• ই-পেপার

চীনে আকাশচুম্বী ভবনে বিমান ধাক্কা: পাইলটের ডায়েরিতে ছিল আত্মহত্যার কথা

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের পরিকল্পনা
ছবি : রয়টার্স

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে জাহাজগুলো বিনা খরচে চলাচল করত। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান এই নৌপথে প্রভাব বিস্তার করে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ওমান যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এতে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ ও শিপিং কম্পানির কাছ থেকে সেবা ফি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওমানের দাবি, এটি বাধ্যতামূলক টোল নয়, বরং স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি। তবে ইরানের কিছু কর্মকর্তা বলছেন, এই অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। 

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, তেহরান চায় ওমানের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হোক। কিন্তু সমঝোতা না হলে ইরান নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারে। ওমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মে মাসে ওমান ও ইরানের যৌথ উদ্যোগে ফি আদায়ের সম্ভাবনা প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর তীব্র সমালোচনা করেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি, টোল বা অনুদান আদায়ের ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করবে না। তার মতে, প্রণালিকে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। তবে ইরানের অবস্থান ভিন্ন। 

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। ইরানের কর্মকর্তারা মনে করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তাদের বর্তমান প্রভাব একটি বড় কৌশলগত শক্তি। এদিকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি বলেছেন, প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। তাই স্বেচ্ছাভিত্তিক অর্থ সংগ্রহের একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। 

তিনি মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালির উদাহরণ দেন, যেখানে নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য স্বেচ্ছা অনুদান সংগ্রহ করা হয়। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজও বলেছেন, বাধ্যতামূলক টোল আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে স্বেচ্ছাভিত্তিক একটি তহবিল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ওমানের এই প্রস্তাব উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। 

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া উচিত এবং নতুন কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এখন শুধু নৌপরিবহন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, কূটনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

পোপের অনুমতি ছাড়া বিশপ নিয়োগ, ৬ ধর্মযাজককে বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক
পোপের অনুমতি ছাড়া বিশপ নিয়োগ, ৬ ধর্মযাজককে বহিষ্কার
ছবি : রয়টার্স

পোপ চতুর্দশ লিওর অনুমতি ছাড়া বিশপ অভিষিক্ত করার কারণে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক রক্ষণশীল ক্যাথলিক গোষ্ঠী সোসাইটি অব সেন্ট পিয়াস এক্স (এসএসপিএক্স)-এর ছয়জন ধর্মযাজককে ধর্মচ্যুত করা হয়েছে বলে ভ্যাটিকান জানিয়েছে। 

খ্রিস্টধর্মের একজন উচ্চপদস্থ যাজক বা ধর্মীয় নেতাকে বিশপ। তিনি একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার (ডায়োসিস) গির্জা ও যাজকদের তত্ত্বাবধান করেন।

বৃহস্পতিবার ভ্যাটিকানের ধর্মীয় মতবাদবিষয়ক দপ্তর ‘ডিকাস্টারি ফর দ্য ডকট্রিন অব দ্য ফেইথ’ এক ডিক্রিতে বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিকদের সতর্ক করে জানায়, গোষ্ঠীটি এখন চার্চের অনুমোদন ছাড়া ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ডিক্রিতে বলা হয়, এসএসপিএক্স ক্যাথলিক চার্চের কিছু মৌলিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তারা বৈধভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান পরিচালনা বা স্বীকারোক্তি গ্রহণের মতো ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।

পোপ লিওর অনুরোধ উপেক্ষা করে গোষ্ঠীটি বুধবার চারজন নতুন বিশপকে অভিষিক্ত করে। এর এক দিন পরই ভ্যাটিকান এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ক্যাথলিক চার্চের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন বিশপ নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র পোপের। চার্চের ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়।

ভ্যাটিকান জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওই অননুমোদিত অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেওয়া দুই বিশপ এবং নতুন অভিষিক্ত চার ধর্মযাজকসহ মোট ছয়জনকে ধর্মচ্যুত করা হয়েছে। 

