• ই-পেপার

ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ন্যাটো

ইসরায়েলি হামলার শঙ্কা, বাবার শেষ বিদায়ে নাও থাকতে পারেন মোজতবা খামেনি

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি হামলার শঙ্কা, বাবার শেষ বিদায়ে নাও থাকতে পারেন মোজতবা খামেনি
ছবি : রয়টার্স

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তার বাবা ও প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নাও নিতে পারেন।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ ইসলামি বলেছেন, ‘নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযান চালানোর ঝুঁকি থাকায় মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়া নিরাপদ নাও হতে পারে।’

এসলামির দাবি, ইসরায়েল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা নষ্ট করতে চাইতে পারে। তারা ইরানের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে। তাই তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে নতুন সর্বোচ্চ নেতার জনসমক্ষে দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উপযুক্ত হবে না।

এদিকে ইরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি বিদায় জানাতে আনুষ্ঠানিক শোক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছেন। অনেক শোকাহত ব্যক্তির হাতে প্রতিশোধের দাবির প্রতীক হিসেবে পরিচিত লাল ব্যানার দেখা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, আলি খামেনি এবং তার নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিন জনসমক্ষে আনা হলে উপস্থিত হাজারো মানুষ শোক প্রকাশ করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা শোকাহতদের বিশাল ভিড়ে ভরে যাচ্ছে।

অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কালো পোশাক পরা হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় ভিড় জমিয়েছেন এবং ইরানের পতাকা ও অন্যান্য ব্যানার নাড়াচ্ছেন। প্রয়াত আয়াতুল্লাহকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার শোকাহত মানুষ ইতিমধ্যেই কমপ্লেক্সটি পূর্ণ করে ফেলেছেন।

পাকিস্তানে বিদেশি ২ নারী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার উপপ্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়সহ ৪

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে বিদেশি ২ নারী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার উপপ্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়সহ ৪
ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন দেশটির এক শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তির আত্মীয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মুহাম্মদ রাজা দার, হাসান রাজা, সিকান্দার খান এবং সাজিদ আলী। পরে তাদের লাহোরের একটি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার লাহোর পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৬৫এ ধারা (অপহরণ) এবং ৩৭৫এ ধারা (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ) অনুযায়ী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় আরো একজন সন্দেহভাজন এখনো পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত মুহাম্মদ রাজা দার পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আত্মীয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এতে উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীরা হলেন একজন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক এবং একজন ভেনেজুয়েলার নাগরিক। ঘটনার পর এক ভুক্তভোগীর বাবা স্পেন থেকে ফোন করে পাকিস্তান পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার লাহোর পুলিশ অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। এরপরই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পঞ্চম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

তদন্তে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই নারী ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে রাজা দারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা তিনজনই একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই রাজা দার তাদের পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। পরে তিনি তাদের ব্যবসায়িক ভিসার ব্যবস্থা করে পাকিস্তানে নিয়ে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, লাহোরে পৌঁছানোর পর তাদের একটি স্থানে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এবং পরে মুক্তিপণের দাবিও করা হয়। আদালতের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে দুই ভুক্তভোগী নারী প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মুহাম্মদ রাজা দারকে শনাক্ত করেন। পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
 

খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মোসাল্লা কমপ্লেক্সে লাখো মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক
খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মোসাল্লা কমপ্লেক্সে লাখো মানুষের ঢল
ছবি : রয়টার্স

ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা সাধারণ মানুষের বিশাল ভিড়ে কমপ্লেক্সের দিকে যাওয়ার সবকটি রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রার্থনা কক্ষের মূল দরজা খোলার কয়েক ঘণ্টা আগেই শহীদ ইমামের বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও অনুসারী মুসাল্লা কমপ্লেক্সে এসে ভিড় করতে শুরু করেন। ভোরবেলা ফজরের আজানের সময় সাধারণ মানুষের এই উপচে পড়া উপস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের আগেই দরজাগুলো খুলে দিতে বাধ্য হয়। ফলে বাইরে অপেক্ষা করা হাজার হাজার মানুষ সহজেই প্রার্থনা কক্ষের প্রধান প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার সুযোগ পান।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ফুটেজে দেখা গেছে, হাজার হাজার শোকাহত মানুষ কালো পোশাক পরে রাস্তায় ভিড় জমিয়েছেন। তাদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং খামেনির স্মরণে তৈরি বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার।ইতিমধ্যেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের ভেতর ও চারপাশের এলাকা শোকাহত জনতায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। প্রয়াত এই শীর্ষ নেতাকে বিদায় জানাতে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় নাবিকের মরদেহে নেই কোন অঙ্গ, ভেনেজুয়েলাকে তদন্ত করতে বলল ভারত

অনলাইন ডেস্ক
ভারতীয় নাবিকের মরদেহে নেই কোন অঙ্গ, ভেনেজুয়েলাকে তদন্ত করতে বলল ভারত
সংগৃহীত ছবি

ভেনেজুয়েলায় মারা যাওয়া এক ভারতীয় নাবিকের মরদেহ ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মরদেহে কোনো ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিল না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী নাবিক রাকেশ চৌহানের মৃত্যুর পুরো ঘটনা এবং তার মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে- এ বিষয়ে তারা ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছে। দূতাবাস এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, মরদেহের সঙ্গে অঙ্গহানি এবং অবমাননার অভিযোগ তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। শুরু থেকেই তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

রাকেশ চৌহান চলতি বছরের মে মাসে ভেনেজুয়েলায় মারা যান। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌রোগের কথা বলা হয়েছিল। পরে তার মরদেহ ভারতে পাঠানো হয়। ভারতে মরদেহ পৌঁছানোর পরই পরিবারের অভিযোগ সামনে আসে। তারা বলেন, মরদেহে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুসসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ভেতরের অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল। এই অভিযোগের পর ভারতের নাবিকদের সংগঠন ফেডারেশন অব সিফেয়ারার্স ইউনিয়নস অব ইন্ডিয়া (এফএসইউআই) ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে। সংগঠনটির দাবি, ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ কোনো বিস্তারিত ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়াই মরদেহ ভারতে পাঠায়। পরে ভারতে নতুন করে ময়নাতদন্তে ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়। এফএসইউআই-এর অভিযোগ অনুযায়ী, মরদেহে কোনো ভেতরের অঙ্গই ছিল না। মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, দুই ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, পাকস্থলী, অন্ত্রসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল। এমনকি শ্বাসনালি ও স্বরযন্ত্রও ছিল না। সংগঠনটি আরো জানায়, মরদেহে বড় ধরনের সেলাই ছিল। গলা থেকে নিচ পর্যন্ত দীর্ঘ সেলাই এবং মাথার পেছনে এক কান থেকে আরেক কান পর্যন্ত সেলাই পাওয়া যায়। তাদের দাবি, মৃত্যুর আগে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ প্রায় এক মাস হিমাগারে রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিকে তারা 'অমানবিক ও সন্দেহজনক' বলে উল্লেখ করে এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের জবাবদিহি দাবি করে। 

ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওরিয়ায় মরদেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়। শুরুতে চিকিৎসকেরা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের ধারণা ছিল, আগেই ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহে ভেতরের প্রায় সব অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল। এতে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, পাকস্থলী, অন্ত্র, থাইরয়েড, শ্বাসনালি, স্বরযন্ত্রসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, মরদেহ নীলচে হয়ে গিয়েছিল এবং কিছু জায়গার চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। শরীরে বড় কাটাছেঁড়া এবং সেলাইয়ের চিহ্ন ছিল।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের সময় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরীক্ষা করার জন্য বের করা হয়। তবে সেক্ষেত্রেও সেগুলো সংরক্ষণ বা ফেরত দেওয়ার নিয়ম থাকে। এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কেন এবং কীভাবে সব অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল, এবং কেন ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত রিপোর্ট বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য ও উদ্বেগ আরো বেড়েছে।