• ই-পেপার

অতিচালাকের গলায় দড়ি

ভারতে পেট্রোকেমিক্যালস প্ল্যান্টের পাইপলাইনে আগুন, আহত ৩০

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে পেট্রোকেমিক্যালস প্ল্যান্টের পাইপলাইনে আগুন, আহত ৩০
ছবি : দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৪ জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া এলাকায় পেট্রোকেমিক্যালস পরিচালিত একটি কারখানার ন্যাপথা পাইপলাইনে আগুন লাগে। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই কারখানায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২টি ফায়ার ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়। দমকলকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে কারখানার কর্মচারী এবং অন্তত দুজন নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত পাইপলাইন থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং দমকলকর্মীরা পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

ন্যাপথা একটি অত্যন্ত দাহ্য পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ, যা জ্বালানি ও বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস জানিয়েছে, ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়া-ইউক্রেনের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়া-ইউক্রেনের বৈঠক
ছবি : রয়টার্স

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইউক্রেনের হাতে আটক হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সেনার ভবিষ্যৎ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউক্রেন মঙ্গলবার আলোচনা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সিউলে বৈঠক করেন। গত বছরের জানুয়ারিতে রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে যুদ্ধের সময় ওই দুই সেনাকে ইউক্রেনীয় বাহিনী আটক করে।

উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া তাদের ফেরত চাইলেও মানবাধিকার সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দেশে ফিরলে তারা কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। এ কারণে ওই দুই সেনা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা কার্যত উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার সমান।

দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, ওই সেনারা কোরীয় উপদ্বীপের নাগরিক হওয়ায় তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় নেওয়া যেতে পারে। কারণ, দক্ষিণ কোরিয়া পুরো কোরীয় উপদ্বীপকে একটি দেশ হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৫০-৫৩ সালের যুদ্ধের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি চুক্তি না হওয়ায় এখনো প্রযুক্তিগতভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, তিনি ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। জানা গেছে, উত্তর কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের সেনাদের নির্দেশ দিয়েছিল, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে আটক হওয়ার চেয়ে আত্মহত্যা করতে। 

ইউক্রেনের হাতে আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনার একজন চলতি বছরের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাকে যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় নেওয়া না হয়, তাহলে আমি মারা যাব।’ উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দেশটির নেতা কিম জং উন ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত উত্তর কোরীয় সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। 

তিনি বলেন, তারা মৃত্যুকে উপেক্ষা করে লড়াই করেছেন এবং আত্মত্যাগের উদাহরণ স্থাপন করেছেন। গত মার্চে চো হিউন জানান, ইউক্রেন সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে আটক দুই সেনাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও হাজারো সেনা পাঠানোর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে অর্থ, সামরিক প্রযুক্তি, খাদ্য ও জ্বালানি সহায়তা পেয়েছে। ২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের যেকোনো একটিতে হামলা হলে অন্য দেশ দ্রুত সামরিক সহায়তা দেবে।

এদিকে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালের অভিযানে কুরস্ক ওব্লাস্ট অঞ্চলে রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে ৭ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। সিবিহা আরো জানান, তিনি ও চো রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করেছেন।

ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, হরমুজে মাইন অপসারণে ইরানের আধিপত্য

অনলাইন ডেস্ক
ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, হরমুজে মাইন অপসারণে ইরানের আধিপত্য
ফাইল ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সাম্প্রতিক পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজ শুধুমাত্র ইরানই করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ঘোষণা দেন, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় ফ্রান্স হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের উদ্যোগ নেবে। যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা যায়। তার এই কথার পর গারিবাবাদি এ মন্তব্য করেন।

এর জবাবে ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মাইন অপসারণের কাজ কেবল ইরানই করবে, অন্য কোনো দেশ নয়।’

কাজেম গারিবাবাদি আরো বলেন, বর্তমান ‘সংবেদনশীল ও জটিল’ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ইরান মেনে নেবে না।

ফ্রান্সকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবেন না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়।

গত ১৭ জুলাই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সই করে। এতে সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য অন্তত ৬০ দিন টোলমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণাঙ্গ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

তবে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং এই কৌশলগত জলপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখবে।

ইরানে আইআরজিসির দুই সদস্য গুলিতে নিহত

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে আইআরজিসির দুই সদস্য গুলিতে নিহত
ছবি: রয়টার্স

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী শহর পাভেহতে নিজ বাড়িতে বন্দুকধারীদের গুলিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। কে এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

তবে ইরানের সরকার অতীতের এমন হামলার জন্য প্রায়ই সীমান্ত এলাকার কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগও করে তেহরান।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি ‘সন্ত্রাসী ও কাপুরুষোচিত হামলা’। এতে আরো দুইজন আইআরজিসি সদস্য আহত হয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার বিস্তারিত ঘটনা এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এদিকে, সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সারাভান শহরে একটি পরিবারের গাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এতে পরিবারের বাবা ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং মা গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।

এই হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, হামলাটি ‘জায়নবাদী-আমেরিকান ভাড়াটে গোষ্ঠী’ চালিয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা সাধারণত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বোঝাতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনী, সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মাদক পাচারকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছে। এটি ইরানের অন্যতম দরিদ্র প্রদেশ। এখানে অনেক বেলুচ জনগোষ্ঠীর বসবাস, যাদের বেশির ভাগ সুন্নি মুসলিম। তবে ইরানের অধিকাংশ মানুষ শিয়া মুসলিম।