ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছরের এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অপরাধে মো. আ. মমিন নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর আসামি মো. এরশাদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আ. মমিন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল থানার ভাবনাবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে মমিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক আটটার দিকে ভুক্তভোগী বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে রেখে তার মা এক প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। রাত নয়টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী আ. মমিন তার মেয়ের মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করছেন। এসময় তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্ত মমিনের ভাই মো. এরশাদের কাছে বিচার চাইতে গেলে তিনি এর কোনো বিচার না করে উল্টো হুমকি-ধমকি দেন এবং মমিনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার কথা বলে আসামিপক্ষ সময় ক্ষেপণ করায়, ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই রায় দিলেন আদালত।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, দণ্ডিত আসামির ওপর আরোপিত দুই লাখ টাকার অর্থদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী কিশোরীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আইন অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে দণ্ডিত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমা করা অর্থ পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে প্রদান করা হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামি তদন্ত ও বিচার চলাকালীন যতটুকু সময় হাজতবাস করেছেন, তা তার মূল সাজা থেকে বাদ যাবে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, ‘আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এক অসহায় বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অপরাধ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেল।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ বলেন, ‘আমার মক্কেল মমিন সম্পূর্ণ নির্দোষ, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যের মধ্যে অনেক গরমিল ছিল। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করব। আশা করি সেখানে তিনি খালাস পাবেন।’







