পড়াশোনা শেষ করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আশা ছিল খৈনকুট গ্রামের বাসিন্দা লুনা বেগমের। সে সময় তাঁর জীবন ছিল নানা স্বপ্নে পরিপূর্ণ। কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার আগেই বিয়ে হয়ে যায় লুনার। শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটে। স্বামী ইকবাল হোসেন প্রবাসী হওয়ায় সংসারজীবনও বেশ ভালোভাবেই চলছিল। তবে হঠাৎ স্বামীর মৃত্যু লুনার জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। আট বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। সংসার চালাতে গিয়ে আর্থিক সংকট এতটাই বেড়ে যায় যে ভাইয়ের সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করতে হচ্ছিল। তবু সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছা কখনো হারিয়ে যায়নি লুনার। নিজে আয়-রোজগারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন লালন করলেও সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণে অংশ নেন তিনি। সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে একটি নতুন সেলাই মেশিন পান। এতেই খুলে যায় সম্ভাবনার নতুন দ্বার। লুনা বলেন, ‘জীবনের কঠিনতম সময়ে বসুন্ধরার দেওয়া সেলাই মেশিন আমাকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে। আমার স্বপ্নের পথ মসৃণ হলো। এখন আমি নিজে কিছু করতে পারব। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের জন্য অনেক দোয়া করি। শিগগিরই ঘরে বসেই সেলাইয়ের কাজ শুরু করতে পারব। আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য নিজের উপার্জনে ছেলেকে শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করা।’ কথার মাঝখানে লক্ষ করা যাচ্ছিল, লুনার চোখে এখন হতাশার বদলে আত্মবিশ্বাসের ঝলক।




