে কবিরা গুনাহ গোপন রাখার কথা এসেছে, যা আল্লাহর অসীম দয়া ও বান্দার প্রতি তাঁর পর্দা রাখার গুণের পরিচয় বহন করে।
৬. তাওবা ও ঈমানের মূল্য অপরিসীম। যিনি শেষ পর্যন্ত জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবেন, তিনি ঈমানদার ছিলেন। এতে বোঝা যায়, ঈমান ও আন্তরিক তাওবার গুরুত্ব অনেক।
৭. মুমিনের মধ্যে আশা ও ভয়—দুটিই থাকা উচিত। গুনাহের জন্য ভয় থাকবে, আবার আল্লাহর ক্ষমার প্রতি দৃঢ় আশাও থাকবে। এটাই ভারসাম্যপূর্ণ ঈমানের পরিচয়।

সারকথা, এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, আল্লাহ তাআলার রহমত সীমাহীন। তাই গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত আন্তরিক তাওবা করতে হবে, নেক আমলে অটল থাকতে হবে এবং কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। একই সঙ্গে গুনাহকে হালকা মনে না করে সর্বদা হিসাবের দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন।

বৃদ্ধ বয়সে প্রশস্ত রিজিকের জন্য পঠিতব্য দোয়া

মুফতি ওমর বিন নাছির
বৃদ্ধ বয়সে প্রশস্ত রিজিকের জন্য পঠিতব্য দোয়া
সংগৃহীত ছবি

জীবনের শুরুতে মানুষ শক্তি, সামর্থ্য ও কর্মক্ষমতার ওপর ভর করে জীবিকা অর্জন করে। কিন্তু বয়স যখন বাড়তে থাকে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং উপার্জনের পথও অনেক সময় সংকুচিত হয়ে আসে। এমন সময় একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় ভরসা হন মহান আল্লাহ। কারণ তিনিই রাজ্জাক (সর্বশ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা)। তাই বৃদ্ধ বয়সেও যেন অভাব, অসহায়ত্ব বা মানুষের মুখাপেক্ষী হতে না হয়, সে জন্য আল্লাহর কাছে প্রশস্ত ও বরকতময় রিজিকের প্রার্থনা করা উচিত। তেমনি একটি দোয়া হলো, 

 اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ أَوْسَعَ رِزْقِكَ عَلَيَّ عِنْدَ كِبَرِ سِنِّيْ , وَانْقِطَاعِ عُمُرِيْ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজ আল আওসাআ রিজক্বিকা আলাইয়া ইনদা কিবারি সিন্নি, ওয়ানক্বিত্বাই উমুরি।

অর্থ : হে আল্লাহ ! আপনার দেওয়া রিজককে আমার বৃদ্ধ বয়সে এবং জীবনের সমাপ্তি পর্যন্ত প্রশস্ত করে দিন। (তররানি শরিফ, হাদিস : ৩৬১১)

অহংকারী ব্যক্তি চেনার ১০ উপায়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
অহংকারী ব্যক্তি চেনার ১০ উপায়
সংগৃহীত ছবি

আরবি ভাষায় ‘কিবর’, ‘তাকাব্বুর’ ও ‘ইস্তিকবার’ শব্দগুলো কাছাকাছি অর্থ বহন করে। যার অর্থ অহংকার করা। ইমাম রাগিব আল-আসবাহানি বলেন, ‘কিবর বা অহংকার হলো এমন একটি অবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের প্রতি মুগ্ধ হয়ে পড়ে। অর্থাৎ সে নিজেকে অন্যদের তুলনায় বড় ও শ্রেষ্ঠ মনে করে। আর সবচেয়ে ভয়াবহ অহংকার হলো আল্লাহর প্রতি অহংকার করা অর্থাৎ সত্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করা এবং তাঁর ইবাদতের কাছে আত্মসমর্পণ না করা।’ (গারিবুল কোরআন, পৃষ্ঠা : ৪২১)

ইস্তিকবার বা অহংকার প্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে—

১. নিজেকে বড় করার চেষ্টা করা, যখন তা যথাযথ স্থান, সময় ও অবস্থার মধ্যে হয়, তখন তা প্রশংসনীয় হতে পারে।

২. নিজের মধ্যে যা নেই, তা আছে বলে প্রকাশ করা অর্থাৎ মিথ্যা বড়ত্ব দেখানো।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, ‘সব নিন্দনীয় চরিত্রের মূল হলো অহংকার, হীনতা ও নীচতা। আর সব প্রশংসনীয় চরিত্রের মূল হলো বিনয় ও উচ্চ আকাঙ্ক্ষা। গর্ব, ঔদ্ধত্য, আত্মপ্রশংসা, হিংসা, সীমা লঙ্ঘন, অহংকারপূর্ণ আচরণ, জুলুম, কঠোরতা, দাম্ভিকতা, উপদেশ গ্রহণে অনীহা, নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, মর্যাদা ও নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা, যা করেনি তার জন্য প্রশংসা কামনা করা—এ সবই অহংকার থেকে জন্ম নেয়।’ (আল-ফাওয়ায়িদ, পৃষ্ঠা : ১৪৩)

অহংকারের বিভিন্ন রূপ
অহংকারের অনেক রূপ আছে, যার সব গণনা করা কঠিন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা : সত্য জেনে তা গ্রহণ না করা অহংকারের অন্যতম বড় নিদর্শন। আল্লাহ বলেন, ‘তারা তা অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর তা নিশ্চিতভাবে জানত—অন্যায় ও অহংকারবশত।’ (সুরা : আন-নামল, আয়াত : ১৪)

