• ই-পেপার

স্যুটকেসের ভেতর থাই কিশোরীর মৃতদেহ, অস্ট্রেলীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

সিজেপির আন্দোলনে যোগ দিয়ে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করলেন সোনম ওয়াংচুক

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপির আন্দোলনে যোগ দিয়ে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করলেন সোনম ওয়াংচুক
সংগৃহীত ছবি

জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুক ভারতবাসীদের দিল্লির যন্তর মন্তরে তার সঙ্গে অনশনে অংশ নেওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। শিক্ষা সংস্কার, পরিবেশ রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভিডিও বার্তাটি ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। ভিডিওতে ওয়াংচুক বলেন, যারা সরাসরি দিল্লিতে এসে আন্দোলনে যোগ দিতে পারবেন না, তারা নিজের শহর, জেলা বা গ্রামে একই দাবিতে এক দিনের অনশন করতে পারেন। তিনি বলেন, 'নমস্কার। শিক্ষা ও পরিবেশের সমর্থনে, সিজেপি এবং লাদাখের দাবির পক্ষে আজ আমি লবণ ও পানি খেয়ে অনশনের দ্বিতীয় দিনে আছি। এখানে অনেক মানুষ যোগ দিচ্ছেন। চাইলে আপনারাও এক দিনের জন্য এসে আমাদের সঙ্গে অনশন করতে পারেন।' 

ওয়াংচুক আরো বলেন, কেউ কেউ তিন থেকে পাঁচ দিনের জন্যও অনশন করছেন। তার মতে, এটি একটি ইতিবাচক সমর্থন। যারা যন্তর মন্তরে আসতে পারবেন না, তারা নিজের এলাকায় বসেও একই দাবিতে এক দিনের অনশন করতে পারেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সরকারের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরিবেশ রক্ষা এবং বিশুদ্ধ বাতাস ও পানির দাবিতে এই আন্দোলন করা যেতে পারে। এর আগে রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। একই স্থানে আগে থেকেই সিজেপির নেতৃত্বে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

অনশন শুরুর আগে ওয়াংচুক ও অভিজিৎ দিপকে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রবিবার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে ওয়াংচুক বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। তিনি বলেন, 'ভালো শিক্ষা ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। ভারতও উন্নত দেশ হতে চাইলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখায়, শিক্ষা খাতের স্বার্থ রক্ষায় ঘাটতি রয়েছে। আমাদের আন্দোলন সেই ব্যবস্থাকে ঠিক পথে ফেরানোর জন্য।'

এর আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি দুটি প্রধান দাবির অন্তত একটিতেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করবেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং লাদাখের পরিবেশ, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা। এদিকে অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, অনশন শুরুর কিছুক্ষণ পরই দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, সেখানে এখন পানির সংযোগ নেই এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাও নেই।

তিনি আরো দাবি করেন, কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে আরো মৌলিক সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
 

মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে জাপানে বিতর্ক, আলোচনার কেন্দ্রে নারী মেয়র

অনলাইন ডেস্ক
মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে জাপানে বিতর্ক, আলোচনার কেন্দ্রে নারী মেয়র
ছবি : এনওয়াইটি

অন্যান্য অনেক দেশে এটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, জাপানে একজন মেয়রের মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। জাপানের মেয়র শোকো কাওয়াতা যখন মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার ঘোষণা দেন, তখন বিষয়টি দেশজুড়ে শিরোনাম হয়, জনমত জরিপ শুরু হয় এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। 

মে মাসে তার এই ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে। সোমবার পশ্চিম জাপানের ইয়াওয়াতা শহরের বিধানসভায় কাওয়াতা বলেন, তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি মেয়র প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

এরপর জাপানের সংবাদপত্র মাইনিচি শিম্বুনর এক সম্পাদকীয়তে তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, কর্মীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সম্পাদকীয়তে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘জাপানকে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মাতৃত্ব বা পিতৃত্বকালীন ছুটি নিতে পারে।’

ভিডিও কলে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাওয়াতা বলেন, ‘আমি ভাবিনি বিষয়টি এত বিতর্কিত হবে। এখনো এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, কর্মজীবনে নিজেকে সম্পূর্ণ উৎসর্গ করতে হলে ব্যক্তিগত জীবনকে ত্যাগ করতে হবে।’

