• ই-পেপার

১৫০ বছরের ল্যান্ডলাইন যুগের অবসান ঘটাল ফিনল্যান্ড

পাকিস্তানে পাল্টা হামলা চালাল আফগানিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে পাল্টা হামলা চালাল আফগানিস্তান
সংগৃহীত ছবি

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান সীমান্তবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা চারটি সাধারণ ধরনের ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের উসকানির ‘যথাযথ জবাব’ দেওয়া হবে।

তবে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

গত রবিবার পাকিস্তান আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালানোর পর এই হামলার ঘটনা ঘটল। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই হামলায় ২৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর গত অক্টোবরে দুই দেশ যুদ্ধবিরতির জন্যও রাজি হয়েছিল।

এদিকে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে যে, দেশটি এমন সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে,  ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে কাবুল অভিযোগ করেছে যে, তারা বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। যদিও পাকিস্তানের দাবি, তারা কেবল জঙ্গিদের লক্ষ্য করেই হামলা চালায়।

আফগানিস্তান জানিয়েছে, রবিবার পাকিস্তানের হামলায় বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬০ জনের বেশি।

এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত কাজ’ এবং ‘নৃশংসতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে আফগানিস্তান।

এ বিষয়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সীমান্ত এলাকায় স্থল অভিযান এবং আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে জঙ্গিদের আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, নিরীহ মানুষের ওপর সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পরিচালিত অভিযানে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

কিন্তু উভয় পক্ষের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি বিবিসি।

দুই দেশের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়। মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়।

এর আগে জুন মাসে পাকিস্তান প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়ে ২৬ জন জঙ্গিকে হত্যা করে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানায়, ওই হামলায় ১৩ জনও নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই শিশু।

মায়ানমারে অভ্যুত্থান পরবর্তী সংঘাতে ১ লাখ মানুষ নিহত

অনলাইন ডেস্ক
মায়ানমারে অভ্যুত্থান পরবর্তী সংঘাতে ১ লাখ মানুষ নিহত
ছবি : রয়টার্স

পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে মায়ানমারে সব পক্ষ মিলিয়ে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন এন্ড ইভেন্ট ডাটা প্রোজেক্ট (এসিএলইডি)।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং নোবেলজয়ী অং সান সু চিকে আটক করে। এর মাধ্যমে দেশটির এক দশকের গণতান্ত্রিক যাত্রার অবসান ঘটে। অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন করলে অনেক আন্দোলনকারী শহর ছেড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।

এসিএলইডিভ সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনায় ১ লাখ ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারিভাবে মৃতের কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই এবং বিভিন্ন সূত্রে সংখ্যার পার্থক্য দেখা যায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মায়ানমারের এই গৃহযুদ্ধ বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি।

রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা ৪৯ বছর বয়সী থেইন আয়ে নু বলেন, ‘এই কষ্ট যেন শেষই হচ্ছে না। আমি খুবই ক্ষুব্ধ, কিন্তু এখন আর জানি না কার ওপর রাগ করব। শেষ পর্যন্ত এটাকেই নিয়তি ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে হচ্ছে।’  তার স্বামী গত মাসে একটি বিমান হামলায় নিহত হন।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার টানা পাঁচ বছর সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের শাসনের অধীনে ছিল। সম্প্রতি অত্যন্ত সীমিত একটি নির্বাচনের পর তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে এপ্রিলে বেসামরিক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে নির্বাচনে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অনেক এলাকায় ভোট হয়নি এবং অং সান সু চির দলও কার্যত অংশ নিতে পারেনি।

গণতন্ত্রপন্থী পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনকে মিন অং হ্লাইংয়ের ক্ষমতা ধরে রাখার একটি প্রহসন বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তার শান্তি আলোচনার প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মধ্য মাগওয়ে অঞ্চলের মিত চে শহরের এক বাসিন্দা বলেন, ‘অভ্যুত্থান না হলে আজ শিশুরা স্কুলে পড়াশোনা করত।’ তার ছেলে বাড়ি ছেড়ে গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল এবং পরে যুদ্ধে নিহত হয়।

