• ই-পেপার

জামায়াতের ৩ নেতার পদ স্থগিত

পেকুয়ায় বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
পেকুয়ায় বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩
সংগৃহীত ছবি

আনোয়ার-বাঁশখালী-চকরিয়া (এবিসি) সড়কের পেকুয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষের দুজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অটোরিকশার আরো তিন যাত্রী। সোমবার (১৫ জুন) সকাল আটটার দিকে এবিসি সড়কের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের টৈটং বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

‎নিহতরা হলেন- নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়ি টিক্কা পাড়ার আবদুর রশিদের ছেলে হাসান আলী (৬৫) এবং সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার শৈলজানা এলাকার তোতা বেপারীর ছেলে আফজাল সরকার (৪৫)। আহতরা হলেন- পেকুয়া উপজেলার হরিণাফাঁড়ি এলাকার সিরাজ (৪২), শাহেদ (২২) ও নিহত হাসান আলী পরিবারের ২ সদস্য পাখি বেগম (৫৫) এবং রামিম (১০)।

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা টৈটং বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা এস আলম পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে বাঁশখালী এলাকায় তারা মারা যান। ‎খবর পেয়ে পেকুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনার পর যানবাহন দুটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে । এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষ হিমাগার স্থাপনের দাবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষ হিমাগার স্থাপনের দাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

২০২৬-২০২৭ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার নিজস্ব মতামত ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে চেম্বার ভবনে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময়সভায় বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

এ ব্যাপারে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ। বাজেটে আম চাষিদের জন্য বরেন্দ্রাঞ্চলে বিশেষ হিমাগার স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আম সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনে বহুদিনের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। 

মতবিনিময়সভায় উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই অর্থ কাজে লাগিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা এলাকায় কৃষিভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণের দাবিও জানানো হয়।

চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজে স্থাপিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। রাজশাহীসহ সব বিভাগে এমন ল্যাবরেটরি স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। আম, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলে ব্যবহৃত ফ্রুট ব্যাগের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করায় স্থানীয় আম, পেয়ারাসহ ফলচাষিরা উপকৃত হবেন বলে জানান তিনি।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর এবং রহনপুর রেলবন্দর নিয়ে চেম্বার সভাপতি বলেন, সোনামসজিদ বন্দর থেকে সরকার বছরে প্রায় ১ হাজার ২ শত কোটি টাকা রাজস্ব পায়। তবে অনেক পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকায় সরকারের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অবিলম্বে সকল পণ্য আমদানির জন্য বন্দরকে উন্মুক্ত করে একে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে। 

রহনপুর রেল বন্দর দিয়ে নিয়মিত ভারতে থেকে ট্রেনে পণ্য আসে জানিয়ে তিনি বলেন, একে পূর্ণাঙ্গ বন্দর করা গেলে ভারতের সঙ্গে সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে কম খরচে চতুর্দেশীয় ব্যবসা করা সম্ভব হবে। দুই বন্দর ও ইপিজেডের মাধ্যমে নতুন লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বাজেটের বেশিরভাগ প্রস্তাবকে সমর্থন করে ওয়াহেদ বলেন, উৎস করকে অগ্রিম কর হিসেবে ঘোষণা ইতিবাচক। তবে অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে বিক্রয়ের উপর বিদ্যমান ন্যূনতম (টার্নওভার) কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হলে ব্যবসায়ীদের কর ভার কমে যেত। বিশেষ করে খাদ্য, মুদিসহ কিছু ব্যবসায়ী মাত্র ২-৩ শতাংশ মুনাফায় ব্যবসা করেন। টার্নওভার করের কারণে তারা বিপদ্‌গ্রস্ত।

সভায় চেম্বার সিনিয়র সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম, পরিচালক আব্দুল আওয়ালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহ

শিশুর মরদেহ গোসল করাতে গিয়ে মিলল ক্ষতের চিহ্ন, আটক ৩

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
শিশুর মরদেহ গোসল করাতে গিয়ে মিলল ক্ষতের চিহ্ন, আটক ৩
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রিয়া মনি (৫) নামের এক শিশুর মরদেহ কংস নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেল ৫টার দিকে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজুমিয়ার মেয়ে রিয়ামনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে কংস নদের বাঁকে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করে উদ্ধার করেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, রাতেই শিশুটির মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নেওয়া হয়। তখন শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখা যায়। ওই অবস্থায় দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে সোমবার সকালে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

শিশুটির বাবা তাজুমিয়া বলেন, ‘রবিবার আসরের নামাজের পর আমার মেয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যার পর মরদেহ পাওয়া যায়। আমার ছোটমেয়ের সঙ্গে কেউ এমন কাজ করতে পারে, তা কখনো ভাবতে পারিনি। আমার নিষ্পাপ মেয়েকে শেষ করে দিল। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ধারণা শিশুটিকে ধর্ষণ করে হত্যার পর নদীতে মরদেহ ফেলা হয়। কে এমন কাজ করেছে, তা উদ্ঘাটনে সিআইডি কাজ করছে। আমরা এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩ জনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

আমরা ৪ জন বেঁচে আছি বাকিরা মারা গেছে, রাশিয়াপ্রবাসী যুবকের দাবি

জামালপুর প্রতিনিধি
আমরা ৪ জন বেঁচে আছি বাকিরা মারা গেছে, রাশিয়াপ্রবাসী যুবকের দাবি
মফিজ মিয়ার স্বজনদের আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

কর্মসংস্থানের আশায় রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে—এমন একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে নিজের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির নাম আরমান আলী। 

আরমান আলীর দাবি, তার সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া চারজন ছাড়া বাকি সবাই যুদ্ধে মারা গেছে। বর্তমানে জীবিত থাকা ওই চারজনকে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এ সময় যুদ্ধে নিহত কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন তিনি। তাদের মধ্যে জামালপুরের আরিফ হোসেন ও মফিজ মিয়া নামের দুজন নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন আরমান।

আরমানের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার গোদা শিমলা এলাকায়। তিনি বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার বাবা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দেড় মাস আগে রাশিয়ায় গেছে। সেখানে তার ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়ায় যাওয়ার কিছুদিন পরই তাকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে থাকা চারজন বাংলাদেশিও আহত হয়েছেন।’ 

আরমানের বাবা আরো বলেন, গত রবিবার ছেলের সঙ্গে এক মিনিট কথা হয়েছিল। সে সময় আরমান জানিয়েছে, তাদের গাড়িতে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সেটি সে বলতে পারেনি।

এদিকে অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরচড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন (২৬) এবং কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে মফিজ মিয়ার (২৪) পরিবারে চলছে মাতম।

মফিজ মিয়ার পরিবার জানায়, চলতি বছরের ৭ মে এক দালালের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা খরচ করে তিনি রাশিয়ায় যান। সেখানে রাজমিস্ত্রীর কাজ করার কথা থাকলেও তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২৯ মে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়। এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। একই দিন রাশিয়ায় যাওয়া আরিফ হোসেনকেও যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ২৯ মে সবশেষ পরিবারের সঙ্গে কথা হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গেও আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।