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান বর্তমানে জনসংখ্যা হ্রাসের গুরুতর সংকটের মুখোমুখি। দেশটিতে কর্মজীবী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির আইন থাকলেও, সেই আইন নির্বাচিত নগর মেয়রদের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়।

৩৫ বছর বয়সী কাওয়াতা জাপানের প্রথম দায়িত্ব পালনরত মেয়র যিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি নিচ্ছেন। নিজের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, অনলাইনে অনেক মানুষ এখন ধীরে ধীরে বিষয়টি মেনে নিতে শুরু করেছেন।’ এই ঘটনা জাপানে কর্মজীবন, পরিবার এবং নারীর নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘পুরুষদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মদান তাদের শরীরে শারীরিকভাবে কোনো প্রভাব ফেলে না, তাই ব্যক্তিগত জীবনকে পেছনে ফেলে কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব। কিন্তু নারীদের জন্য শারীরিকভাবে তা একেবারেই সম্ভব নয়।’

সর্বশেষ জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্টে, জাপান ১৪৮টি দেশের মধ্যে ১১৮তম স্থান অধিকার করেছে, যা জি৭ দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এর একটি কারণ হলো সেকেলে লিঙ্গভিত্তিক গতানুগতিক ধারণা। এখন পর্যন্ত, জাপানে মাত্র ৩০ শতাংশ কাউন্সিলর নারী এবং তাদের মধ্যে মাত্র ১.২ শতাংশের বয়স ৪০-এর নিচে।

তিনি আরো বলেন, ‘যদিও জাপানে লিঙ্গ সমতার উন্নতি হয়েছে, তবুও নারীরা প্রায়ই নেতৃত্বের পদে পৌঁছাতে সংগ্রাম করেন।’ ৩৩ বছর বয়সে কাওয়াতা শিশুযত্ন ব্যবস্থার উন্নতির এজেন্ডা নিয়ে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে জাপানের সর্বকনিষ্ঠ নারী মেয়র হন। যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য নন, কাওয়াতা অল্প বয়স থেকেই রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন।

কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক শেষ করার পর তিনি কিয়োটো শহরে একজন কেস ওয়ার্কার হিসেবে কাজ শুরু করেন, পরে রাজনৈতিক সহকারী হন এবং ২০২৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হন।

এর পরের তিন বছরে কাওয়াতা তার দক্ষতা ব্যবহার করে জাপানজুড়ে প্রচলিত একটি সমস্যা, জনসংখ্যা হ্রাস মোকাবেলা করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। কাওয়াতার নির্বাচনী এলাকাটি প্রিফেকচারের অন্যতম ছোট এলাকা। সেখানে ২০০২ সালে জনসংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৩২৯ জন। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তা কমে ৬৭ হাজার ৮৭৬ জনে নেমে এসেছে।

কাওয়াতা বলেন, ‘জাপানের জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি সবসময়ই জানতাম। তবে মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাটির প্রকৃত গুরুত্ব ও গভীরতা আরো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।’ তার মতো পদে থাকা কোনো নারীর জন্য এটি প্রথম মাতৃত্বকালীন ছুটি হওয়ায় কাওয়াতাকেই এর পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। তিনি জাতীয় নিয়ম অনুসরণ করে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজে ফেরার আশা করছেন।

প্রথম সন্তানের মা হতে যাওয়ায় ভবিষ্যতে কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন, তা তিনি এখনো জানেন না। তবে তিনি আশা করেন, তার এই সিদ্ধান্ত জাপানের আরো বেশি নারীকে রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করবে।

কাওয়াতা বলেন, ‘যদি আরো বেশি নারী নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে অংশ নেন, তাহলে কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক আরো ভালো সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’


 

গরমেও ইউরোপে এসির ব্যবহার কম কেন?

অনলাইন ডেস্ক
গরমেও ইউরোপে এসির ব্যবহার কম কেন?

ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। রেকর্ড ভাঙা উচ্চ তাপমাত্রার কারণে কোটি কোটি মানুষ চরম গরমের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি পাওয়ার সুযোগও খুব কম। 

ইউরোপের বেশিরভাগ বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এয়ার কন্ডিশনার) নেই বললেই চলে। ফলে অনেক মানুষ বৈদ্যুতিক পাখা, বরফের প্যাকেট এবং ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের মাধ্যমে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে তাপপ্রবাহ মোকাবেলায় ইউরোপের পদ্ধতি ঐতিহ্যগতভাবে বেশি গরম আবহাওয়ার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে, কিন্তু ইউরোপে এই হার মাত্র ২০ শতাংশ। ফলে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র গরমের সময় ইউরোপের মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরো তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে এবং প্রতিবছরই তা আগেভাগে শুরু হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ধনী ইউরোপীয় দেশগুলো কেন এখনো ব্যাপকভাবে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে অনীহা দেখাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং প্রতিবছর গরমজনিত কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবুও ইউরোপের অনেক দেশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। ফলে প্রাণঘাতী তাপদাহের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার তেমন প্রয়োজন ছিল না। অতীতেও তাপপ্রবাহ দেখা দিত, তবে তা খুব কমই।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার জ্বালানি দক্ষতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপান্তর বিভাগের প্রধান ব্রায়ান মাদারওয়ে বলেন, ‘ইউরোপে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের কোনো শক্তিশালী ঐতিহ্য নেই, কারণ খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, তখন পর্যন্ত এটি মানুষের জন্য বড় কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেলেও ইউরোপের অবকাঠামো, আবাসন ব্যবস্থা এবং মানুষের অভ্যাস এখনো পুরোপুরি সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি।

ফলে ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরে এয়ার কন্ডিশনারকে প্রয়োজনিয়তার চেয়ে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবেই দেখা হয়েছে। বিশেষ করে এটি স্থাপন ও চালানোর খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অনেকেই তা ব্যবহার করতে আগ্রহী হননি। এ ছাড়া ইউরোপের অনেক দেশে বিদ্যুতের দাম যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি, অথচ গড় আয় তুলনামূলকভাবে কম। তাই অনেক ইউরোপীয় পরিবারের জন্য এয়ার কন্ডিশনার চালানোর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বহন করা এখনো কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহ বাড়লেও এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রধান বাধাগুলোর একটি হলো এর উচ্চ ব্যয়, যা বহু মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এয়ার কন্ডিশনারের কম ব্যবহারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইউরোপের স্থাপত্যশৈলী।

দক্ষিণ ইউরোপের তুলনামূলক উষ্ণ দেশগুলোর অনেক ভবনই গরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বাড়িতে সাধারণত মোটা দেয়াল, ছোট জানালা এবং এমন নকশা থাকে যা ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচল বাড়ায় ও সূর্যের তাপ প্রবেশ কমায়। ফলে ঘর তুলনামূলকভাবে শীতল থাকে এবং কৃত্রিম শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন কম অনুভূত হয়।

তবে ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের অনেক বাড়িঘর গরমের কথা বিবেচনা করে নির্মিত হয়নি। বরং সেগুলো মূলত ঠাণ্ডা আবহাওয়া মোকাবেলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার কর্মকর্তা ব্রায়ান মাদারওয়ে বলেন, ‘গ্রীষ্মকালে কীভাবে ঠাণ্ডা থাকা যায়, সে বিষয়ে ভাবার অভ্যাস আমাদের ছিল না। এটি আসলে তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক একটি বিষয়।’ তার মতে, ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরে শীত মোকাবেলাই ছিল প্রধান অগ্রাধিকার। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এখন অনেক দেশকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

কখনো কখনো এয়ার কন্ডিশনার স্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রশাসনিক জটিলতা ও কঠোর নিয়মকানুন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক এয়ার কন্ডিশনার কম্পানির রিচার্ড সালমন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এয়ার কন্ডিশনার বসাতে চায় না। তার মতে, বিশেষ করে ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকা বা সংরক্ষিত ভবনের ক্ষেত্রে বাইরের কনডেনসার ইউনিট ভবনের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী চেহারা নষ্ট করতে পারে, এই যুক্তিতে অনুমতি দেওয়া হয় না।

