• ই-পেপার

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হান সেওং-সুক

সুদের হার বৃদ্ধি, অস্ট্রেলিয়ায় কমছে বাড়ির দাম

অনলাইন ডেস্ক
সুদের হার বৃদ্ধি, অস্ট্রেলিয়ায় কমছে বাড়ির দাম
ছবি : রয়টার্স

ঋণের উচ্চ ব্যয় (সুদের হার বৃদ্ধি) এবং বিনিয়োগের ওপর কঠোর কর আরোপের কারণে বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাত। যার ফলে গত জুন মাসে দেশটির আবাসন বাজারে গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গত পাঁচ বছর ধরে চলা আবাসন খাতের রেকর্ড ম্লান হয়ে গেল।

আবাসন খাতের গবেষণা সংস্থা ‘কোটালিটি’-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে দেশটিতে সামগ্রিকভাবে বাড়ির দাম ০.৪% কমেছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই আবাসন বাজারে সবচেয়ে বড় মাসিক পতন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বড় শহরগুলোর মধ্যে সিডনি ও মেলবোর্নে বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। জুনে সিডনিতে মূল্য কমেছে ১.২% এবং মেলবোর্নে কমেছে ১%। মাঝারি আকারের শহরগুলোর মধ্যেও প্রবৃদ্ধির গতি থমকে গেছে; যেমন অ্যাডিলেডে মূল্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, ব্রিসবেনে ০.৩% এবং পার্থে মাত্র ০.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্যের এই নিম্নমুখী ধারা থেকে স্পষ্ট যে, গত মার্চ মাসেই অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারের মূল্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) সামগ্রিক মূল্য ০.৭% কমেছে। তবে এই পতনের পরও বছরের ব্যবধানে বাড়ির দাম এখনো ৭.৩% বেশি রয়েছে।

কোটালিটির গবেষণা পরিচালক টিম ললেস জানিয়েছেন, সুদের হার বাড়ার আগে থেকেই জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ক্রেতাদের চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সরকারের নতুন সম্পত্তি কর নীতি, যা ক্রেতাদের মনে শঙ্কা তৈরি করেছে এবং বাজারকে আরো দুর্বল করে তুলেছে।

এ প্রসঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অফ অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ) জানিয়েছে, সুদের হার বৃদ্ধির ফলে আবাসন বাজার কিছুটা শিথিল হওয়া এবং গৃহঋণ কমে যাওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে বাজারে বড় ধরনের ধস নামলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আর্থিক তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইকুইফ্যাক্স-এর তথ্য অনুযায়ী, মে মাস পর্যন্ত গত পাঁচ মাসে বন্ধকী বা গৃহঋণের (মর্টগেজ) চাহিদা ৬.৬% কমেছে। বিশেষ করে নতুন বা প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের অনুসন্ধানের হার এক ধাক্কায় ৯.১% হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে রাজধানী শহরগুলোতে নিলামে বাড়ি বিক্রির হার কমে ৪৭.৪%-এ নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালের এপ্রিলের (কোভিড লকডাউনের সময়) পর সর্বনিম্ন। 

আবাসন খাতের এই মন্দা কেবল বাড়ি কেনাবেচাতেই সীমাবদ্ধ নয়; রিয়েল এস্টেট সেবা থেকে শুরু করে নির্মাণ শিল্প পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের সাথে এর গভীর সংযোগ থাকায়, এই ধারাবাহিক পতন অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে কূটনৈতিক পথে বিরোধ মেটানোর আহ্বান রাশিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে কূটনৈতিক পথে বিরোধ মেটানোর আহ্বান রাশিয়ার
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও দীর্ঘদিনের বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দুই দেশকে সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে 'দুঃখজনক ঘটনা' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার জাতিসংঘ জানায়, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং আফগান তালেবান উভয় পক্ষই আরো বেশি মানুষের মৃত্যুর দাবি করেছে। যদিও তারা সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানায়নি। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছে, ইসলামাবাদ ও কাবুলের উচিত দ্রুত সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ করা। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে যেসব বিরোধ রয়েছে, সেগুলো রাজনৈতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান করা দরকার।

