• ই-পেপার

অবৈধ অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই বৈঠক নয়, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত শর্ত চায় ইরান

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই বৈঠক নয়, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত শর্ত চায় ইরান
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবে না বলে জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। এ অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই সপ্তাহ আগে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো আগে পুরোপুরি চূড়ান্ত করতে হবে। এরপরই পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতাসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রাথমিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, কিছু অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এই সফরকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ইরান এবং স্বাগতিক দেশ কাতার জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা সরাসরি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না। তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালাবেন। কাতার জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন এবং তিনি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরো কিছু সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরো হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

যুদ্ধের কারণে কিছুদিন ব্যাহত থাকার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত। ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এই জলপথ পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। তারা আরো জানিয়েছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে, অর্থাৎ আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম অধিকার ইরান ও ওমানের। এই জলপথে কীভাবে জাহাজ চলাচল করবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও ইরানের রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের ফি আদায় করতে দেওয়া হবে না। 'দ্য মাইকেল নোলস শো'তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে ইরানকে অর্থ দেওয়ার মত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত তৈরি হবে না। তিনি আরো দাবি করেন, তেল পরিবহন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। যা প্রায় যুদ্ধের আগের অবস্থায় পৌঁছে গেছে। কিছু দিনে পরিবহনের পরিমাণ আগের চেয়েও বেশি ছিল। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো পরিসংখ্যান দেননি।

যুদ্ধের অনিশ্চয়তা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এর আগে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) মঙ্গলবার জানিয়েছে, জ্বালানি বাজারে চাপ কিছুটা কমলেও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোতে এখনো খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জ্বালানি বিক্রেতাদের পেট্রোলের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী এই চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে হিজবুল্লাহর মিত্র এবং লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি, লেবানন-ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া পৃথক একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামোয় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়তে পারে।

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় ৯০০ সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় ৯০০ সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলা এবং এর আশপাশে ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। বর্তমানে দেশটির ভেতরে ৯০০-র বেশি মার্কিন সেনা রয়েছে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওয়ে আরো প্রায় ৮০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান রয়টার্সকে জানান, মার্কিন বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে, বিমানবন্দর দ্রুত চালু করতে সহায়তা করেছে এবং মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য বিমান ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। গত সপ্তাহের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার আকাশে অন্তত চার থেকে পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন করেছে। মিয়ামিতে থাকা একটি সমন্বয়কেন্দ্রের সহযোগিতায় এসব ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্য ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, সাধারণত আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সামরিক প্রযুক্তি এখন ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন সড়ক চলাচলের উপযোগী আছে এবং কোন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডোনোভানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাটিতে অবস্থান করে যেসব তথ্য সব সময় স্পষ্টভাবে দেখা যায় না, সেগুলো ড্রোনের মাধ্যমে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। কারণ, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অভিযান চালিয়েছিল, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার হওয়ার কথা ছিল। তবে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার কারাগারভিত্তিক গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’-এর নেতাকে লক্ষ্য করে একটি হামলা চালায়। এই অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল। এদিকে, গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।

উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মাত্র একজন জীবিতকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি একটি ৩ বছর বয়সী শিশু। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা ডোনোভান বলেন, ভূমিকম্পের পর মার্কিন মেরিন সেনারাই প্রথম মার্কিন কর্মী হিসেবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকেপড়াদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় উদ্ধারকারীদের সহায়তা করেন।

তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারকর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের বিমানযোগে পরিবহনের ব্যবস্থাও করেছে। ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স থেকে আসা একদল উদ্ধারকর্মী সপ্তাহান্তে একজন মা ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধারের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন কর্মকর্তা ডোনোভান জানান, চলমান আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রমের বড় অংশই এখন ত্রাণ ও সরঞ্জাম পরিবহনের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, জীবনরক্ষাকারী সহায়তা যেন সীমান্ত বা প্রবেশপথে আটকে না থাকে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডোনোভান বলেন, ‘অনেক সময় বিপুলপরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পৌঁছালেও সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা থাকে না। তখন পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে।’

এদিকে, ভূমিকম্পের পর দ্রুত ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত অনুসন্ধান-উদ্ধার দল মোতায়েন না করায় ভেনেজুয়েলা সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। দুর্যোগের পর প্রথম কয়েক দিনে অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের হাত, কোদাল ও দড়ি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া স্বজনদের খুঁজতে দেখা যায়।

শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কিছু এলাকায় ভারী নির্মাণযন্ত্র দিয়ে ইট-পাথর ও কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ সরানোর দৃশ্য দেখানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে সহায়তা করেছে।

ভেনেজুয়েলায় সরকারের দুর্যোগ মোকাবেলার ধীরগতির প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনঅসন্তোষের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা ডোনোভান সতর্কভাবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশটি দীর্ঘদিনের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে অবকাঠামোগত নানা সমস্যার মুখোমুখি, যা বর্তমান সংকট মোকাবেলাকে আরো কঠিন করে তুলেছে।

তিনি আরো জানান, ওষুধ ও হাসপাতালের কর্মীর ঘাটতির খবর মানুষের হতাশা বাড়িয়ে দিতে পারে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক মিশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে ডোনোভান কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মূলত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের, যারা সামগ্রিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ত্রাণ সহায়তার জন্য পাঠানো মার্কিন সেনাদের দীর্ঘমেয়াদে ভেনেজুয়েলায় অবস্থানের কোনো পরিকল্পনা নেই।

ডোনোভানের ভাষায়, ‘এখানে থেকে যাওয়ার কোনো আলোচনা নেই। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে আমরা যা করি, সেটিই করছি। কাজ শেষ হলে আমরা চলে যাব।’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভবিষ্যতে আরো ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যদি এই উদ্যোগ দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে, তাহলে আমরা অবশ্যই এগিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকব।’


 

ভারতে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষের পর আগুন, নিহত ৭

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষের পর আগুন, নিহত ৭
সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাজস্থানের দৌসার কাছে দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি যাত্রীবাহী স্লিপার বাসের সাথে বড় ট্রাকের (ট্রেলার) সংঘর্ষের পর আগুন লেগে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরো ২২ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি দ্রুত গতিতে ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের দিকে যাচ্ছিল। পথে এক্সপ্রেসওয়েতে একটি বড় ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে দুইটি যানবাহনেই আগুন ধরে যায়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসের ভেতরের ওপরের বার্থের যাত্রীরা ধাক্কা খেয়ে নিচে ছিটকে পড়েন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন আগুনে পুড়ে এবং ২ জন মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিহতদের বেশিরভাগই দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসচালক হয়তো গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন অথবা বাসের অতিরিক্ত গতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, উদ্ধারকারী ও দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছানোয় বাসে আটকে পড়া মানুষদের সময়মতো বাঁচানো যায়নি এবং প্রাণহানি বেড়েছে। এ ছাড়া বাসের মালামাল রাখার জায়গায় প্রচুর সিগারেটের প্যাকেট ছিল, যার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।

বেইজিংয়ে ভবনে বিমান দুর্ঘটনা, কারণ নিয়ে মুখ খুলছে না চীন

অনলাইন ডেস্ক
বেইজিংয়ে ভবনে বিমান দুর্ঘটনা, কারণ নিয়ে মুখ খুলছে না চীন
ছবি : রয়টার্স

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবন ‘সিআইটিআইসি টাওয়ার’-এ একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার চার দিন পার হলেও দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এই ঘটনায় বিমানের পাইলট নিহত এবং আরো ১৩ জন আহত হয়েছেন। দেশটির সরকারি দল কমিউনিস্ট পার্টির সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটায় এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘বেইজিং ডেইলি’-তে মাত্র ৬০ শব্দের একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি ছাড়া আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দুর্ঘটনার পর ১০৯ তলাবিশিষ্ট ওই ভবনে তৈরি হওয়া গর্তটি কাঠের তক্তা দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট থেকে এই ঘটনার সব ভিডিও ফুটেজ দ্রুত মুছে ফেলা হচ্ছে। এমনকি ভবনটির সাধারণ ছবি বা মিমও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বেইজিংয়ের তিনটি বিমান সংস্থা জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।

বেইজিংয়ের রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থলের ওপর প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সাধারণ বিমান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এত কঠোর নিরাপত্তা ও আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকার পরও কিভাবে একটি বিমান শহরের ভেতরে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতাদের থাকার জায়গার এত কাছাকাছি একটি বিমান চলে আসা বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি এবং এটি সরকারের জন্য বিব্রতকর। এটি পাইলটের ভুল নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকে এই ঘটনাকে ১৯৮৭ সালে মস্কোর রেড স্কোয়ারে এক জার্মান পাইলটের বিনা অনুমতিতে বিমান নামানোর ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে তুলনা করছেন, যে ঘটনার পর রাশিয়ার বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।