ফলে তাপপ্রবাহ বাড়লেও অনেক মানুষ নিজেদের বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার লাগাতে পারেন না। কারণ পরিকল্পনা অনুমোদন ও সংরক্ষণবিষয়ক নিয়মকানুন প্রায়ই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এয়ার কন্ডিশনারের কম ব্যবহারের পেছনে নীতিগত কারণও রয়েছে। ইউরোপ ২০৫০ সালের মধ্যে ‘জলবায়ু-নিরপেক্ষ’ (ক্লাইমেট নিউট্রাল) হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ব্যাপক হারে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার বাড়লে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কারণ এয়ার কন্ডিশনার শুধু প্রচুর বিদ্যুৎ খরচই করে না, এটি ঘরের ভেতরের তাপ বাইরে ছেড়ে দেয়। প্যারিসে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। ইউরোপের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে এর প্রভাব আরো বেশি অনুভূত হয়।

এ কারণে কিছু দেশ এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ২০২২ সালে স্পেন একটি নিয়ম চালু করে, যেখানে সরকারি ও জনসাধারণের ব্যবহারের স্থানগুলোতে এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যাবে না। এর উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানি সাশ্রয় করা।

তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপ এখন বিশ্বের অন্যতম দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাদেশটি বিশ্বের গড় উষ্ণায়নের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে গরম হচ্ছে। ফলে এয়ার কন্ডিশনার নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীতিনির্ধারকদের অবস্থানেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

এক সময় যাকে বিলাসিতা হিসেবে দেখা হতো, ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহের কারণে অনেক ইউরোপীয় এখন সেটিকে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করছেন।

ইউরোপ এখন একটি কঠিন দ্বিধার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে রয়েছে ব্যাপক হারে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার, যা মানুষকে তীব্র গরম থেকে রক্ষা করতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ ও জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ায়। অন্যদিকে রয়েছে ক্রমশ উষ্ণ হয়ে ওঠা ভবিষ্যতের সঙ্গে খাপ খাওয়ার জন্য বিকল্প ও টেকসই সমাধান খোঁজার চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাজ্যের ইউকে গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের পরিচালক ইয়েটুন্ডে আব্দুল বলেন, ‘আমাদের বাড়িঘর শুধু শীত মোকাবেলার জন্য নয়, ক্রমশ আরো তীব্র হয়ে ওঠা গরমের বিরুদ্ধেও সহনশীল হতে হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ইউরোপে ভবন নির্মাণের নকশা, উন্নত নিরোধক ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল, ছায়া তৈরির অবকাঠামো, সবুজায়ন এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ প্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে, আর সেই বাস্তবতায় শুধু এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভর করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান নয়।

তবে ইউরোপে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার যে দ্রুত বাড়ছে, তার স্পষ্ট লক্ষণ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ইউরোপেও তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষকে শীতলীকরণ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে।

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্যবহৃত এয়ার কন্ডিশনারের সংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক এয়ার কন্ডিশনিং কম্পানির পরিচালক রিচার্ড স্যামন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এয়ার কন্ডিশনারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

তার ভাষায়, ‘গত পাঁচ বছরে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে আসা অনুসন্ধানের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান তাপপ্রবাহে চাহিদা রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। রাত ৩টায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন বা ঘুমানোই কঠিন হয়ে পড়ে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার আরো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রয়োজনিয়তাও বাড়ছে।
 

অস্ট্রেলিয়া-ভানুয়াতুর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়া-ভানুয়াতুর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া ও ভানুয়াতু উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অন্যান্য দেশের বিনিয়োগে প্রভাব পড়তে পারে, এমন উদ্বেগের কারণে চুক্তিটি কয়েক মাস বিলম্বিত হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী, ভানুয়াতুর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে কোনো তৃতীয় পক্ষ বিনিয়োগ করতে চাইলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া দেশটির প্রধান নিরাপত্তা ও পুলিশি সহযোগী হিসেবে থাকবে। এই চুক্তির জন্য আগামী ১০ বছরে ৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, ভানুয়াতু তাদের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেবে না এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেবে না। চুক্তিটি গত সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরের কথা থাকলেও রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণে তা পিছিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে ভানুয়াতুর সবচেয়ে বড় বিদেশি ঋণদাতা। চীনের অর্থায়নে দেশটিতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সংসদ ভবন এবং সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। এদিকে, ভানুয়াতু চীনের সঙ্গে একটি নতুন অর্থনৈতিক চুক্তিরও চেষ্টা করছে। 

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোথাম নাপাত জানান, চুক্তিটি বর্তমানে বেইজিংয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে গোপন কিছু থাকবে না এবং প্রয়োজনে তা প্রকাশ করা হবে।