এদিকে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভেতরে এমন কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী আশ্রয় পাচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করে। তবে আফগান তালেবান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং এর জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা ঠিক নয়।
 

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যখন ক্লাইবার মোরান নামে পরিচিত শিশুটিকে লা গুয়াইরা রাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয় তখন উদ্ধারকারীরা উল্লাস প্রকাশ করছেন।

cc

শিশুটির উদ্ধারের ঘটনাকে ডেলসি রদ্রিগেজ আশার একটি মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, জরুরি ভিত্তিতে কয়েক দশক হাজার মানুষের খাদ্য ও আশ্রয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহের ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। এতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক দশক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

নাসার স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে সম্ভবত ৫৮,৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পুরোটা ধ্বংস হয়ে গেছে।

জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ক্লাইবারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। 

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, রাজধানী কারাকাসে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত পাওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকে প্রথম তিন দিনের মধ্যেই। অথচ ভূমিকম্প হওয়ার ছয়দিন শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ফলে এই উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে।

লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানে বহু স্থানীয় বাসিন্দা নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা করছেন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় খাদ্যসংকট ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এছাড়াও মৌলিক সেবার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ইউএনএইচসিআর তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় কমিউনিটিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।’

লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সী বিক্রেতা দানিয়েলা আরমাস। তিনি ভূমিকম্পের সময় মোটরবাইক থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন।

দানিয়েলা আরমাস এএফপিকে বলেন, ‘কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে, কিন্তু কখনও কখনও খাবারের জন্য মানুষ প্রায় একে অপরকে মেরে ফেলতে যায়... এটা যেন মোরগ লড়াই।’

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের জন্য সুরক্ষা, জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং অস্থায়ী আশ্রয় সহায়তা বাড়াতে তাদের প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ‘চরম চাপের’ মধ্যে রয়েছে।

ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন,‘টিকাদানের হার নিম্ন  থাকায় এখন হাম ও ডিফথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে।’

হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ‘শিশু ক্লাইবারের উদ্ধার প্রমাণ করে যে এখনও জীবিত মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আশা রয়েছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘লা গুয়াইরা ও অন্যান্য রাজ্যে ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ আরও কয়েক ডজন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জীবিতদের খোঁজে অনুসন্ধান চালিয়েছে।

দেশটিতে কিছু আন্তর্জাতিক সহায়তাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানান, মঙ্গলবার ৪৭ টন মানবিক সহায়তাসামগ্রী এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কিট, নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের পরিচর্যা এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত যেসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলোর দাফন শুরু করেছেন ভেনেজুয়েলার মানুষ। আরও অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছে, যারা মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লা গুয়াইরার বন্দরে স্থাপিত অস্থায়ী মর্গে উইলকার মোলাল্লা এএফপিকে জানান, তিনি তার বোন, তার সন্তানদের এবং তার ভাইয়ের সন্তানদের মরদেহ শনাক্ত করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারে ১১ জন ছিল। আমরা মাত্র দুজন বেঁচে আছি, কারণ আমরা তখন কাজে ছিলাম।’

অবৈধ অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ৪

অনলাইন ডেস্ক
অবৈধ অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ৪
ছবি: রয়টার্স

অবৈধ অভিবাসীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমার শেষ দিনে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের সমর্থকেরা। মঙ্গলবারের এসব মিছিলে অনেকের হাতে কাঠের লাঠি ও অন্যান্য অস্ত্র ছিল। অনেকেই জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েকটি এলাকায় মিছিলকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, লুটপাট ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন দেশের হাজারো নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেছেন। কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও সহিংসতার কারণে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তার কারণে বহু বিদেশি শ্রমিকও কাজে যাননি। এ পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো বিদেশি নাগরিককে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তিতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। বন্দরনগরী ডারবানে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ সংগঠনের নেতা জাসিন্তা নগোবেসে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সম্পদ ব্যবহার করে সব অবৈধ অভিবাসীকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বের করে দিতে হবে। তিনি বলেন, ভবন থেকে ভবন ঘুরে তাদের বের করে দেওয়া উচিত এবং তাদের দেশ ছেড়ে যেতেই হবে।

