অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের মানহানী করার জন্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন শাহবাগ থানায় এ জিডি দায়ের করেন। মিথ্যা, ভিত্তিহীন অপতথ্য ছড়ানোর পেছনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মচারীদের ইন্ধন থাকতে পারে বলে জিডিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
একটি রিভিউ মামলা থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রী বরাবর দেওয়া এক ব্যক্তির দুই পৃষ্ঠার অভিযোগ গত ১০ জুন রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে নিজের ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবিএম ইব্রাহীম খলিল, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হয়।
এবিএম ইব্রাহিম খলিলের ফেসবুক আইডির কথা উল্লেখ করে জিডিতে বলা হয়েছে, এই ফেসবুক আইডি দিয়ে তার (অ্যাটর্নি জেনারেল) নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ সংক্রান্ত একটি চিঠি আপলোড করে প্রকাশ করেছে। যে চিঠির বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত, পরস্পরবিরোধী ও অসংগতিপূর্ণ। পরবর্তীতে ‘সৈনিক প্রথম সংবাদ’ এবং ‘জুরোকন’ নামের বেশ কিছু ফেইসবুক পেইজ ও অনলাইন পোর্টালে সেটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।’
জিডিতে আরো বলা হয়েছে, ‘চিঠিতে (আইনমন্ত্রী বরাবর দেওয়া অভিযোগে) অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে জানুয়ারি মাসে একটি মামলায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চলতি বছরের ২৫ মে।’
উক্ত চিঠিতে (আইনমন্ত্রী বরাবর দেওয়া অভিযোগে) প্রধান বিচারপতি, চেম্বার-জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের কার্যধারা ও কজলিস্ট বিষয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে জিডিতে।
জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, “আমাদের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ফেইসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আমি তার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে ফেসবুকের মাধ্যমে উনার কাছে অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। যেহেতু আমি আমার আইডিতে পোস্ট করেছি, এটা উনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) দলীয় গ্রুপিংয়ে নিয়ে গেছেন। এরপর আমার নাম উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় জিডি করিয়েছেন। এটা উনার একটি ছেলে মানসিকতা।”
বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের মিডিয়া ফোবিয়া আছে মন্তব্য করে ইব্রাহীম খলিল বলেন, “ফলে কোনো কিছু হলেই উনি নিউজ করান। আলোচনায় থাকতে চান। এই আলোচনায় তাকতে চাওয়া থেকেই এই জিডি করা হয়ে থাকতে পারে।”
ফেসবুকে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারী হিসেবে মো. ফিরোজপুর রহমানের নাম উল্লেখ আছে। ঢাকার ফুলবাড়ীয়ার জাকের সুপার মার্কেটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। আর লিখিত অভিযোগে মো. ফিরোজপুর রহমানের যে মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ফুলবাড়িয়া জাকের সুপার মার্কেটের ফিরোজ আহম্মেদের। এই ফিরোজ আহম্মেদ নিজের নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ এনে গত ১০ জুন বংশাল থানায় একটি জিডি করেন। সিই জিডিতে তিনি বলেছেন, তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে আইনমন্ত্রী বরাবর কোনো অভিযোগ দেননি। এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।