তবে সোসাইটি অব সেন্ট পিয়াস এক্স তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বুধবার গোষ্ঠীটি দাবি করেছিল, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তারা পোপের অনুমোদন ছাড়াই বিশপ অভিষেকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছেন শেহবাজ শরিফ

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছেন শেহবাজ শরিফ
রয়টার্স ছবি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। 

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এফও) মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, আগামী ৩ থেকে ৫ জুলাই ইরান ও তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

তিনি জানান, সফরের প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অংশ নেবেন। এ সময় শেহবাজ শরিফের সঙ্গে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা সফরে থাকবেন।

তিনি আরো জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানের নেতৃত্ব এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাবেন। পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে ভ্রাতৃপ্রতীম ইরানি জনগণের প্রতি পাকিস্তানের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করবেন।

প্রসঙ্গত, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রথম দিনে শহিদ হন। তার জানাজা ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হবে এবং ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে নিজ শহরে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

তীব্র জ্বালানি সংকট, ভারত থেকে পেট্রল আমদানি করছে রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
তীব্র জ্বালানি সংকট, ভারত থেকে পেট্রল আমদানি করছে রাশিয়া
ছবি : রয়টার্স

অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ভারত থেকে পেট্রল আমদানি শুরু করেছে রাশিয়া। যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশটির জন্য একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে গ্রীষ্মকালীন উচ্চ চাহিদার কারণে দেশটিতে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ পেট্রল উৎপাদন দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার টন (মার্চের হিসাব) থেকে কমে জুনে প্রায় ৯০ হাজার টনে নেমে এসেছে। গ্রীষ্মকালে রাশিয়ায় দৈনিক পেট্রলের চাহিদা থাকে কমপক্ষে ১ লাখ ১০ হাজার টন। ফলে বর্তমানে বাজারে প্রায় ২০ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি এমন হয়েছে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রলের জোগান চালু রাখতে রেশনিং ব্যবস্থা শুরু করেছে। লম্বা লাইন জমতে শুরু করেছে রাশিয়ার বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে। 

গত মঙ্গলবারই ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথাবার্তা বলছে। সঠিক দামে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে রয়টার্স জানাচ্ছে, জলপথে ভারত থেকে পেট্রল আমদানি শুরু করেছে রাশিয়া।

পেট্রোলিয়াম শিল্পের সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ভারত থেকে অন্তত ৬০ হাজার টন পেট্রল রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, দুটি ট্যাঙ্কার পাঠানো হয়েছে রাশিয়ায়। তার প্রতিটিতে ৩০-৪০ হাজার টন পেট্রল রয়েছে।

প্রতি মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪ লাখ টন পেট্রল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে রাশিয়ার। তালিকায় রয়েছে রুশ-প্রতিবেশী রাষ্ট্র বেলারুশও। সেখান থেকে ইতিমধ্যে জ্বালানি আমদানি শুরু করেছে মস্কো বলে জানা গেছে। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে গত এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়ার অন্য বিভিন্ন অঞ্চলেও খুচরো বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আঞ্চলিক স্তরে কিছু কড়াকড়িও চালু হয়েছে। কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের কাছে জ্বালানি বিক্রি আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এ অবস্থায় ভারতসহ বিভিন্ন ‘বন্ধু’ দেশের কাছ থেকে পেট্রল আমদানি শুরু করেছে রাশিয়া। তবে ভারতের কোন তেল কম্পানির কাছ থেকে রাশিয়া পেট্রল নিচ্ছে, তা প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট নয়। গত রবিবার রুশ মন্ত্রী এবং কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠকে বসেছিলেন পুতিন। রয়টার্স জানাচ্ছে, রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে যে জ্বালানি সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা ওই বৈঠকে স্বীকার করে নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে বলেও ওই বৈঠকে জানিয়েছেন তিনি।