ডারবানের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩১ বছর বয়সী সিলিনডিলে খাবা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। তার দাবি, অবৈধ বিদেশিরা চাকরি নিয়ে নিচ্ছেন, যা ন্যায্য নয়। আগামী নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে ভোট পাওয়ার জন্য কিছু রাজনীতিক বিদেশিবিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিবাসীরা এই সময়সীমাকে নিজেদের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন। যদিও অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল, তবে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লুটপাটের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় বা মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক শহর জোহানেসবার্গের উত্তরের উপশহর থেম্বিসায় দাঙ্গাকারীরা পুলিশ ও সন্দেহভাজন অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। শহরের কেন্দ্রীয় ব্যবসা এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি স্থানে গুলির শব্দও শোনা যায়। জাতীয় দৈনিক 'ডেইলি ম্যাভেরিক' জানিয়েছে, জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলের বেনোনিতে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কিছু যান মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে পুলিশের একজন মুখপাত্রের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেননি। জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসি জানিয়েছে, সোয়েটো এলাকায় বিক্ষোভকারীরা বিদেশি নাগরিকদের অস্থায়ী বসতিতে লুটপাট চালিয়েছে। এছাড়া ডারবানের কাছে পিটারম্যারিটজবার্গে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ডারবান ও জোহানেসবার্গে অনেক বাড়ির মালিক হামলার আশঙ্কায় বিদেশি ভাড়াটিয়াদের জোর করে বাসা ছাড়তে বাধ্য করেছেন। রয়টার্সের একজন প্রতিবেদক জানান, প্রায় ১০০ কঙ্গোর নাগরিক ডারবানের রাস্তায় রাত কাটাচ্ছিলেন। তাদের নেতা অভিযোগ করেন, তাদের জোরপূর্বক বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় মাঝেমধ্যে অভিবাসীদের ওপর এমন হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলায় বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য করা হয় না। তবে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ সংগঠন বলছে, সাধারণ মানুষের হঠাৎ করে চালানো সহিংস হামলার দায় তাদের নয়। দুই সপ্তাহ আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির নেতা জাসিন্তা নগোবেসে বলেন, প্রতিটি এলাকায় গিয়ে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এই বিক্ষোভে মূলত দরিদ্র ও বেকার কয়েক হাজার দক্ষিণ আফ্রিকান অংশ নেন। তারা নিজেদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য বিদেশিদের দায়ী করছেন। একজন সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। তাদের মতে, এ কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলার সময় মানবাধিকার রক্ষাকারী দেশ হিসেবে যে সুনাম তৈরি হয়েছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আফ্রিকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা চাকরি নিয়ে নিচ্ছেন, অপরাধ বাড়াচ্ছেন এবং সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছেন। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বর্ণবাদ নীতির অবসানের তিন দশক পরও দক্ষিণ আফ্রিকায় বৈষম্য রয়ে গেছে। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বেকার। তবুও আফ্রিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হওয়ায় কাজের আশায় প্রতিবছর বহু মানুষ সেখানে অভিবাসন করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটসএসএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ অভিবাসী রয়েছেন। যা মোট জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার খুব বেশি নয়। 

পুলিশিং বিভাগের উপ-জাতীয় কমিশনার তেবেলো মোসিকিলি জানিয়েছেন, মার্চ মাস থেকে বিদেশিবিরোধী স্বঘোষিত রক্ষীবাহিনী সদস্যদের বিরুদ্ধে ১০৩টি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। এদিকে, কিছু রাজনীতিবিদ সহিংসতার নিন্দা জানালেও বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগের বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের উদ্বেগ বাস্তব এবং তাদের কথা শোনা উচিত। তবে তিনি বলেন, বিক্ষোভ করার অধিকার কাউকে অন্যকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, ভাঙচুর করা বা সহিংসতা চালানোর অনুমতি দেয় না।

দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের মতে, অভিবাসন ইস্যুতে পশ্চিমা অনেক দেশও একই ধরনের উত্তেজনার মুখে রয়েছে। বিভাজনমূলক রাজনীতি এবং ভুল তথ্যের প্রচার এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।