• ই-পেপার

১২ বছরেও খোঁজ মেলেনি, ‘এমএইচ৩৭০’ অনুসন্ধানের মেয়াদ বাড়াল মালয়েশিয়া

আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতিতে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে আজারবাইজানের নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক
আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতিতে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে আজারবাইজানের নিন্দা
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আর্মেনীয়দের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছে আজারবাইজান। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য 'গভীর উদ্বেগের' বিষয়। একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

রবিবার (২৮ জুন) ইসরায়েল সরকার ঘোষণা দেয়, ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনামলে আর্মেনীয়দের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক তুরস্কের প্রতি ইসরায়েলের একটি রাজনৈতিক বার্তা বা জবাব হিসেবে দেখছেন। কারণ, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তুরস্ক নিয়মিত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলছে। যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে আসছে।

আজারবাইজান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। তবে আজারবাইজানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ তুরস্ক। তাই ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আজারবাইজানের অস্বস্তি প্রকাশ্যেই সামনে এসেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষের মধ্যে পুনর্মিলন বা পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করবে না। বরং অতীতের বিভাজন আরো গভীর করে এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আজারবাইজান ইসরায়েল সরকারকে তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই আর্মেনিয়া আন্তর্জাতিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। দেশটির দাবি, ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনামলে প্রায় ১৫ লাখ আর্মেনীয় নিহত হন। তাদের মতে, এটি ছিল পরিকল্পিত গণহত্যা। তবে তুরস্ক এই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘাত, দুর্ভিক্ষ ও সহিংসতায় আর্মেনীয় ও তুর্কি- উভয় পক্ষেরই কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। তাই ঘটনাটিকে গণহত্যা বলা সঠিক নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিশ্বের দুই ডজনের বেশি দেশ এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এতদিন ইসরায়েলের সরকারগুলো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত ছিল। কারণ, তারা তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছিল। এক সময় তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল।

এদিকে, কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে কয়েক দশক ধরে সংঘাত চলছে। আজারবাইজানের এই অঞ্চলটি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
 

যুক্তরাষ্ট্রে জালিয়াতির দায়ে চীনা ব্যবসায়ীর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে জালিয়াতির দায়ে চীনা ব্যবসায়ীর ৩০ বছরের কারাদণ্ড
ছবি : রয়টার্স

একসময় চীনের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা ব্যবসায়ী গুও ওয়েনগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত। সোমবার (২৯ জুন) নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত আর্থিক জালিয়াতির দায়ে তাকে এই সাজা দেন। বিচারকের মতে, চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) কট্টর সমালোচক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে গুও বিশ্বজুড়ে ১ হাজারেরও বেশি মানুষের শত শত মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গুও ওয়েনগুই তার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া কম্পানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে প্ররোচিত করেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের পাশে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, ব্যক্তিগত ইয়ট, রেস কার ও ডিজাইনার পোশাক কিনে এক জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন করছিলেন।

ম্যানহাটানের ফেডারেল বিচারক অ্যানালিসা টরেস বলেন, গুও মূলত চীনে গণতন্ত্রকামী মানুষদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তাদের শোষণ করেছেন। সাজা ঘোষণার সময় তিনি ভুক্তভোগীদের বেশ কয়েকটি চিঠি পড়ে শোনান, যেখানে মানুষ তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং তীব্র মানসিক ট্রমার কথা উল্লেখ করেছেন। আদালত গুওকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৮৮৯ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

চীন থেকে পালিয়ে আসার পর গুও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমহলে ভালো প্রভাব তৈরি করেছিলেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার গলফ ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং ট্রাম্পের সাবেক রাজনৈতিক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। 

সাত সপ্তাহের বিচার প্রক্রিয়া শেষে ১২টি ফৌজদারি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে দোষী সাব্যস্ত হন গুও। তবে সাজা ঘোষণার আগে তিনি নিজের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তিনি সিসিপিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে গুও-র আইনজীবীরা আদালতে বলেন যে তিনি মূলত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের শিকার এবং চীনে তাকে শারীরিক নির্যাতনও করা হয়েছিল।

সোমবার আদালতে হাজির করার সময় গুও অসুস্থতার ভান করছেন বলে প্রসিকিউটররা দাবি করলেও গুও তা অস্বীকার করেন। তিনি দোভাষীর মাধ্যমে জানান যে, কারাগারে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে এবং আসার পথে তিনি বারবার বমি করেছেন। তবে রায় শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বাইরে অপেক্ষারত তার সমর্থকেরা তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।

দূষণ রোধে ‘বৈদ্যুতিক গাড়ি’ কিনলে নগদ প্রণোদনা দিবে দিল্লি

অনলাইন ডেস্ক
দূষণ রোধে ‘বৈদ্যুতিক গাড়ি’ কিনলে নগদ প্রণোদনা দিবে দিল্লি
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের অন্যতম দূষিত মেগাসিটি নয়াদিল্লির বাতাসকে বিষমুক্ত করতে এবার নতুন পদক্ষেপ নিল স্থানীয় কেজরিওয়াল সরকার। সোমবার (২৯ জুন) চূড়ান্ত হওয়া চার বছর মেয়াদী এক নতুন বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) নীতিমালায় বলা হয়েছে, পুরোনো পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ি বাতিল (স্ক্র্যাপ) করে যারা নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনবেন, তাদের ১০০০ ডলারের (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা) বেশি নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে এই নতুন নিয়ম।