২. মানুষের প্রাপ্ত নিয়ামতের প্রতি হিংসা করা : মহান আল্লাহ কাকে কোন নিয়ামত দান করবেন, এটা সম্পূর্ণ তাঁর এখতিয়ারাধীন। তবু মানুষ অন্যের প্রাপ্ত নিয়ামত নিয়ে হিংসা করে, যেভাবে ইবলিস আদম (আ.)-এর প্রতি হিংসা করেছিল। আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সিজদা করো, তখন সবাই সিজদা করল, শুধু ইবলিস ছাড়া। সে অস্বীকার করল, অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ৩৪)

৩. প্রবৃত্তির কারণে সত্যের বিরোধিতা করা : আল্লাহ বলেন, ‘যখনই তোমাদের কাছে কোনো রাসুল এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা তোমাদের মন চায়নি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। ফলে কাউকে মিথ্যা বলেছ এবং কাউকে হত্যা করেছ।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ৮৭)

৪. মিথ্যা, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা : সত্যের বিরোধিতা ও অহংকারের কারণে মানুষ এসব কাজে লিপ্ত হয়। আল্লাহ বলেন, ‘তারা পৃথিবীতে অহংকার ও মন্দ ষড়যন্ত্র করেছিল। অথচ মন্দ ষড়যন্ত্র তার মালিকদেরই ঘিরে ফেলে।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ৪২-৪৩)

৫. শক্তি ও ক্ষমতার কারণে গর্ব করা : শক্তি ও ক্ষমতার কারণে গর্ব করা অন্যতম অহংকারমূলক কাজ। যেমন—আদ জাতি করেছিল। আল্লাহ বলেন, ‘আদ জাতি পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিল এবং বলেছিল, আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে আছে?’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ১৫)

৬. দুর্বল মানুষকে অবহেলা ও পথভ্রষ্ট করা : আল্লাহ বলেন, ‘যারা অহংকার করেছিল তারা দুর্বলদের বলবে—আমরা কি তোমাদের হেদায়েত থেকে বাধা দিয়েছিলাম? বরং তোমরাই অপরাধী ছিলে।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ৩২)

৭. নিজের আমল ও কর্ম নিয়ে অহংকার করা : নিজের কাজকে সব সময় সঠিক মনে করা অহংকারীর স্বভাব। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের বলা হবে—জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো, সেখানে চিরকাল থাকবে। অহংকারীদের জন্য এটি কতই না নিকৃষ্ট আবাস!’ (সুরা : আন-নাহল, আয়াত : ২৯)

৮. জুলুম, অন্যায় ও ভ্রষ্টতার পথ অনুসরণ করা : আল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার নিদর্শন থেকে তাদের ফিরিয়ে রাখব, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করে।’ (সুরা : আল-আরাফ, আয়াত : ১৪৬)

৯. চলাফেরা ও বেশভূষায় অহংকার প্রকাশ করা : আল্লাহ বলেন, ‘পৃথিবীতে দম্ভভরে বিচরণ কোরো না। তুমি কখনো জমিন বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং পাহাড়ের সমান উচ্চতাও অর্জন করতে পারবে না।’ (সুরা : আল-ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৭)

১০. পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্য কামনা করা : আল্লাহ বলেন, ‘এ আখিরাতের আবাস আমি তাদের জন্য নির্ধারণ করি, যারা পৃথিবীতে বড়ত্ব ও বিশৃঙ্খলা কামনা করে না।’ (সুরা : আল-কাসাস, আয়াত : ৮৩)

আরেকটি হলো নিজের সম্মানে দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে মানুষ তার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আসন প্রস্তুত করে নেয়।’ (সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল আদব, হাদিস : ৫২২৯)

অহংকারী ব্যক্তি চেনার আরো কিছু উপায়
ঘরের বাইরে, বিশেষ করে বাজারে বা জনসমক্ষে একা চলতে অপছন্দ করা; বরং নিজের সঙ্গে লোকজনকে অনুসারী হিসেবে রাখতে চাওয়া।
অন্যদের বাড়িতে যেতে অপছন্দ করা, বিশেষ করে নিজের সমমানের লোকদের।
অন্য কেউ নিজের পাশে বসলে অস্বস্তি বোধ করা, যেন মর্যাদা সমান হয়ে যাবে।
অসুস্থ ও দুর্বল মানুষের সঙ্গে বসতে অপছন্দ করা (সংক্রমণের ভয় ছাড়া শুধু মর্যাদার কারণে)।
ঘরের কোনো কাজ নিজ হাতে করতে অপছন্দ করা।
নিজের জিনিসপত্র নিজে বহন করতে লজ্জাবোধ করা।
সাধারণ বা নিম্ন মানের পোশাক পরতে অপছন্দ করা।
গরিব মানুষের দাওয়াত গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করা।
আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের প্রয়োজনীয় ছোটখাটো কাজ বাজার থেকে করে দিতে অপছন্দ করা।
সমবয়সী বা সমপর্যায়ের কেউ আগে হাঁটলে বা আগে বসলে কষ্ট পাওয়া।
বিতর্কে সত্য প্রকাশ পাওয়ার পরও তা গ্রহণ না করা, যাতে মানুষ তাকে কম জ্ঞানী মনে না করে।
নিজের ভুল জানা সত্ত্বেও তা স্বীকার না করা এবং যে ব্যক্তি তাকে ভুল দেখিয়ে দিয়েছে তাকে ধন্যবাদ না দেওয়া। 

সারকথা হলো, অহংকার হলো নিজের বড়ত্বের মিথ্যা অনুভূতি, যা মানুষকে সত্য গ্রহণ, বিনয় ও আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো আল্লাহ ও সত্যের প্রতি অহংকার করা। আর এর প্রতিকার হলো বিনয়, সত্য গ্রহণ, নিজের দুর্বলতা উপলব্ধি এবং আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করা।