নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ‘পরিত্যক্ত’ ছিল সিলেটের প্রস্তাবিত ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল। তিন বছর পর অবশেষে প্রাণ পাচ্ছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশাল ভবনটিতে। সম্প্রতি ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে। সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিলেটে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত হবে। সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবে। সিলেটের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।’
বহুল প্রত্যাশিত এই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয় নগরের চৌহাট্টা-রিকাবীবাজার সড়কের পাশে ঐতিহ্যবাহী আবু সিনা ছাত্রাবাসের স্থানে। নাগরিক সমাজের প্রবল আপত্তির মুখেও তৎকালীন সরকারের সময়ে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণসহ বিভিন্ন জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি দীর্ঘদিন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন নির্বাচিত সরকার আসার চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে জোর দেয়। হাসপাতালটি চালু করতে সক্রিয় হন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। গত ২০ এপ্রিল তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পরে জানান, প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক হাজার ২০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।