শোকাহত ওই বাবা বলেন, ‘আমরা ঠিকমতো বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্যও করতে পারিনি। চারদিকে ভারী গোলাবর্ষণ চলছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘সে আমাদের জন্য অনেক স্মৃতি রেখে গেছে। তার জন্য আরো কিছু করতে না পারার কষ্ট সবসময় থেকে যাবে।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমারে ৩৭ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। দেশজুড়ে দারিদ্র্য বাড়ছে এবং প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে সহিংসতা অনেক সময় গুপ্তহত্যার রূপ নেয়। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলছে এবং সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পর মায়ানমার ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক সংঘাত-প্রবণ এলাকা। সংস্থাটি এই গৃহযুদ্ধে এক হাজার ২০০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি শনাক্ত করেছে।

এসিএলইডির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সান মন থান্ট বলেন, ‘এই সংঘাত অত্যন্ত প্রাণঘাতী, বেসামরিক মানুষের জন্য ভয়াবহ এবং এটি দেশের প্রায় সব এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।’ যুদ্ধের পরিস্থিতি সময়ে সময়ে উভয় পক্ষের পক্ষেই পরিবর্তিত হয়েছে। 

২০২৩ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীদের সমন্বিত আক্রমণে তারা বড় ধরনের সাফল্য পায় এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। তখন এমনও ধারণা করা হচ্ছিল যে, তারা ঐতিহাসিক এই শহরটি দখল করতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সমর্থন পাওয়ার পর এবং বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় দুটি শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ায় সামরিক বাহিনী আবারও কৌশলগত সুবিধা ফিরে পেয়েছে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৈন্যসংকট মোকাবিলায় মায়ানমারের সামরিক সরকার বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আইন কার্যকর করে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার নাগরিককে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। একজন সাবেক বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সেনা পালিয়ে যান এবং তিনি বলেন, ‘নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কোনো প্রস্তুতি নেই। মনে হয় তাদের শুধু মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ বছর বয়সী এক যুবক বলেন, ‘এক জায়গায় না মরলে, তারা তোমাকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেয়।’ মায়ানমারের এই গৃহযুদ্ধের প্রভাব দেশটির সীমান্ত পেরিয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং শরণার্থী শিবিরগুলোতে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতে জড়িত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী হেরোইন ও মেথামফেটামিনসহ মাদক উৎপাদন ও পাচার থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তাদের যুদ্ধের খরচ চালাচ্ছে। এ ছাড়া মায়ানমারের দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত এলাকাগুলো অনলাইন প্রতারণা চক্রের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এসব প্রতারণা কার্যক্রম প্রায়ই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সুরক্ষায় পরিচালিত ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হয় বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
 

সাইবার হামলা নয়, বোয়িংয়ের কম্পিউটার সিস্টেম অচল প্রযুক্তিগত কারণে

অনলাইন ডেস্ক
সাইবার হামলা নয়, বোয়িংয়ের কম্পিউটার সিস্টেম অচল প্রযুক্তিগত কারণে
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) বিভ্রাটের মুখে পড়েছে। এর ফলে কম্পানিটির বেশ কিছু কম্পিউটার সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন অচল হয়ে পড়েছে বলে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এভিয়েশন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘এয়ার কারেন্ট’ জানায়, এই কারিগরি ত্রুটির কারণে বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমান উৎপাদন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে। আইটি সিস্টেম ডাউন হওয়ার এই ঘটনায় কোনো সাইবার হামলা বা হ্যাকিংয়ের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে বোয়িং কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, বিভ্রাটের আসল কারণটি চিহ্নিত করা গেছে। এটি কোনো সাইবার আক্রমণের কারণে ঘটেছে বলে বিশ্বাস করার মতো কোনো কারণ আমাদের কাছে নেই।