বিশেষ করে শীতকালে দিল্লির আবহাওয়া নরককুণ্ডে পরিণত হয়। ধীরগতির বাতাস, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধূলিকণা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে ফসল কাটার পর খড় পোড়ানোর ধোঁয়া মিলে তৈরি করে ঘন ও মারাত্মক ‘স্মোগ’। এই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে দিল্লিবাসীকে বাঁচাতে আগামী চার বছরে ১৫০ বিলিয়ন রুপি (১.৫৯ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ের একটি বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছে দিল্লি সরকার।

নতুন নীতিমালার তথ্য অনুযায়ী, যেসব গাড়ি মালিক ১ এপ্রিল, ২০২০-এর আগে কেনা পুরোনো গাড়ি বদলে নতুন ইভি নেবেন, তারা ‘স্ক্র্যাপিং ইনসেনটিভ’ হিসেবে ১,০৬০ ডলার পাবেন। পাশাপাশি, প্রথম বছরে নতুন ইলেকট্রিক স্কুটার বা মোটরবাইক কিনলে মিলবে ৩০,০০০ টাকার নগদ ছাড়, যা পর্যায়ক্রমে কমে তৃতীয় বছরে ১০,০০০ টাকায় নামবে। ক্রেতাদের জন্য আরো বড় আকর্ষণ হচ্ছে ট্যাক্স মওকুফ। ৩০ লক্ষ রুপি পর্যন্ত মূল্যের যেকোনো ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনলে কোনো রোড ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে না। সাধারণত দিল্লিতে গাড়ি কিনতে গেলে মূল দামের ৪ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত এই ফি বাবদ গুণতে হয়। তবে এই নীতিমালায় কোনো হাইব্রিড গাড়িকে (যা তেল ও ব্যাটারি উভয়ে চলে) সুবিধা দেওয়া হয়নি।

দিল্লির সড়ক থেকে জীবাশ্ম জ্বালানির গাড়ি পুরোপুরি হটাতে একটি ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। বলা হয়েছে, ১ এপ্রিল, ২০২৮ থেকে দিল্লিতে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক দুই-চাকার যান (বাইক ও স্কুটার) নিবন্ধন করা যাবে। অর্থাৎ, এরপর থেকে কেউ চাইলেও পেট্রোল চালিত বাইক কিনতে পারবেন না। ইভি চালকদের চার্জিংয়ের সুব্যবস্থা করতে পুরো দিল্লি জুড়ে ৩২,০০০ নতুন ইভি চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করা হবে।

দিল্লি সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের শেয়ার বাজারে বড়সড় ঝাঁকুনি লেগেছে। এই নীতির সুবিধা নিয়ে ভারতের ইভি খাতের শীর্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যেমন টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, টিভিএস মোটর, বাজাজ অটো ও এথার এনার্জির মতো কোম্পানিগুলোর বিক্রি ও মুনাফা বিপুল পরিমাণে বাড়বে বলে আশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, দাবি নাকচ করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, দাবি নাকচ করল ইরান
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে হওয়ার চুক্তি নিয়ে আজ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই বৈঠকের অনুরোধ করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্যে ইরান বলছে, এ সপ্তাহে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো কৌশলগত আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা নেই। 

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় সেই বৈঠক হবে।' তবে বৈঠকে কোন কোন কর্মকর্তা অংশ নেবেন বা কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দোহায় যাবেন। এদিকে, আলোচনার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কূটনীতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, চলতি মাসের শুরুতে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে দোহায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেই কূটনীতিক বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত কারিগরি দলগুলোর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দোহায় বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতি যাতে আবার উত্তেজনাপূর্ণ না হয়ে ওঠে, সে জন্য দুপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। 

তবে এই তথ্যের সঙ্গে একমত নয় ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, এ সপ্তাহে কোনো কারিগরি আলোচনা হবে, এমন খবর সঠিক নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলার পরও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বন্ধ হচ্ছে না। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই আপাতত হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।

এই বৈঠকের ঘোষণা এমন সময় এসেছে, যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের পর প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয় নিয়ে ওমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরান। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেও পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। রবিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক পদক্ষেপের জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ এখনো রয়ে গেছে। এই বিষয়টিই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। হরমুজ প্রণালির এক পাশে রয়েছে ইরান, অন্য পাশে ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার ইরান জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে তাদের প্রথম বৈঠক হয়েছে। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মাসকাট সফরের সময় যৌথ হরমুজ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে পড়লেও সাধারণভাবে কোনো দেশ একতরফাভাবে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে বা টোল আরোপ করতে পারে না। তবে রবিবার ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের নির্ধারিত নৌপথ এড়িয়ে অন্য কোনো পথ ব্যবহার করার চেষ্টা হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে। তেহরানের দাবি, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূলসংলগ্ন নির্ধারিত করিডোর ব্যবহার করেই চলতে হবে। 

যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পদ্ধতি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, প্যারিস ও মাসকাট যৌথভাবে মাইন অপসারণ অভিযান পরিচালনা করবে। এর প্রতিক্রিয়ায় কাজেম গারিবাবাদি এক্সে লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী মাইন অপসারণের কাজ শুধু ইরানই করবে। অন্য কোনো দেশের এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। তাই ফ্রান্সকে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

সামুদ্রিক নজরদারি প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাদের তথ্য বলছে, শনিবার প্রণালি দিয়ে ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলেও রবিবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১২টিতে। ক্লেপলার আরো জানিয়েছে, ওমানের জলসীমার দক্ষিণ দিকের করিডোর দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। অন্যদিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এএক্সএসমেরিনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৪৪টি জাহাজ নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানানো বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রকাশিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওমান এবং উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করবে ইরান।