বর্তমানে তাদের আইটি টিম সমস্ত সিস্টেম দ্রুত সচল করতে কাজ করে যাচ্ছে। এয়ার কারেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারিগরি ত্রুটির দিনে কম্পানিটি কিছু বিমানের সরবরাহ সম্পন্ন করতে পারলেও, বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে পরবর্তী ধাপে। বাণিজ্যিক জেটগুলোর চূড়ান্ত পরিদর্শন (ফাইনাল ইন্সপেকশন) এবং এর সাথে জড়িত প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্রের কাজ মূলত পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল। বিমানগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা, জ্বালানি সংকটে রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা, জ্বালানি সংকটে রাশিয়া
ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া।

ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং চালু করা হয়েছে এবং গ্যাস স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন স্বীকার করেছেন, জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা রয়েছে, তবে তিনি এটিকে সাময়িক বলে দাবি করেছেন।

তবে অনেক গাড়িচালক বলছেন, বাস্তবে পরিস্থিতি আরো খারাপ। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি সাধারণ রুশ নাগরিকদের জীবনে পড়তে শুরু করেছে।

মার্চের শেষ দিক থেকে রাশিয়া ও রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় তেল শোধনাগার, ডিপো, টার্মিনাল এবং অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেন ৫০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে বলে এপির হিসাব থেকে জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে একই স্থাপনায় একাধিকবার হামলা হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, কৃষ্ণ সাগর উপকূলের তুয়াপসে তেল শোধনাগারটিতে মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ে চারবার হামলা চালানো হয়। এসব হামলার প্রভাবে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এনার্জি ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক গ্যারি পিচের মতে, জুন মাসে রাশিয়া দৈনিক ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল জ্বালানিতে রূপান্তর করেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম এবং দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তিনি বলেন, ‘এই বিভ্রাটগুলো অস্বাভাবিক।’

ইউক্রেনের হামলার প্রভাবে রাশিয়ার গ্যাসোলিন উৎপাদনও কমে গেছে। জুন মাসে দেশটির গ্যাসোলিন উৎপাদন ১৭ শতাংশ কমে দৈনিক ৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১০ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। এই উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্রো-অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ওয়েফার বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগার সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বর্তমানে অচল রয়েছে।

তিনি জানান, শোধনাগারগুলো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ না করায় বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ওয়েফারের মতে, কৃষি ও ফসল কাটার মৌসুম শুরু হওয়ায় জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে, ফলে এই সংকট রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য আরো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে ইউক্রেন বলছে, এসব হামলার লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করা এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে আনা। ইউক্রেন বিশেষভাবে ক্রিমিয়াকে রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।

২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নিলেও অধিকাংশ দেশ এই দখলকে স্বীকৃতি দেয় না। চলতি বছরের শুরুতে ইউক্রেনের হামলায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মে মাসে ক্রিমিয়ায় জ্বালানি রেশনিং চালু করতে বাধ্য হয় মস্কো-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ। কয়েক সপ্তাহ পর সাধারণ মানুষের কাছে জ্বালানি বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সেভাস্তোপোল শহরে সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি আবার শুরু করা হয়।

ইউক্রেন সম্প্রতি রাশিয়ার দুটি বৃহত্তম শহর মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা ক্রেমলিনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনালে হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৮ জুন মস্কোর উপকণ্ঠে একটি তেল শোধনাগারেও হামলা হয়, যেখানে আগুন থেকে তৈরি কালো ধোঁয়া দূর থেকে দেখা যায়।

জুনের শেষ দিকে রাশিয়ার অর্ধেকের বেশি অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিংয়ের খবর পাওয়া যায়। কোথাও গ্যাস স্টেশনগুলোতে জ্বালানি কেনার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও সরাসরি বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রুশ কর্মকর্তারা সংকটের জন্য আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনাকে দায়ী করেছেন এবং জনগণকে শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গ্যাসোলিন ও বিমান জ্বালানির রপ্তানি সীমিত করেছে। ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তার মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা কমানোর লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘাটতি রাশিয়ার সেইসব দূরবর্তী অঞ্চলেও পৌঁছেছে যেখানে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কোনো শোধনাগার আক্রান্ত হয়নি। যেমন সাইবেরিয়া।